সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
এর আগে গত ১৪ আগস্ট বিজ্ঞপ্তি দিলেও আইনি জটিলতায় আটকে যায় নিলাম কার্যক্রম।

ওই জটিলতার কারণে পূর্ব নির্ধারিত গত ১৮ আগস্ট তারিখের নিলাম কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। অনিবার্য কারণবশত নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করে গত ১৭ আগস্ট রাত ১১টার দিকে ‘উপজেলা প্রশাসন কুলাউড়ার ফেসবুক পেজে’ বিজ্ঞপ্তি দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মহিউদ্দিন।
সূত্র আরো জানা যায়, নিলামযোগ্য বালুর পরিমাণ ২ কোটি ৯৬ লাখ ৪১ হাজার ১৯২ ঘনফুট। যার মূল্য ধরা হয়েছে ১৩ কোটি ৩৩ লাখ ৮৫ হাজার ৩৬৪ টাকা।
২৭ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বালু নিলাম কমিটির আহ্বায়ক মো. মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে থেকে জানা যায়, গত ২ জুলাই কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের সালন, হাজীপুর ইউনিয়নের কনিমুড়া, হরিচক ও সাধনপুর নামক স্থানে ১৪৩০ বাংলা সনে মজুদকৃত মোট ২ কোটি ৯৬ লাখ ৪১ হাজার ১৯২ ঘনফুট অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু জব্দ করা হয়।
গত ৬ আগস্ট মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা থেকে স্পট নিলামের মাধ্যমে জব্দকৃত বালু বিক্রয় করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়। টিলাগাঁও ইউনিয়নের সালন এলাকায় জব্দ করা ১ কোটি ৬২ লাখ ১৩ হাজার ৬৮০ ঘনফুট বালুর মূল্য ধরা হয়েছে ৭ কোটি ২৯ লাখ ৬১ হাজার ৫৬০ টাকা। হাজীপুর ইউনিয়নের কনিমুড়া এলাকায় জব্দ করা ৭৯ হাজার ৫০ ঘনফুট বালুর মূল্য ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৭২৫ টাকা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘আইনি জটিলতার কারণে গত ১৮ আগস্ট তারিখে জব্দকৃত বালুর প্রকাশ্য নিলাম কার্যক্রম স্থগিত ছিল। বর্তমানে আইনি জটিলতা নিরসন করে ফের ওই বালু নিলামের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্ট সরকারি নিয়ম মেনে বালু প্রকাশ্য নিলাম করা হবে।’
প্রসঙ্গত, মনু নদীর কটারকোনা বাজারসংলগ্ন বালুমহাল থেকে সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে। গত ১৪৩০ বাংলা সনে জেলা প্রশাসন থেকে ওই বালুমহাল ইজারা নেন পৃথিমপাশা ইউনিয়নের বাসিন্দা দীপক দে। বালু উত্তোলনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের জেলা ও উপজেলার শীর্ষ নেতাদের প্রভাব খাটিয়ে দিনরাত বালু উত্তোলন করে নদীর তীরবর্তী টিলাগাঁও ইউনিয়নের সালন, হাজীপুর ইউনিয়নের কনিমুড়া, হরিচক, সাধনপুরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় কয়েক কোটি ঘনফুট বালু জমাট করেন দীপক দে।’
ওইসময় তিনি উত্তোলনকৃত বালু পুরোটা বিক্রি করেননি। চলতি ১৪৩২ বাংলা সনে বালুমহালের ইজারা পান হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বাসিন্দা যুবলীগ নেতা সেলিম আহমদের স্ত্রী নাজমুন নাহার লিপি। দীপক দে বর্তমান ইজারাদার না হলেও ব্যবসায়িক অংশীদার গড়ে তুলে পূর্বের জমাট করা কয়েক কোটি ঘনফুট বালু থেকে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে প্রায় এক কোটি ঘনফুট বালু অবৈধভাবে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ উঠে।
উল্লেখ্য, গত ৫ জুলাই কালের কণ্ঠের প্রিন্টে ‘কুলাউড়ায় মেয়াদ শেষ হলেও চলে বালু লুট’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হলে তোলপাড় শুরু হয় বিভিন্ন মহলে। এ ছাড়া ওই সংবাদটি কালের কণ্ঠ ছাড়াও আরো অনেক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এরপর বিষয়টি নজরে আসে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের। এদিকে গত ১৬ আগস্ট কালের কণ্ঠের প্রিন্টে ‘নিলামে ১৩ কোটি টাকার বালু’ শিরোনামে আরেকটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ২০ আগস্ট কালের কণ্ঠে ‘আইনি জটিলতায় স্থগিত ১৩ কোটি টাকার বালু নিলাম’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।









