সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
আরাফাত মহসীন নিধির ওয়েব ছবি ‘খুব কাছেরই কেউ’তে অভিনয় করেছেন সুনেরাহ বিনতে কামাল। এসেছে নাটক ‘আরেক জন্মে’। এরই মধ্যে দেশের বাইরে যাবেন শুটিং করতে। বর্তমান ব্যস্ততা ও ক্যারিয়ার নিয়ে অভিনেত্রী কথা বলেছেন কালের কণ্ঠের সঙ্গে।
শুনেছেন সুদীপ কুমার দীপ।
‘খুব কাছেরই কেউ’-এর জন্য কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

অ-নে-ক। গল্পটা খুবই সুন্দর। একে অন্যের সঙ্গে বোঝাপড়া, একটা সুন্দর রিলেশনশিপ এবং বিয়ে—এই নিয়ে গল্পটা।
আমাদের দেশে নারী গল্পকার খুবই কম। বেশির ভাগ গল্প লেখেন ছেলেরা। আমার মনে হয় ছেলেরা মেয়েদের প্রপার ইমোশনটা বুঝে উঠতে পারেন না। গল্পকার নারী হলে নারীদের চরিত্র দারুণভাবে তুলে ধরতে পারেন।
রাবা খান ‘খুব কাছেরই কেউ’-এর লেখক। দারুণ লিখেছে সে। আমার মনে হয়, এই ওয়েব ছবির মাধ্যমে মেধাবী একজন গল্পকার পেল বাংলাদেশ। আশা করব, রাবা নিয়মিত লিখবে।
পরিচালক নিধিকে কেমন মনে হয়েছে?
রাবা ও নিধিকে অনেক আগে থেকেই চিনি।
তারা আমার খুব কাছেরই কেউ। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সেরা মিউজিশিয়ানদের অন্যতম নিধি। পাশাপাশি নির্মাণেও সে অসাধারণ। ‘খুব কাছেরই কেউ’ মুক্তির পর থেকে তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ অনেকেই। পুরো ছবি দেখার পর আমিও অভিভূত।
আমি চাই, নিধি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করুক।
এই ছবির শুটিংয়ের কোনো স্মৃতি শেয়ার করতে চান?
পুরো শুটিংটা উপভোগ করেছি। রাবা, নিধি আর এফ এস নাঈম ভাই— কার কথা রেখে কার কথা বলব! তবে একটা স্মৃতির কথা না বললেই নয়। আমার আর নাঈম ভাইয়ের একটা রোমান্টিক দৃশ্যের শুটিং চলছিল। সেই সময় আমার ফোনে একের পর এক কল আসছিল। বিরতির সময় ফোনটা তুলে দেখি বাসার ফোন, আমার আব্বু স্ট্রোক করেছেন! সঙ্গে সঙ্গে ইউনিটের সবাই আমাকে বললেন বাবার কাছে যেতে। কিন্তু তখনো শুটিং বাকি ছিল বেশ। আমি বললাম, না। শুটিং শেষ করে তবেই যাব। এই সময় রাবা, নিধি, নাঈম ভাই—সবাই আমাকে মেন্টালি সাপোর্ট দিয়েছিলেন। আসলে একটা ইউনিট তখনই চেনা যায়, যখন ব্যক্তিগত খারাপ সময় আসে। সেদিন আমার কাছে ‘খুব কাছেরই কেউ’ ইউনিটকে নিজের পরিবার মনে হয়েছে। মাঝখানে নাঈম ভাই এই ঘটনা মনে করিয়ে দিলেন। বললেন, আমার মতো শক্ত মনের মানুষ নাকি কমই পাওয়া যায়।
মাঝে তো একবার একটা নাটকের শুটিংয়ে পায়ে বড়সড় আঘাত পেয়েছিলেন। তখনো শুনেছি পায়ে ব্যান্ডেজ নিয়েই আবার শুটিং করেছেন…
কাজটাকে সব সময় প্রাধান্য দিই আমি। একটা শুটিং ইউনিটে শুধু আমি নই, আরো অভিনেতা-অভিনেত্রী থাকেন। আমার জন্য শুটিং পিছিয়ে গেলে ওই অভিনেতা-অভিনেত্রীদের শিডিউল পেতে ঝামেলা হতে পারে। তা ছাড়া শুটিং খরচও বেড়ে যায়। সেটা নির্মাতার জন্য চাপ হতে পারে। এসব কথা ভেবে নিজের কষ্টের কথা ভুলে কাজ করে যাই।
গত সপ্তাহে ইশতিয়াক আহমেদের নাটক ‘আরেক জন্মে’ প্রকাশিত হয়েছে। কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
আমি তো বেছে বেছে কাজ করি। সে কাজই করি যেটা দর্শকের ভালো লাগবে বলে মনে করি। এই নাটক প্রকাশের পরও দারুণ দারুণ বার্তা পাচ্ছি। আরশ খানের সঙ্গে দর্শক আমাকে পছন্দ করেন বেশ। ইউটিউবে মন্তব্যের ঘরে গেলে সেটা দেখতে পাবেন। আমি নাটকটির রেসপন্সে অনেক খুশি।
পদ্মবিলে তোলা বেশ কিছু ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন। নিশ্চয়ই ঘুরতে গিয়েছিলেন?
ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল ঠিকই। মাঝখানে মায়ের কিছু পুরনো অ্যালবাম দেখছিলাম। তখন মনে হয়েছিল মায়ের মতো নাইনটিজের স্টাইলে শাড়ি পরে কিছু ছবি তুললে মন্দ হয় না। এর মধ্যে একটি দৈনিকের জন্য ফটোশুটের প্রস্তাব পাই। শর্ত দিলাম, যদি তাদের ফটোশুটের পর আমার আলাদা কিছু ফটোশুট করে দেয় তাহলে আমি রাজি। এ ছবিগুলো সেই শুটেরই। দারুণ কিছু সময় পার করেছিলাম সেদিন।
নতুন আর কী করছেন?
কিছুদিনের মধ্যে দেশের বাইরে যাব, এবার ছয়টা নাটকের শুটিং করব। কোন দেশে যাব সেটা এখনই বলতে চাই না। দেশে ফেরার পরই করব একটি ওয়েব সিরিজ। এর মধ্যে কয়েকটি ছবির ব্যাপারেও আলাপ-আলোচনা চলছে।









