মো. সফিকুল ইসলাম
বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্য চর্চার অন্যতম শ্রেষ্ঠ পাদপীঠ রাজশাহীর ‘বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নাটোর দিঘাপতিয়ার রাজপত্র কুমার শরৎকুমার রায়ের ৭৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (১২ এপ্রিল)। নাটোর শহরের অদূর-উত্তরে ‘দিঘাপতিয়ার রাজবাড়ি’ বর্তমানে ‘উত্তরা গণভবন’। বরেন্দ্রভূমির কৃতিপুরুষ কুমার শরৎকুমার রায় বিখ্যাত এই রাজবাড়িতেই জন্মগ্রহণ করেন ২২ এপ্রিল ১৮৭৬, মৃত্যু ১২ এপ্রিল ১৯৪৬। পিতা নাটোর দিঘাপতিয়ার রাজা প্রমথনাথ রায়, মাতা দ্রবময়ী দেবী।
বাংলার সুপ্রসিদ্ধ ইতিহাসবিদ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়কে ‘সারথ্যে বরণ’ করে মাতৃভ‚মির ইতিহাস-সংস্কৃতি রক্ষা-চর্চা ও রচনার মহান প্রয়াসে ১৯১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কুমার শরৎকুমার রায় রাজশাহী শহরে গঠন করেন ‘বরেন্দ্র-অনুসন্ধান-সমিতি’। পরবর্তীতে, এই সমিতির অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান হিসেবে তিনিই রাজশাহী মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র হেতেম খাঁ মহল্লায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম’।

সমিতি গঠন ও মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠার অপর সারথী ছিলেন ইতিহাসবিদ রমাপ্রসাদ চন্দ এবং বহু দেশহিতৈষী। ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম’ শুধু অবিভক্ত বাংলা-ই নয়—ভারতবর্ষের ‘প্রথম মিউজিয়াম’ এবং বাংলাদেশের যেকোনো শ্রেণির মিউজিয়ামের মধ্যে প্রথম—এটি দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন একটি প্রত্নতাত্ত্বিক মিউজিয়াম (Archaeological Museum)।
সমিতি ও মিউজিয়ামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কুমার শরৎকুমার রায়, প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় (তখন রাজশাহী বার-এর আইনজীবী ও খ্যাতিমান ইতিহাসবিদ), সমিতির প্রতিষ্ঠাতা অনারারি সেক্রেটারি ইতিহাসবিদ রমাপ্রসাদ চন্দ (তখন রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষক) এবং রমাপ্রসাদ চন্দই মিউজিয়ামের প্রথম কিউরেটর। সমিতি গঠনের প্রথমদিকেই কলকাতা মিউজিয়ামের তদানীন্তন সুপারিনটেনডেন্ট ইতিহাসবিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষদ-এর রামকমল সিংহ-সহ খ্যাতিমান ইতিহাসবিদ, সাহিত্যিক, পণ্ডিত ও বিশিষ্ট নাগরিকগণ যোগদান করেন।
বলা প্রয়োজন, কুমার শরৎকুমার রায়ের শিক্ষা জীবনের সূচনা ঘটে রাজশাহী শহরে কলেজিয়েট স্কুলে, পরবর্তীতে কলকাতায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১৮৯২ সালে প্রবেশিকা এবং রিপন কলেজ থেকে ১৮৯৪ সালে এফএ (ফাস্ট আর্টস) ও কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৮৯৯ সালে স্নাতকক ও ১৯০০ সালে পদার্থ বিজ্ঞানে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। কুমার শরৎকুমার