নির্বাচিত খবর

ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন

নিউজ ডেস্ক১০ জুলাই ২০২৫১০ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে বা আসন্ন রোজার আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে পারে এবং এ জন্য ডিসেম্বরের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল বুধবার রাত ৮টায় এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আজ (বুধবার) প্রায় দুই ঘণ্টা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে মিটিং হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রধানরা মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।

অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর আট লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন জানিয়ে প্রেস সচিব প্রধান উপদেষ্টার বরাতে বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সব সদস্যকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে।

গত ১৩ জুন লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টার বরাতে বলা হয়েছিল, ‘সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা গেলে ২০২৬ সালের রমজান শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহেও নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে।’ এর ২৬ দিন পর গতকাল রাত ৮টায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অগ্রগতি জানাতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল আলম আরো জানান, আগামী মাসগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকেও কঠোর হতে বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা। বলেছেন, ত্রয়োদশ নির্বাচন যেন লোক-দেখানো না হয়, সত্যিকারের সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করতে হবে। সবাই যেন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে নির্বাচন কমিশনও দ্রুত প্রস্তুতিমূলক বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছে। গতকাল সন্ধ্যার পরও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের কর্মরত অবস্থায় দেখা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচনী কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে নির্বাচন কমিশনাররা বৈঠক করতে যাচ্ছেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন কয়েক দিন আগে বলেছেন, ভোটগ্রহণের দুই মাস আগে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ভোটের দিন নির্ধারণ করে আগামী ডিসেম্বরেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে এবং তফসিল

ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই দেশে নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন শুরু হয়ে যাবে।

নির্বাচন কর্মকর্তাদের ধারণা, এ কারণেই হয়তো প্রধান উপদেষ্টা সংসদ নির্বাচনের জন্য আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রস্তুতি নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। 

গত রবিবার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা রাজধানীর উত্তরায় শিল্পাঞ্চল পুলিশ সদর দপ্তর ও উত্তরা পূর্ব থানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, পাঁচ-ছয় মাস পর নির্বাচন ধরেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করে আসার পর গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘নির্বাচনের জন্য ফুল গিয়ারে প্রস্তুতি চলছে। আমাদের ফোকাস জাতীয় নির্বাচন। স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে আমাদের প্রস্তুতি নেই।’ তিনি আরো বলেছিলেন, সময় এলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচনের তারিখ জানানো হবে। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান গত বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আগামী ১৮ মাসের মধ্যে যাতে নির্বাচন হতে পারে, সে জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো সম্পন্ন করতে অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেন। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ওই সময়ের মধ্যেই পড়ে।

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ গতকাল বলেন, ‘আমরা এই অন্তর্বর্তী সরকারে দীর্ঘদিন থাকছি না, খুব বেশি হলে সাত-আট মাস (ফেব্রুয়ারি-মার্চ)। বিশেষ করে প্রধান উপদেষ্টা ও আমি কিছু মৌলিক সংস্কার করতে আগ্রহী। আমরা কোনো দীর্ঘ বা মধ্য মেয়াদি সংস্কার করব না।’

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ সম্প্রতি সংস্কার নিয়ে দ্রুত সংলাপ শেষ করতে দলগুলোকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

প্রেস বিফিংয়ে যা বলা হয়েছে : প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সব প্রস্তুতি ডিসেম্বরের আগে শেষ করতে বলেছেন। নির্বাচনের আগে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীতে পুলিশ, বিজিবি, কোস্ট গার্ডের ১৭ হাজার নতুন সদস্য নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ যেন এই সময়ের মধ্যে শেষ হয়, সে বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া নির্দেশ দিয়েছেন, নির্বাচন সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী যেন আগামী মাসগুলোতে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করে।

বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের জন্য পর্যাপ্ত লোকবল আছে কি না, যদি নতুন নিয়োগ করতে হয় তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া এখন থেকেই শুরু করে দিন। তাদের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করুন। প্রতিদিন ট্রেনিং হবে। ডিসেম্বরের মধ্যেই সব প্রস্তুতি শেষ করতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘আগে যে ধরনের নির্বাচন হয়েছে সেটা ছিল লোক-দেখানো নির্বাচন। নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সবাইকে সে জন্য একটি প্রকৃত নির্বাচন কী করে আয়োজন করতে হয় সেটার ট্রেনিং দিতে হবে। কার কী ভূমিকা সেটা পরিষ্কার থাকতে হবে। দরকার হলে রিহার্সাল নির্বাচন করতে হবে, যাতে অনুশীলন হয়।’

