ছবিঘর

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সালমানকে ফেরানো সম্ভব?

নিউজ ডেস্ক৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ার। সেই চার বছরে মুক্তি পায় ১৯টি ছবি। মৃত্যুর পর মুক্তি পায় আরো আটটি। মোট মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ২৭টি।

সালমান যখন মারা যান, তখনো নির্মীয়মাণ অনেক ছবি। কোনোটির শুটিং প্রায় শেষ, কোনোটির ৯০ শতাংশ শুটিং করেছেন, ৬০-৫০-৪০ শতাংশ এমনকি দুই দিন শুটিং করেছেন এমন ছবিও ছিল। তার চলে যাওয়ায় সেসব ছবির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। কিন্তু সালমানের প্রতি দর্শকের আগ্রহ এমন যে তার সামান্যতম উপস্থিতিও ছবির সাফল্যের জন্য যথেষ্ট।

এটাকে কাজে লাগিয়ে ডামি ব্যবহার করে ছবি নির্মাণ করে মুক্তি দেন নির্মাতারা। জীবদ্দশায় মাত্র ১০ শতাংশ শুটিং করেছেন, এমন ছবিও মুক্তি পায়, সেগুলো সফলও হয়।
‘জীবন সংসার’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘শেষ ঠিকানা’, ‘মন মানে না’, ‘বুকের ভিতর আগুন’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘কে অপরাধী’, ‘প্রেম পিয়াসী’, ‘শুধু তুমি’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘একটি সংসারের গল্প’, ‘তুমি শুধু তুমি’, ‘প্রেমের বাজি’, ‘ঋণ শোধ’—সব কটিই সালমানের অসমাপ্ত ছবি। ‘জীবন সংসার’, ‘মায়ের অধিকার’-এর দুটি গান ও কিছু দৃশ্যের ডাবিং করতে পারেননি সালমান, দর্শক সেটা খুব একটা টের পায়নি।

গল্পে কাটছাঁট করে নায়কের উপস্থিতি কমিয়ে নায়িকা দিয়েই সম্পন্ন করা হয়েছে কিছু ছবি। যেমন—শিবলী সাদিকের ‘আনন্দ অশ্রু’, মোটে ৩০ শতাংশ শুটিং করেছিলেন অভিনেতা। পরে গল্পের বাঁক বদলে শাবনূর ও কাঞ্চিকে ঘিরে ছবিটা কোনোমতে সম্পন্ন করা হয়। গান আর সালমানের সংলাপহীন অভিনয়ের গুণে সেই ছবি হয়ে ওঠে ‘কাল্ট’।
তখন সালমান অভিনীত বিভিন্ন ছবির গানের দৃশ্যও বেচাকেনাও হতো! কোনো ছবির জন্য তিনি শুটিং করে গেছেন, অন্য আরেক অসম্পূর্ণ ছবির নির্মাতারা সেই দৃশ্য কিনে ব্যবহার করতেন নিজেদের ছবিতে।

পর্দায় দেখার পর সচেতন দর্শকদের অনেকে তা টেরও পেত। কিন্তু সালমানের জনপ্রিয়তায় সেসব অসংগতি ভেসে যেত হাওয়ায়, ছবি ঠিকই তুলে নিতো লগ্নি। কিছু ছবি একেবারেই পাজল মেলাতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে সেগুলোতে অভিনয় করেন অমিত হাসান, রিয়াজ, ওমর সানী, আমিন খানের মতো অভিনেতারা।

কিন্তু সময়টা যদি বর্তমানের হতো, এখনকার এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সালমানের অসমাপ্ত ছবিগুলো সম্পূর্ণ করা যেত, কেমন হতো? প্রযুক্তি অবশ্য সে সময়ও ছিল, তবে ঢালিউডের নাগাল তত দূর পৌঁছেনি। উন্নত গ্রাফিকস কিংবা সিজিআইয়ের ব্যবহারে অনেক অসম্ভবই সম্ভব করেছে হলিউড-বলিউড। ঢাকার ছবির লোকজন অবশ্য সহজ পথটাই বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু সময় তো বদলেছে। এখন দেশেও হরদম এআই দিয়ে কনটেন্ট নির্মিত হচ্ছে। কেউ বানাচ্ছে মিউজিক ভিডিও, কেউ করছে বিজ্ঞাপনচিত্র। এমনকি খোদ সালমান শাহকে নিয়েও একটি কনটেন্ট বানিয়েছেন নির্মাতা স্বপন আহমেদ। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কি ‘স্বপ্নের নায়ক’-এর কোনো অসম্পূর্ণ ছবিকে নতুন রূপে সামনে আনা সম্ভব? কি বলছেন সালমানের সঙ্গে কাজ করা নির্মাতারা? চলুন শুনি তাদের ভাষ্য।