রায় এমএ করার পর অনুজ হেমেন্দ্র কুমার রায়কে নিয়ে ইউরোপ যাত্রা করে থিবস, পম্পেই, মিশর-সহ ইতিহাস সমৃদ্ধ প্রাচীন নগরী এবং বিশ্বের বিভিন্ন বিখ্যাত মিউজিয়াম পরিদর্শন করেন। বিদেশ সফরে গিয়ে প্রাচীন ঐতিহাসিক নগরী দেখে শরৎকুমার মুগ্ধ হন এবং মাতৃভূমির ইতিহাসচর্চায় প্রবল আগ্রহী হন। শরৎকুমারের পিতা প্রমথনাথ রায় ও পরিবারের সদস্যগণও ছিলেন ইতিহাসের প্রতি গভীর অনুরাগী। শৈশবেই শরৎকুমার ইতিহাসের প্রতি জীবনঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেন। কুমার শরৎকুমার রায় শিক্ষা-দীক্ষা, ও মনীষায় ছিলেন বিশ্বমানের পণ্ডিত। একাধারে সাহিত্যিক, ইতিহাসবিদ ও প্রত্নত্ত্ববিদ ছিলেন। তাঁর বিখ্যাত রচনা ঐতিহাসিক উপন্যাস ‘মোহনলাল’।
রাজশাহীতে একটি মিউজিয়াম স্থাপনের জন্য কুমার শরৎকুমার রায় আগে থেকেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। প্রতিশ্রুতি পূরণে তাঁর বড় ভাই দিঘাপতিয়ার রাজা প্রমদানাথ রায় ৫ বিঘা ২ কাঠা ২ ছটাক জমি খরিদ করে বরেন্দ্র-অনুসন্ধান-সমিতিকে দান করেন। এই জমির ওপরই প্রধানত কুমার শরৎকুমার রায়ের অর্থে (৬২,৫৪৫ টাকায়) ১৯১৬ থেকে ১৯১৯ সালের মধ্যে নির্মিত হয় এ দৃষ্টিনন্দন ইমারত। বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম ভবন প্রতিষ্ঠার সময় কুমার শরৎকুমার রায়ের অপর দ্বিতীয় বড় ভাই কুমার বসন্তকুমার রায় প্রথমে ৫ হাজার টাকা ও পরে মিউজিয়ামের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৩০ হাজার টাকা অনুদান দেন। কুমার শরৎকুমারের কনিষ্ঠ সহোদর কুমার হেমেন্দ্রকুমার রায় একই সময়ে ৫ হাজার টাকা অনুদান দেন।
মিউজিয়াম ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বাংলার গর্ভনর লর্ড কারমাইকেল, ১৯১৬ সালের ১৩ নভেম্বর এবং ১৯১৯ সালে ২৭ নভেম্বর বাংলার গভর্নর লর্ড রোনাল্ডসে ভবনের দ্বারোদ্ঘাটন করেন। সমিতি ও মিউজিয়াম ১৯১৪ সালে রেজিস্ট্রেশন লাভ করে ১৮৬০ সালের রেজিস্ট্রি অ্যাক্ট অনুযায়ী, কিন্তু প্রতিষ্ঠার মর্যাদা পায় ১৯১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর থেকেই।
বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়ামের প্রায় ১৮ হাজার প্রত্ননিদর্শন অতীত বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে চলেছে। বরেন্দ্র ঘরানা শিল্পরীতির ধ্রুপদি শিল্পকলার সমৃদ্ধ সমাহারে পরিপূর্ণ এই মিউজিয়াম। এখানে আর্যদের পূর্বেকার অর্থাৎ বর্তমান থেকে পাঁচ হাজার আগের সিন্ধুসভ্যতার (হরপ্পা ও মহেঞ্জাদারো) প্রত্ননিদর্শন রয়েছে, যা বাংলাদেশে আর কোনো মিউজিয়ামে নেই। বিশ্বজুড়ে বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়ামের সুখ্যাতি ছড়িয়ে আছে। দেশের প্রথম এই মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাতা শরৎকুমার রায় ও তাঁর সঙ্গীয়রা মাতৃভাষায় বরেন্দ্র ও বাংলার ইতিহাসচর্চার পথিকৃৎ হয়েছেন।
