লীড নিউজ

ক্যাম্পাসে জানাজা শেষে ভোলার পথে জবি ছাত্রদল নেতা হাসিবুরের মরদেহ

নিউজ ডেস্ক৪ অক্টোবর ২০২৫২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমানের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাত পৌনে ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনারের সামনে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ জবির সক্রিয় বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

জানাজার আগে কেন্দ্রীয় নেতারা এবং ক্যাম্পাসের কর্মীরা হাসিবুরের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ক্যাম্পাস আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, হাসিব অনেক ভালো ছেলে ছিলেন। প্রথম বর্ষ থেকেই ওর সঙ্গে পরিচয়। আন্দোলন-সংগ্রামে সব সময় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জুলাইয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও মিরপুরে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

শোক জানিয়ে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, হাসিব আমাদের ছাত্রদল পরিবারের একজন গর্বিত সদস্য। জুলাই অভ্যুত্থান ও মিরপুরের আন্দোলনে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, হাসিবের সবচেয়ে বড় পরিচয়, তিনি জুলাইযোদ্ধা। আমরা তার অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের আদর্শ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু একজন মুসলমানের মৃত্যুতে সমবেদনা জানানো সবার দায়িত্ব। হাসিবের মৃত্যুতে সর্বস্তরের মানুষের প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে, তিনি একজন ভালো ও মিশুক মানুষ ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. তাজাম্মুল হক জানান, জানাজা শেষে মরদেহ ভোলার চরফ্যাশনের গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি মাইক্রোবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে হাসিবুরের সহপাঠীরাও যেতে পারবেন। খরচ বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের ক্যাম্পাস প্রত্যেক ছাত্রসংগঠনের বলয়ে একটি ফুলের বাগানে পরিণত হয়েছে। তার মধ্যে একটি ফুল ঝরে গেল। এ শোক সইবার নয়।

এর আগে রাত ১০টার দিকে রাজধানীর ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে খাবারের জন্য শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্যসচিব শামসুল আরেফীনের সঙ্গে ক্যাম্পাসসংলগ্ন হোটেল স্টার কাবাবে অবস্থান করছিলেন হাসিবুর। এ সময় হঠাৎ খিঁচুনি ওঠে ও বুকে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের প্রাথমিক ধারণা, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।