অনিক মাহামুদ ইমন
০১ জানুয়ারি, বাংলাদেশের স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উৎসবের দিন। প্রতিবছর এই দিনে বাংলাদেশে বই উৎসব হয়ে থাকে। কিন্তু ২০২৫ সালের ০১ জানুয়ারি বই উৎসব হবে কি না সেটা নিয়ে আমরা সকলেই চিন্তিত। কারন বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে জানুয়ারির শুরুতে হয়তো সকল বই শিক্ষার্থীরা পাবে না। ২০২০ সালে করোনা মহামারী থেকে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতি শুরু হয়।
২০২৪ সালে পরীক্ষামুক্ত নতুন কারিকুলাম নামক এক আবর্জনাকে চাপিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কবর রচনার সকল পদক্ষেপ সম্পন্ন করা হয়। জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থী,অভিভাবক এবং শিক্ষক সমাজের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে।

মাননীয় শিক্ষা উপদেষ্টা মহোদয় এই অভিশপ্ত নতুন কারিকুলামকে বাতিল করেন এবং বার্ষিক পরীক্ষা চালু করার মাধ্যমে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঘুরে দাঁড় করানোর প্রথম পদক্ষেপটি গ্রহণ করেন।
তবে আমার কাছে চিন্তার বিষয় হলো- বার্ষিক পরীক্ষা ২০২৪ এ প্রশ্নপত্রের যে নতুন ধরন চালু করা হয় সেটার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক উভয়েই সময় পান মাত্র ২-৩ মাস। এমনকি বার্ষিক পরীক্ষা ২০২৪ এর জন্য যে সিলেবাসটা দেয়া হয় সেই সিলেবাসটিও শিক্ষার্থীদের জন্য পাহাড় সম হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো।
পরবর্তীতে ঘোষণা আসলো- যে স্কুল যতটুকু পাঠদান করেছে সে স্কুল ততটুকুর উপরই পরীক্ষা নিবে। প্রশ্ন থেকেই যায়-
১. স্কুলই যদি সিলেবাস নির্ধারণ করে তাহলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সিলেবাস দিয়ে লাভটা কি হল?
২. তবে কি কোনো রকম অনুসন্ধান ছাড়াই দেয়া হয়েছিল ২০২৪ সালের বার্ষিক পরীক্ষার সিলেবাস?
৩. ২০২৫ সালের বইও কি তবে কোনরকম অনুসন্ধান ছাড়াই আমাদের হাতে আসতে চলেছে? এমনটা যেন না হয় সেটাই প্রত্যাশা।
আমি সবচেয়ে বেশি চিন্তিত ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদেরকে নিয়ে। কেননা তারা এখনো জানেনা তাদের এসএসসি পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি কিরূপ হবে এবং সেটার সিলেবাস কেমন হবে। গতানুগতিক নিয়মে নবম এবং দশম শ্রেণীর সিলেবাসের ভিত্তিতে আমাদের দেশে এসএসসি পরীক্ষা হয়ে থাকে। কিন্তু এই শিক্ষার্থীরা ২০২৪ সালে নবম শ্রেণীতে অভিশপ্ত নতুন কারিকুলামের কবলে পড়েছিল।
আমি যতদূর শুনেছি বই ছাপানোর কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে । তাহলে যে বইটি ছাপানো হচ্ছে সেটির পিডিএফ কপি কেন অনলাইনে দেয়া হচ্ছে না? পিডিএফ কপিটি অনলাইনে দিলে শিক্ষার্থীরা যেমন জানতে পারতো তাদের আগামীর বইটা কেমন হবে তেমনি শিক্ষক সমাজও আগামী বছরের পাঠ পরিকল্পনা নিয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারতেন।
২০২৫ সালের মার্চ মাসে হবে মাহে রমজান এরপরে এপ্রিল মাসে এসএসসি পরীক্ষা ২০২৫ এরপর ঈদ উল আযহা অর্থাৎ বছরের শুরুতে দুই মাস যেতে না যেতেই স্কুলগুলোতে ধাপেধাপে ছুটি আরম্ভ হবে।
এসব শেষ হতে না হতেই স্কুল গুলোতে শুরু হবে অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা। এতো বন্ধের মিছিলে শিক্ষকেরা পাঠদান করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবেন কী?
নতুন বাংলাদেশে আমরা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে উন্নতির দিকে এগিয়ে যেতে দেখতে চাই। আর সেটার জন্য সঠিক অনুসন্ধান করে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহন করা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
লেখক: শিক্ষা গবেষক









