সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
বাজারে নিয়ে আসলাম, এই কলা নিবেন’- এ কথা লিখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে একটি পোস্ট দিয়েছেন কুদ্দুস বয়াতি।
ছবিতে দেখা যায়, তার পরনে জিন্সের প্যান্ট, গায়ে গেঞ্জি ও মাথায় গামছা বাঁধা। একটি বড় সিলভারের থালায় করে বেশ কিছু দেশীয় কলা নিয়ে স্থানীয় বাজারের গলিতে ঘুরছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) সংগীত শিল্পী কুদ্দুস বয়াতির ওই পোস্টে নেটিজেনদের অনেকই মন্তব্য করেছেন।
কামরুল হাসান নামে একজন লিখছেন, ‘নিয়াম, কত কইর্যা আলি?’
আরেকজন লিখেছেন, ‘ভাই আপনি শিল্পপতি হয়ে কলা বিক্রি করছেন? গ্রামের মানুষকে বিলিয়ে দেন, পিউর দেশি কলা।’
একজন লিখছেন, ‘আপনি একজন সরল ও মাটির মানুষ, আপনার মাধ্যমে অনেক পুরনো দিনের অনেক কিছু ভেসে আসে এবং গানের অন্যতম শিল্পী। যাই হোক আপনার জন্য দোয়া এবং শুভকামনা রইল।’
আরেকজন লিখেছেন, ‘কলাগুলোর নাম কি?’ মোহাম্মদ সোহরাব নামে একজন লিখেছেন, ‘আরেকবার কলা বেচতে চাইলে বাজারে যাইয়েন না, আমার বাড়িত চলে আসবেন।
’
জানা যায়, কুদ্দুস বয়াতির বাড়ি কেন্দুয়া উপজেলার কান্দিউড়া ইউনিয়নের রাজিবপুর গ্রামে। তিনি ঢাকায় বসবাস করলেও সপ্তাহে ২/৩ দিন নিজ গ্রামে থাকেন। নিজের বাড়ির আশপাশের জায়গায় করছেন চাষাবাদ। মৌসুমি সবজি ছাড়াও তিনি মাছ চাষ করছেন।
নিজের গৃহপালিত গরু লালন-পালন করেন। করছেন হাঁস-মুরগির চাষও। বাড়িতে এলে নিজ হাতে গরু পাশের বিলে নিয়ে গিয়ে পানিতে নামিয়ে গোসলও করান। বিলে ও জলাশয়ে দেশীয় মাছ ধরারও নেশা রয়েছে তার। গৃহস্থালী কাজকর্ম তার নিত্যদিনের।
কলা বিক্রি করা সর্ম্পকে জানতে চাইলে আজ বুধবার দুপুরে কুদ্দুস বয়াতি এ প্রতিনিধিকে জানান, স্থানীয় নওপাড়া বাজারে ছোট বেলা থেকেই নিয়মিত যাওয়া-আসা করেন তিনি। নিজের উৎপাদিত সবজি বিক্রি করা তার পেশা ও নেশা। বর্তমান সময়ে উৎপাদিত বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করা মানে নিজে একজন ব্যাপক পরিচিত মানুষ হলেও নিজের কর্ম নিজে করাই যে কতটুকু ভালো, তা বোঝানোর জন্যই এটা করা। এমনকি শুধু চাকরির পিছনে না গিয়ে নিজের যা সম্পদ আছে তাতে চাষাবাদ করেও সাবলম্বী হওয়া যায় এটাই তিনি বোঝাতে চান।
তিনি আরো বলেন, ‘আমার বাড়ির আশপাশে অনেক তরিতরহারি করছি। আছে কলার বাগানও। নিজে খাই, প্রতিবেশী ছাড়াও মাইনসেরে দেই-এরপরও থাহে। পরে বাজারে নিয়া বেচি। যা পাওয়া যায় সংসারের অন্য কামে লাগে। এতে শরম-লজ্জার কিছু নাই। যে কলা নিয়া আমি বাজারে গেছিলাম এইডির নাম গেরা সুন্দরী, খুবই সুস্বাদু।









