সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
আধুনিক প্রযুক্তি ও নিত্যনতুন উদ্ভাবনের হাত ধরে বদলে গেছে আজকের বিশ্ব। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমূল পরিবর্তন এসেছে কাজের ধরনেও। কিছু কর্মক্ষেত্রে রাত দিন ২৪ ঘণ্টাই কাজ করতে হয়। তাই চরে শিফটিং ডিউটি।
এই শিফটিং ডিউটির ফলে রাতেও অফিস করতে হয়।
শিফটিং ডিউটির ফলে দৈনন্দিন জীবন ছন্দে বাঁধা পড়ে না। ব্রেকফাস্ট থেকে ডিনার, সকালে বিছানা ছাড়া থেকে রাতে ঘুমোতে যাওয়া— তারা চাইলে নির্দিষ্ট রুটিন মেনে করতে পারেন না। খুব কম মানুষই রুটিন মেনে চলতে পারেন।

এই শিফটিং ডিউটির ফলে আসা পরিবর্তনে কিছু নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শরীর ও মনে।
খাওয়াদাওয়া থেকে ঘুম, কোনোটারই নির্দিষ্ট সময় থাকছে না। অথচ চিকিৎসকরা বরাবর সতর্ক করেছেন, দিনে অন্তত ৬-৮ ঘণ্টা ঘুম, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দিনের ও রাতের আহার সেরে নেওয়া— সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনের জন্য বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে কী করবেন?
শিফটিং ডিউটি যারা করছেন, তাদের কী কী সাবধানতা বা সতর্কতা থাকা উচিত? শিফটিং ডিউটি থেকে কী কী সমস্যা আসতে পারে, সমাধানই বা কেমন হওয়া দরকার? তা নিয়েই আজকের প্রতিবেদন।
চলুন জেনে নেওয়া যাক। বিভিন্ন শিফটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝক্কি পোহাতে হয় নাইট ডিউটি নিয়ে।
বেশিরভাগ কর্মক্ষেত্রে রাতে গাড়ির ব্যবস্থা থাকে না বলে নাইট ডিউটি ৮ ঘণ্টার জায়গায় ১১-১২ ঘণ্টা রাখা হয়। এরকম ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় ঘুমের। আমাদের খাওয়াদাওয়া বা ঘুম—সবই হওয়া উচিত নির্দিষ্ট সময় অন্তর।
চিকিৎসা পরিভাষায় একে বলে ‘সরকার্ডিয়ান রিদম’। এই ‘রিদম’ বা ছন্দ নষ্ট হয়ে যায় নাইট ডিউটি থাকলে। মর্নিং বা ইভিনিং শিফটের ক্ষেত্রেও এমন সমস্যা হয়।
‘সারকার্ডিয়ান রিদম’ নষ্ট হয়ে যায় বলেই সকালে কর্মস্থল থেকে ফেরার পর ঘুম আসতে চায় না অনেকের। যথেষ্ট ঘুম না হলে তার প্রভাব তো পড়বেই। অবসাদ, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলো বাড়ে। সেক্ষেত্রে পরামর্শ, রাতভর ডিউটি থাকলে প্রয়োজনে ঘর অন্ধকার করে অন্তত ঘণ্টা ছয়েকের ঘুম দিতেই হবে। টানা দুই-তিনদিন কেউ নাইট ডিউটি করলে তারপর একদিন ছুটি (ডে অফ) দেওয়া উচিত। সেদিন বেশিক্ষণ ঘুমিয়ে ‘বকেয়া’ শোধ করতে হবে। তবেই শরীর ঠিক থাকবে। টানা ১১-১২ ঘণ্টার ডিউটি হলে তার মধ্যেই সময় বের করে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিতে পারলে ভালো হয়। ডিউটির মধ্যেই সময়ে খাওয়াদাওয়া সেরে নিতে পারলে সবচেয়ে ভালো।
আর একটা হচ্ছে, শিফটিং ডিউটির তালিকা যতটা সম্ভব আগেই কর্মচারীদের জানিয়ে দেওয়া উচিত। তাহলে সে অনুযায়ী মানসিক প্রস্তুতি থাকবে কর্মীর। তাতে কাজও যেমন ভালো হবে, শরীর-মনের ওপর প্রভাবও পড়বে কম। সুগার, প্রেশার, লিভারের সমস্যার মতো সমস্যা থাকলে এমনিতেই কর্মক্ষমতা কমে যায়। এসব সমস্যা নিয়েও যারা বিভিন্ন শিফটে ডিউটি করতে বাধ্য হচ্ছেন, তাদের কাজের ফাঁকে হালকা বিশ্রাম নিতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়।
ডিউটি শেষে যারা নিজেরাই গাড়ি চালিয়ে ফেরেন, তারা অবশ্যই একটু বিশ্রাম নিয়ে তারপর বের হবেন। তবে কারো হার্টের সমস্যা থাকলে (পাম্পিং ক্ষমতা ৪০ শতাংশের নিচে হলে) বা খিঁচুনি জাতীয় সমস্যা থাকলে নাইট ডিউটি না করাই ভালো। যারা নিয়মিত সুগার-প্রেশারের ওষুধ খান, ইনসুলিন নেন, ডিউটির জন্য সেই সূচি অবহেলা করলে চলবে না। আর সবসময় মাথায় রাখতে হবে, ডিউটির হেরফেরের জন্য যতটা ঘুম কম হচ্ছে, ততটা ঘুমিয়ে নিতে হবে সময় বের করে।
শিফটিং ডিউটিতে আরো কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে
গুরুপাক খাদ্য এড়িয়ে চলুন। অর্থাত্ খুব বেশি তেল মশলা দেওয়া খাবার খাওয়া চলবে না। প্রয়োজনে টিফিন বক্সে করে বাসা থেকে খাবার নিয়ে যান।
ধূমপান এড়িয়ে চলুন।
সারা দিনে যেকোনো সময় হালকা শরীরচর্চা অবশ্যই করবেন।
সূত্র: কালের কণ্ঠ









