লীড নিউজ

অবরোধ-সংঘর্ষে উত্তাল শাহবাগ

নিউজ ডেস্ক২৮ আগস্ট ২০২৫৮ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

তিন দফা দাবিতে প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাত্রাকে কেন্দ্র করে গতকাল বুধবার দিনভর উত্তপ্ত ছিল রাজধানীর শাহবাগ এলাকা। শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড, জলকামান, কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা চলে। এমনকি দুই পক্ষের ধস্তাধস্তিও হয়। সংঘর্ষে অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছে।

এক পর্যায়ে পাঁচ দফা দাবি তুলে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রকৌশল অধিকার আন্দোলনের নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করে আজ বৃহস্পতিবার দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করেন। কর্মসূচি ঘোষণার পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর শাহবাগে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এর আগে প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা দুই উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন।
রাতে শাহবাগে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন। হামলার ঘটনায় আজ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।
ডিপ্লোমা কোটা বাতিলসহ তিন দাবিতে গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো প্রকৌশল অধিকার আন্দোলনের ব্যানারে আন্দোলন করেন বুয়েটসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা। রুয়েট, কুয়েট ও চুয়েটের শিক্ষার্থীরাও গতকাল বিক্ষোভ করেছেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র শিক্ষক পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদ গতকাল সাত দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি দিয়েছে। দুপুরে তারা কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনের রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল করলে তাদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।

শাহবাগে চলমান আন্দোলনের ভিত্তিতে প্রকৌশল পেশায় বিএসসি ডিগ্রিধারী ও ডিপ্ল্লোমাধারীদের পেশাগত দাবির যৌক্তিকতা পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক সুপারিশ প্রণয়নের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে।

সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ : রাত সাড়ে ১০টার দিকে দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনের সংগঠক জুবায়ের আহমেদ। উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা। প্রকৌশল অধিকার আন্দোলনের সভাপতি ওয়ালী উল্লাহ বলেন, ‘আমাদের তিন দফা দাবির কোনোটিই পূরণ হয়নি। ফলে আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে। জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিচ্ছি না। বৃহস্পতিবার (আজ) বিকেল ৫টায় আইডিইবি ভবনে সভা ঘোষণা করা হয়েছে। সাংবাদিকদের নিয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে।’

তিনি বলেন, ‘উপদেষ্টাদের কাছে সরকার ঘোষিত কমিটির অপ্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো উল্লেখ করেছি। প্রকৌশলসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছি। পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। এই হামলায় ৫০ জনের বেশি প্রকৌশল শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন, যাঁদের অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি।’

আন্দোলনের নেতা সাকিবুল হাসান লিপু বলেন, ‘উপদেষ্টাদের কাছে আমরা তিন দফা দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরেছি। কোটা বৈষম্যের বিষয় উপস্থাপন করেছি। এই সমস্যা সমাধানে তাঁরা বিভিন্ন জটিলতার কথা উল্লেখ করেছেন।’

দুই উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক : সংবাদ সম্মেলনের আগে রেল ভবনে দুই উপদেষ্টা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রকৌশল শিক্ষাথীরা। সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় এই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।

দাবি বেড়ে পাঁচ দফা : বিকেল সাড়ে ৫টায় ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি না মানা পর্যন্ত শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেন প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা। বুয়েটের ব্যাচ-২০-এর শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ এ ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘প্রকৌশল অধিকার আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে আমাদের পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করছি।’

দাবিগুলো হলো—১. স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে আন্দোলনকারীদের সামনে উপস্থিত হয়ে এ ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে এবং জবাবদিহি করতে হবে। ২. প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এরই মধ্যে গঠিত কমিটিকে আমরা আমাদের প্রতিনিধিত্বের অনুপযুক্ত মনে করি। ওই কমিটি আমরা প্রত্যাখ্যান করলাম। অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক প্রতিনিধিসহ প্রকৌশল অধিকার আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে কমিটির সংস্কার করে উত্থাপিত তিন দফা দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে মেনে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। এই মর্মে সংশ্লিষ্ট তিন উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, আদিলুর রহমান ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে আজকে এসে এর নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। ৩. হামলায় আহত সব শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকারকে বহন করতে হবে এবং আন্দোলন চলাকালে সব শিক্ষার্থীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ দিয়ে এ আন্দোলনে আর কোনো প্রকার হামলা করা যাবে না। ৪. সাবেক বুয়েট শিক্ষার্থী রোকনের ওপর হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং চাকরি থেকে বহিষ্কার করতে হবে এবং ৫. যেসব পুলিশ এই ন্যক্কারজনক হামলার সঙ্গে যারা জড়িত, তাঁদের বহিষ্কার করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনের পর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে এসে জড়ো হন। এ সময় তাঁরা পুলিশের ব্যারিকেড দিয়েই শাহবাগের চারদিকের রাস্তা বন্ধ করে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে সন্ধ্যা ৬টায় শিক্ষার্থীরা প্রকৌশল খাতের অপমৃত্যু হয়েছে উল্লেখ করে গায়েবানা জানাজা কর্মসূচি পালন করেন। জানাজা শেষে স্লোগানের মধ্য দিয়ে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান শিক্ষার্থীরা।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার বিচারের পাশাপাশি তাঁদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন বুয়েট উপাচার্য ড. আবু বোরহান মোহাম্মদ বদরুজ্জামান। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহবান জানান। তবে শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

