অর্থ ও বাণিজ্য

নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

নিউজ ডেস্ক৪ এপ্রিল ২০১৭৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের শুরুতে বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২। নতুন এ আইন নিয়ে ব্যবসায়ীদের শঙ্কা এখনো কাটেনি।

ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প খাতের ব্যবসায়ীরা প্রযুক্তিগত ও আর্থিকভাবে ওই নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে এখনো সক্ষমতা অর্জন করতে পারেননি বলে মনে করেন।

সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রধান কার্যালয়ে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নেওয়া নির্মাণ, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প খাতের ২৪টি ব্যবসায়ী সংগঠনের  বাজেট প্রস্তাবনায় এমন তথ্য উঠে আসে।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে পণ্যের দাম বাড়বে। পাশাপাশি সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার করায় দেশীয় শিল্প হুমকিতে পড়বে। ব্যবসায়ীরা প্রযুক্তিগত ও আর্থিকভাবে ওই নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে এখনো সক্ষমতা অর্জন করতে পারেননি। তাই ওই আইন বাস্তবায়নে আরো সময় দরকার।

প্লাস্টিক পণ্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির প্রতিনিধি শামীম আহমেদ বলেন, নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করলে ১ হাজার ৩৭০টি পণ্যের সম্পূরক শুল্ক উঠে যাবে। এ নিয়ে প্লাস্টিক খাতের ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন। সম্পূরক শুল্ক উঠে গেলে প্লাস্টিক খাতের ব্যবসায়ীরা টিকে থাকতে পারবেন না।

ওই সমিতির পক্ষে আরো বলা হয়, তড়িঘড়ি করে ভ্যাট অনলাইন পদ্ধতিতে রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়া শুরুতে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। এ আইন বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীদের আরো সময় দেওয়া প্রয়োজন। তা ছাড়া এখন পর্যন্ত ভ্যাট বিধিমালা প্রকাশিত হয়নি।

এসএমই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলী জামান বলেন, অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের বিশ্বাসে ঘাটতির জায়গা তৈরি হচ্ছে। রেজিস্ট্রেশনে শুরুতেই করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) দিতে হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে আয়কর অফিস যদি টিআইএনের সূত্র ধরে টার্নওভারের ১০ শতাংশ গ্রোস প্রফিট হিসাব করে তাহলে ব্যবসায়ীদের আত্মহত্যা করা ছাড়া উপায় থাকবে না।

তিনি আরো বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের টার্নওভার ট্যাক্স ৩ শতাংশ ধরা হয়েছে। তার মানে পণ্যের ২০ শতাংশ মূল্য সংযোজন। অনেক বড় প্রতিষ্ঠান যারা রেয়াত নিতে পারে তারাও ২০ শতাংশ মূল্য সংযোজন করতে পারে কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

রি-রোলিং মিল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতিত আবু বকর সিদ্দিক বলেন, নতুন ভ্যাট আইনে ট্যারিফ পদ্ধতি থাকছে না। এ নিয়ে স্টিল শিল্পের ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন। তাই শিল্পের স্বার্থে ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন হিসেব করে তার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা উচিত। এর ব্যত্যয় ঘটলে লৌহ শিল্পে ধস নামবে।

সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকারের ওপর শুল্ক কর পরিশোধের আহ্বান জানিয়ে সিমেন্ট ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান শহীদুল্লাহ বলেন, স্টিল শিল্পের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট সমর্থনযোগ্য নয়। এতে টনপ্রতি রডের দাম ৯ হাজার টাকা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে।

হালকা প্রকৌশল শিল্প সমিতির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক বলেন, নতুন আইন নিয়ে ব্যবসায়ীদের কিছু ক্ষেত্রে আপত্তি আছে। ব্যবসায়ীরা সরকারের সঠিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন।

পিভিসি পাইপ প্রস্তুতকারক সমিতির প্রতিনিধি ইকবাল জামান জুয়েল বলেন, কিছু খাত আছে যেগুলোর ট্রানজেকশন বেশি কিন্তু মুনাফা কম। তাই বিক্রয়ের ওপর ভ্যাট আদায় যৌক্তিক হবে না। এসব খাতে সংকুচিত ভিত্তিমূল্য হারে ভ্যাট আদায় না করলে বিকৃতির মধ্যে পড়বে।

আয়রন অ্যান্ড স্টিল আমদানিকারক সমিতির সভাপতি আমির হোসেন নুরানী বলেন, ১ টন মালামাল বিক্রি করলে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা মুনাফা থাকে। কিন্তু ৪ শতাংশ হারে ট্রেড ভ্যাট ধরলে ১৫ হাজার টাকা ভ্যাট দিতে হয়। যা ব্যবসায়ীদের ওপর জুলুম হয়ে যাচ্ছে। আবার ৫০০ টাকা ভ্যাট ফাঁকির জন্য ১৫ দিন গাড়ি আটকে রাখার নজির আছে।

পাদুকা প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি শাহনেওয়াজ হোসেন বেলাল বলেন, রাবারের পাদুকা ও হাওয়াই চপ্পলের ওপর ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা প্রত্যাহার করায় পণ্যের দাম বাড়ছে। এ সুযোগে চীনের জুতার বাজার সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। এতে দেশীয় শিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, নতুন ভ্যাট আইন এমন এক ব্যবস্থা, যেখানে করদাতারা বিশ্বমানের উন্নত সেবা পাবেন। এই ব্যবস্থায় ক্ষতি নয়, বরং এসএমই শিল্পের প্রসার ঘটবে। ব্যবসায়ীদের বেচাকেনার হিসাব সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করতে চাই।

আলোচনায় আরো উপস্থিত ছিলেন আয়কর নীতির সদস্য পারভেজ ইকবাল, শুল্ক নীতির সদস্য লুৎফর রহমান ও সদস্য ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন (ভ্যাট নীতি) প্রমুখ।

সূত্র :রাইজিংবিডি