ভোটারদের জন্যও নির্বাচনের নিয়ম বর্ণনা করে ভিডিও কনটেন্ট তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেছেন, টেলিভিশনে, সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিওগুলো প্রচার করতে হবে। জরুরি নম্বরগুলো সবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে, যাতে কোনো ভোটারের অসুবিধা হলে সঙ্গে সঙ্গে ফোন দিতে পারেন। কন্ট্রোলরুমের সঙ্গে ভোটার যেন সরাসরি কানেক্ট থাকতে পারেন।

নারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতেও তাগিদ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেছেন, অর্ধেক ভোটার নারী। কেউ যেন ভোটের অধিকার থেকে তাঁদের বঞ্চিত করতে না পারে। এ জন্য পর্যাপ্ত নারী সদস্য ও কর্মকর্তা মোতায়েন থাকতে হবে।

তিনি বলেছেন, ১৬ বছর মানুষ ভোট দেখেনি। ভোটারের স্মৃতিতে আছে ভোটকেন্দ্রে মারামারি, ভোট চুরি। আগামী নির্বাচনে ভোটারদের যেন একটি ভালো অভিজ্ঞতা হয়, একটি সুন্দর স্মৃতি থাকে। প্রথম ভোট যাঁরা দেবেন এটা তাঁদের জন্য গৌরবের। তিনি যেন ভালো অনুভব করেন।

প্রেস সচিব আরো জানান, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘নির্বাচন ফেব্রুয়ারি অথবা এপ্রিলে হবে, এর অর্থ হচ্ছে নির্বাচনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করতে যা কিছুর প্রয়োজন, তা এখন থেকেই শুরু করতে হবে। নির্বাচনের জন্য পর্যাপ্ত লোকবল আছে কি না, খুব দ্রুত এটি জানতে হবে। যদি নিয়োগ করতে হয় তাহলে প্রক্রিয়া এখনই শুরু করে দিন। তাদের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করুন, প্রতিদিন প্রশিক্ষণ হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, ‘আগে ভোটের দিন ইন্টারনেট বন্ধ করে রাখা হতো। আবার যাতে ইন্টারনেট ব্যবস্থা সচল রাখা যায়, সে জন্য বলা হয়েছে। অতীতে আমরা দেখেছি, মিডিয়ার দলীয় কর্মীদের নির্বাচন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়, এবার প্রকৃত মিডিয়াকর্মী দায়িত্ব পালন করতে পারেন—এর জন্য আগে থেকে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। মিডিয়ার জন্য আচরণবিধি যাতে আগে থেকে প্রস্তুত করা যায়, যাতে আগে থেকে জানতে পারে মিডিয়ার দায়িত্ব কতটুকু এবং যাঁরা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন, তাঁরাও জানতে পারবেন মিডিয়ার অ্যাকসেস কতটুকু। এ ছাড়া পর্যবেক্ষকের নামে কেউ যাতে দলীয় কর্মীকে পাঠাতে না পারে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।’

উপ-প্রেস সচিব আরো জানান, আওয়ামী লীগের আমলে বিতর্কিত তিনটি নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা পোলিং অফিসার এবং প্রিজাইডিং অফিসারদের বাদ দেওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা। এ ক্ষেত্রে সব সম্ভব না হলেও যত বেশি সম্ভব তাঁদের বাদ দিয়ে যাতে নিয়োগ দেওয়া হয় সে বিষয়টি দেখতে বলেছেন। এ ছাড়া নির্বাচনের সময় বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা এবং কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং সেল গঠন করা হবে, যেখান থেকে পুরো নির্বাচনপ্রক্রিয়া মনিটর করা হবে; সেখানে কোনো অনিয়ম দেখা গেলে যাতে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এক থানার পুলিশকে আরেক থানা এলাকায় দায়িত্ব দিতে হবে, যাতে কেউ প্রভাব বিস্তার না করতে পারে।