অবরোধ-সংঘর্ষে উত্তাল শাহবাগ

দফায় দফায় সংঘর্ষ : পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সকাল থেকে শাহবাগ অবরোধ করে আন্দোলন করতে থাকেন প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১টার দিকে ‘মার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচি পালন করবেন বলে তাঁরা হুঁশিয়ারি দেন। ১টা ৩০ মিনিটে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ চত্বর থেকে সচিবালয় অভিমুখে না গিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন। এ সময় আন্দোলনকারীরা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে পৌঁছলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। শিক্ষার্থীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে চেষ্টা করলে তাঁদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, ‘যমুনার সামনে সভা-সমাবেশ, মিছিল—এগুলো নিষিদ্ধ। শিক্ষার্থীরা যখন সেখানে ব্যারিকেড ভেঙে প্রবেশ করেন তখন আর আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকে না। শিক্ষার্থীরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। এতে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।’

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র-শিক্ষক পেশাজীবীদের ৭ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি : ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য সংরক্ষিত উপসহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদ সংরক্ষণসহ সাত দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র-শিক্ষক-পেশাজীবীরা। গতকাল দুপুর ১২টায় এই স্মারকলিপি দেন তাঁরা।

এর আগে একই দাবিতে সকাল ১১টায় কাকরাইলের আইডিইবি ভবনের সামনে গণজমায়েত করে বিক্ষোভ করে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র শিক্ষক পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদ। পরে মিছিল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন থেকে ফেরার সময় তাদের ধাওয়া দেয় পুলিশ। এর আগে গণজমায়েত থেকে পলিটেকনিক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পেশাজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. আখেরুজ্জামান ও সদস্যসচিব প্রকৌশলী মো. ইমাম উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল যমুনায় উপস্থিত হয়ে স্মারকলিপি হস্তান্তর করে। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন তাঁর একান্ত সচিব।

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের বাকি ছয়টি দাবি হলো—১৯৭৮ সালের সরকারি প্রজ্ঞাপনের আলোকে উপসহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদ থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি ৫০ শতাংশে উন্নীত করা, প্রকৌশল কর্মক্ষেত্র ফিল্ড ও ডেস্ক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিভাজনপূর্বক ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ও ডেস্ক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের নিযুক্তকরণ, জাতীয় মেধার অপচয় রোধে প্রকৌশলীদের পেশা পরিবর্তন বন্ধ, আন্তর্জাতিক ইঞ্জিনিয়ারিং টিম কনসেপ্ট অনুযায়ী ১ঃ৫ অনুপাতে সব প্রকৌশল সংস্থার জনবলকাঠামো প্রণয়ন, ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমের কারিকুলাম ইংরেজি ভার্সনে আধুনিকায়ন, সব পলিটেকনিক ও মনোটেকনিক ইনস্টিটিউট, টিএসসিতে ১ঃ১২ অনুপাতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিবেচনায় শিক্ষকস্বল্পতা দূরীকরণ, পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের মেধা বৃত্তির পরিমাণ বৃদ্ধি এবং সব প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং সনদধারীদের ক্রেডিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা।

তিন দফা দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে আন্দোলন করছেন প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে—নবম গ্রেডের ইঞ্জিনিয়ারিং পদ বা সহকারী প্রকৌশলী বা সমমানের পদে প্রবেশের জন্য সবাইকে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে এবং প্রার্থীর কমপক্ষে বিএসসি ডিগ্রি থাকতে হবে। কোটার মাধ্যমে পদোন্নতি দেওয়া যাবে না। এমনকি বিভিন্ন নামে সমমানের পদ সৃষ্টি করেও পদোন্নতি দেওয়া যাবে না।

বিএসসি ও ডিপ্ল্লোমা প্রকৌশলীদের দাবির যৌক্তিকতা নিরীক্ষায় কমিটি গঠন : চলমান আন্দোলনের ভিত্তিতে প্রকৌশল পেশায় বিএসসি ডিগ্রিধারী ও ডিপ্ল্লোমাধারীদের পেশাগত দাবির যৌক্তিকতা পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক সুপারিশ প্রণয়নের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে। এই কমিটি বিএসসি ও ডিপ্লোমাধারীদের যোগ্যতা, কাজের সুযোগ এবং পেশাগত কাঠামোর যৌক্তিকতা পরীক্ষা করবে এবং এ বিষয়ে সুপারিশ পেশ করবে। গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কমিটিবিষয়ক শাখার অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) মো. হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

কমিটিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানকে সভাপতি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সওবা) কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হককে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

প্রতিবেশী দেশের ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের অবস্থান দেখে সমস্যা সমাধান করা হবে—ফাওজুল কবির খান : বুয়েটসহ দেশের বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত কমিটির প্রধান এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে শিগগির বৈঠক করবে কমিটি। তিনি বলেন, সঠিক সমাধানে পৌঁছাতে হলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের মর্যাদা ও অবস্থান বিশ্লেষণ করা হবে।