দুর্ভাগ্য আমার, এমন প্রযুক্তি তখন পাইনি || শাহ আলম কিরণ
ছবিগুলোর মালিকানা তো আমার নয়, প্রযোজকের। তাঁরা ছবিগুলো বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে চলে গেছেন। এখন এসব কার কাছে আছে, তা সেভাবে জানি না। সে সময় যদি এআই থাকত, তাহলে তো সালমানকে দিয়েই ছবি সম্পন্ন করতে পারতাম। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য, এমন কোনো প্রযুক্তি তখন পাইনি। এখনো যদি করতে পারতাম, ভালো লাগত। কিন্তু ছবির নেগেটিভ কার কাছে আছে, জানি না। এগুলো তো সেলুলয়েডের ছবি, চালাতে চালাতে নেগেটিভে স্ক্র্যাচ পড়ে যায়। এআই দিয়ে কিছু বানাতে গেলেও সেসব ছবির ভালো কোয়ালিটির দৃশ্য, রেফারেন্স দরকার। হলিউড-বলিউডে আগে থেকেই নেগেটিভ সংরক্ষণের গুরুত্ব ছিল। তারা মাদার নেগেটিভ সংরক্ষণে রেখে অন্য নেগেটিভ দিয়ে ছবি চালাত। আর এখন সেই মাদার নেগেটিভ থেকে নতুন করে সংস্কার করতে পারছে। আমাদের এখানে এই প্রচলন ছিল না। তাই অনেক ছবিই হারিয়ে গেছে। এখনো যদি সুযোগ হয়, সালমানকে নিয়ে এআই দিয়ে ছবি বানাতে চাই। তাঁকে নিয়ে যেসব ছবি করেছি, সেগুলো এখনো গ্রহণযোগ্য। যদি সুযোগ আসে, এআই এক্সপার্টদের সহযোগিতা নিয়েই করব।

বড়জোর ভাবতে পারি সক্ষমতা নেই || মতিন রহমান
দেখুন, সালমান হয়তো মানুষের স্মৃতিতে আছে, কিন্তু সময়টা চলে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে দর্শকের রুচি-পছন্দ, আগ্রহ—সবকিছুরই পরিবর্তন হয়েছে। সালমান যখন ছিল, সে সময় তার অভিনয়, ফ্যাশন, স্টাইল দর্শক খুব পছন্দ করত। এখনকার সময় ও পরিস্থিতি তো ভিন্ন। হ্যাঁ, এখনো মানুষ তাকে নিয়ে চর্চা করে। তার কিছু ফ্যান ক্লাব আছে। তাদের কাছে প্রশ্নটা রাখা যেতে পারে, এখন সালমানকে নিয়ে ছবি হলে তারা দেখবে কি না। তবে এটা ঠিক, এআই দিয়ে যদি অসম্পূর্ণ ছবিগুলো সম্পন্ন করার সুযোগ হয়, তাহলে ওই ছবিগুলোর প্রযোজকরা ফিরে আসবেন। পরিচালকরাও নতুন করে কাজের কথা ভাববেন। প্রযুক্তির কল্যাণে সুযোগটা আছে বটে। আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন, তাহলে বলব, আমি বড়জোর ভাবতে পারি, কিন্তু একটা ছবি বানানোর মতো শারীরিক সক্ষমতা এখন নেই। আমার বয়স হয়েছে, পেশাও পরিবর্তন করেছি অনেক দিন হলো। তবে অন্য অনেকে নিশ্চয়ই করতে চাইবেন।