নির্বাচনের আগে ডিসি, এসপি, ওসি এবং টিএনওদের রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি র‌্যান্ডমভাবে করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব। উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, রদবদলের বিষয়টি নাম্বারিং করে লটারির মাধ্যমে করার কথা বলা হয়েছে। এভাবে করা যায় কি না সেভাবে ভেবে দেখতে বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা, যাতে এই রদবদলের পর কেউ কোনো প্রভাব বিস্তার না করতে পারেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর আট লাখ সদস্য নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন। এই পুরো আট লাখ সদস্য যাতে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন করতে পারেন সেটার প্রশিক্ষণ তাঁদের নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সীদের যাতে পৃথক একটি ভোটার তালিকা করা যায়, তা খতিয়ে দেখার জন্য এবং তাঁদের জন্য আলাদা ভোটের বুথ করার সম্ভাব্যতা যাচাই করে দেখতে বলেছেন তিনি।

নির্বাচনকালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কিভাবে মোতায়েন হবে সেটি নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়েছে। সীমান্ত এলাকায়, দেশের বিভিন্ন জায়গায়, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে কিভাবে মোতায়েন হবে, কতজন আনসার থাকবে—এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিজিবি বা সেনাবাহিনী কিভাবে থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে, সেগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আট লাখ সদস্যের মধ্যে পাঁচ লাখ ৭০ হাজার আনসার সদস্য থাকবেন এবং এক লাখ ৪১ হাজার থাকবেন পুলিশের সদস্য। বৈঠকে বলা হয়েছে, ৪৭ হাজার ভোটকেন্দ্র থাকবে। তার মধ্যে ১৬ হাজারের মতো ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এসব কেন্দ্রে কিভাবে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট নেওয়া যায় সে নির্দেশ দিয়েছেন এবং এ জন্য পুলিশের বডিক্যাম, কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের সময় জুডিগিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের ভোট বিষয়ে প্রশিক্ষণের অভাব থাকে। তাঁদের কিভাবে ভালোভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে ভোটের জন্য প্রস্তুত করা যায় সেই বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগে নির্বাচনের সময় চার দিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী মোতায়েন থাকত। এবার কিভাবে সাত দিনের জন্য মোতায়েন করা যায় এটা নিয়েও আলাপ হয়েছে।

যে কারণে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন : প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ঈদুল আজহার আগের দিন সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেছিলেন, ‘বিচার, সংস্কার ও নির্বাচনসংক্রান্ত চলমান সংস্কার কার্যক্রম পর্যালোচনা করে আমি আজ দেশবাসীর কাছে ঘোষণা করছি, আগামী জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে যেকোনো একটি দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এই ঘোষণার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন উপযুক্ত সময়ে আপনাদের কাছে নির্বাচনের বিস্তারিত রোডম্যাপ প্রদান করবে।’ এর আগে প্রধান উপদেষ্টা কখনো ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন হতে পারে বলে জানিয়ে আসছিলেন। আর বিএনপি ও তাদের সমমনা দল এবং বাম দলগুলো ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিল।

বিএনপি ও সমমনা দলগুলো প্রধান উপদেষ্টার এপ্রিলে নির্বাচনের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে ডিসেম্বরে নির্বাচনের জোরালো দাবি জানায়। তারা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে রোজা ও মার্চে ঈদের ছুটি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা, কালবৈশাখী ও ঝড়বৃষ্টির মৌসুমে নির্বাচনী কার্যক্রম ও প্রচারণা চালানোর অসুবিধার যুক্তি তুলে ধরে চলতি বছরের শেষে নির্বাচনের দাবি অব্যাহত রাখে। এই পরিস্থিতির মধ্যে গত ১৩ জুন লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের সময় এগিয়ে আনেন। বৈঠক সম্পর্কে যৌথ বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টার বরাতে বলা হয়, ‘সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা গেলে ২০২৬ সালের রমজান শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহেও নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে সেই সময়ের মধ্যে সংস্কার ও বিচারের বিষয়ে পর্যাপ্ত অগ্রগতি অর্জন করা প্রয়োজন হবে।’

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলে তাতে আপত্তি নেই জামায়াতে ইসলামীর। একটি নির্বাচিত সরকার অনেক সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হলে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই। তবে যেনতেন একটি নির্বাচন তাঁরা চান না। গত রবিবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (এফএসডিএস) আয়োজিত ওই সংলাপে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘যেনতেন নির্বাচন চাই না মানে আমরা নির্বাচন চাই না—বিষয়টা তা নয়। এ নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে এবং সন্দেহ তৈরি করা হচ্ছে। আর যেনতেন ইলেকশন যদি কেউ চান, আমরা তাঁদেরও চাই না। যেনতেন নির্বাচন যারা করেছে, আমরা তাদের বিতাড়িত করেছি।’