বাঙালি জাতির লুপ্ত ইতিহাস-ঐতিহ্য খুঁজে বের করার বিষয়ে বরেন্দ্র-অনুসন্ধান-সমিতি তথা বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কুমার শরৎকুমার রায়ের একক অর্থায়নে পাহাড়পুরের ঐতিহাসিক সোমপুর মহাবিহার, রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানার দেওপাড়ার প্রদ্যুম্নেশ্বর দিঘি (ভিন্ন নামে ‘পদুম-সহর’ দিঘি, বর্তমান নাম ‘কদমশহর’ দিঘি), দেওপাড়ার বিজয় সেন দেব প্রতিষ্ঠিত প্রদ্যুম্নেশ্বর মন্দির (ভিন্ন নামে ‘পদুম-সহর’ মন্দির, বর্তমান নাম ‘কদমশহর’ মন্দির), গোদাগাড়ীর কুমারপুর স্তূপসহ ওই এলাকার বিভিন্ন প্রত্নস্থল, নওগাঁ জেলার মাহিসন্তোষ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রত্নস্থল খনন করে প্রত্ননিদর্শন সংগ্রহ করা হয়। ‘পদুম-সহর’ মন্দির খননই আদিম বা পুরনো পদ্ধতিতে অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রত্নখনন, এই খনন হয় ১৯১১ সালের সূচনায়। অপরদিকে, পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহার খননই বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রত্নতাত্ত্বিক খনন। এই মহাবিহার সর্বপ্রথম প্রত্নতাত্ত্বিক খনন শুরু হয় ১৯২৩ সালের ১ মার্চ। বরেন্দ্র-অনুসন্ধান-সমিতি, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সোমপুর মহাবিহার যৌথভাবে খনন করে। খনন উদ্বোধনের দিন অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় গুরুতর অসুস্থ ছিলেন, তবুও স্যার আশুতোষ মুখোধ্যায়ের বিশেষ অনুরোধে খননস্থলে উপস্থিত থাকেন। স্মারক দিন হিসেবে স্মরণীয় করে রাখার জন্য উদ্বোধনী দিনের খননকার্য পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান করা হয় অক্ষয়কুমারকে এবং কোদাল দিয়ে কুপ বসিয়ে খনন উদ্বোধন করেন শরৎকুমার রায় ।
বরেন্দ্র-অনুসন্ধান-সমিতির বিপুল প্রত্ননিদর্শনের গবেষণালব্ধ ফল গ্রন্থাকারে প্রকাশের সফল উদ্যোগ গ্রহণ করেন প্রতিষ্ঠাতাগণ। কুমার শরৎকুমার রায়ের ধনভাণ্ডার প্রকাশনা খাতেও উন্মুক্ত ছিল। রমাপ্রসাদ চন্দ রচিত ও অক্ষয়কুমার সম্পাদিত গৌড়রাজমালা ও অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় রচিত গৌড়লেখমালা ১৯১২ সালে প্রকাশের মাধ্যমে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে বাংলার ইতিহাসচর্চার সূচনা ঘটে। গৌড়রাজমালা গ্রন্থকে ‘আধুনিক-বিজ্ঞানসম্মত প্রণালীতে লিখিত বাংলার প্রথম ইতিহাস’ বলে প্রথম স্বীকৃত করেন ইতিহাসবিদ রমেশচন্দ্র মজুমদার। সুবিখ্যাত সাহিত্যিক দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর বৃহৎ বঙ্গ (দ্বিতীয় খণ্ড) গ্রন্থে কুমার শরৎকুমার রায়ের দানশীলতা সম্পর্কে বলেন,—‘শরৎকুমারের মত দেশহিতৈষী ও অনাড়ম্বর দাতা বঙ্গদেশে আর দ্বিতীয় নাই বললে অত্যুক্তি হইবে না (দীনেশচন্দ্র সেন, বৃহৎ বঙ্গ, দ্বিতীয় খণ্ড প্রথম প্রকাশ- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৩৫ খ্রি., দেখুন- গ্রন্থটির দে’জ পাবলিশিং চতুর্থ সংস্করণ- ২০১৬ খ্রি., পৃ.- ১১৩৬)।
