রাজশাহীর খবর গুরুত্বপূর্ণ

স্ত্রী চলে যাওয়ায় দুর্গাপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে স্বামীর আত্মহত্যা

নিউজ ডেস্ক৩ জুলাই ২০২৫২ মিনিট পড়া

দুর্গাপুর প্রতিনিধি:
রাজশাহী দুর্গাপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে ফিরোজ আহম্মেদ (২২) নামের এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার তিওড়কুড়ী গ্রামে। নিহত ফিরোজের বাবার নাম শাহীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ফিরোজ উপজেলার তিওড়কুড়ী গ্রামের তার মায়ের সাথেই একই বাড়িতে বসবাস করেন। ছোট বেলায় তার মায়ের সাথে তার বাবার বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই মায়ের কাছেই বড় হয়ে উঠে ফিরোজ। ফিরোজ মাঝে মধ্যে ভ্যানগাড়ি চালায় আর মা মানুষের বাসা বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান।
ফিরোজ গত দুই বছর আগে একই উপজেলার যুগিশো গ্রামে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন পরেই তার প্রথম স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর গত এক বছর আগে খুলনা বিভাগে সে একাই কাউকে কিছু না বলে সুরাইয়া খাতুন নামের এক মেয়েকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে তাদের সংসারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বনিবনা হচ্ছিল না। এক পর্যায়ে গত দুই মাস আগে সেই মেয়েটিও তাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যায়। এরপর নিঃসঙ্গতায় মধ্যে বসবাস করতে থাকেন ফিরোজ।
এরপর গত কয়েকদিন থেকে ফিরোজ তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে মাঝে মধ্যে ফোনে কথা বলতে থাকে। এক পর্যায়ে বৃহস্পতির আবারো তার স্ত্রীর সাথে ফোনে কথা বলেন ফিরোজ। এই কথা বলাকে কেন্দ্র করেই তার মায়ের সাথে বাকবিতণ্ডা হয় ফিরোজের। এক পর্যায়ে মা-ছেলে সকালের খাবার খেয়ে তার মা বাড়ির পাশে একটি মাঠে চলে যান ছাগলের ঘাস কাটার উদ্দেশ্যে।
এরপর সবার অগোচরেই ফিরোজ তার স্ত্রী চলে যাওয়ার শোকে ও মায়ের ওপরে অভিমান করে ঘরের চালার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে ফিরোজের মা বিল থেকে বাড়িতে এসে দেখেন ঝুলন্ত অবস্থায় তার ছেলে। এরপর তার চিৎকার চেঁচামেচিতে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে গলায় ফাঁস দেওয়া ওড়না কেটে নিচে নামান। এরপর তাকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দুরুল হুদা বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে। নিহতের পরিবার থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।