স্মরণযোগ্য যে, ১৯৬৪ সালের ১০ অক্টোবর থেকে সরকারি সিদ্ধান্তে বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম রাজশাহী বিশ^বিদ্যালের নিকট মালিকানা হস্তান্তর করা হয় এবং তখন থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে গৌরবময় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে।
কুমার শরৎকুমার রায় এফএ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় নাটোরের বড়াই গ্রাম থানার কালিকাপুর গ্রামের গিরীশচন্দ্র মজুমদারের জ্যেষ্ঠ কন্যা কিরণ লেখার সঙ্গে ১৮৯৫ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৮ বছরের বৈবাহিক জীবন কাটিয়ে কিরণ লেখা ১৯১৮ সালে পরলোকবাসী হন। শরৎকুমার-কিরণ লেখা ৬ পুত্র ও ৪ কন্যার জনক-জননী। পুত্রগণ হচ্ছেন, কুমার সবিতাভ রায় (শৈশবেই মৃত্যু ১৯১৬ সালে), কুমার অমিতাভ রায়, কুমার মিহিরবিজয় রায়, কুমার বিধুবনাথ রায়, কুমার তপন বিকাশ রায় এবং কন্যাগণ রাজকুমারী ললিতা রায়, রাজকুমারী অর্পণা রায় (শৈশবে মৃত্যু) ও রাজকুমারী ঊষারাণী রায়, রাজকুমারী অপরাজিতা রায়।
দয়ারামপুরের রাজবাড়িতে তিনি ১৯৪৬ সালের ১০ এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত হলে পারিবারিক চিকিৎসক কানাইলাল সাহার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রখ্যাত চিকিৎসক বিধানচন্দ্র রায়ের অধীনে চিকিৎসা শুরু হলেও তা বিফল হয়। পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে ১২ এপ্রিলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কুমার শরৎকুমার রায়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজশাহীসহ বাংলাজুড়ে সর্বস্তরের মানুষ শোককাতর হয়ে পড়েন। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ, রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শোকপ্রস্তাব গ্রহণ ও শোকসভার আয়োজন করে। রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগারের শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। শোকপ্রস্তাবে বলা হয়, ‘বরেন্দ্রভ‚মির অক্ষয় সম্পদ বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতির প্রতিষ্ঠাতা রূপে তিনি ভারতবর্ষের সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত। অশেষ বিদ্যানুরাগ বিদ্যোৎসাহীগণের পৃষ্ঠপোষকতা অরিমিত্র সাহিত্য শ্রদ্ধা এবং মানবিক ও গুণরাজ বিভ‚ষিত সনামশ্রদ্ধ এই মহাত্মার মৃত্যু সমগ্র বঙ্গবাসীকে শোকাভিভ‚ত করিয়াছে। …রাজপুত্র ও রাজসম্পদ লইয়া তিনি সরলতার প্রতিমূর্তি ছিলেন। তাঁহার নিরভিমান ও অনাড়ম্বর কর্মকুশল জীবন দেশপ্রেমীর আদর্শস্থল। বরেন্দ্র ভূমির ইতিহাস পথে এইরূপ প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাস গবেষকের আবির্ভাব বিরল। তাঁহার মহৎআত্মার প্রতি আমরা সন্তপ্ত চিত্তে শোকাঞ্জলি প্রদান করিতেছি।’
অশেষ কৃতজ্ঞতা :
শ্রীমান অরূপ রায় (কুমার শরৎকুমার রায়ের প্রপৌত্র)।
লেখক : উপ-রেজিস্ট্রার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।









