
সিল্কসিটি নিউজ ডেস্ক:
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পিছিয়ে যেতে পারে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করার কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন এবং জনসভার কর্মসূচি রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে নির্বাচন কমিশন কিছু না বললেও একে তফসিল অন্তত এক সপ্তাহ পিছিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, নবনির্মিত দুটি রেলপথ চলতি অক্টোবর মাসেই উদ্বোধনের প্রস্তুতি নিয়েছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে। এ রেলপথ দুটি হলো চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার এবং খুলনা থেকে মোংলা। রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো প্রকল্পের উদ্বোধনী সার-সংক্ষেপেও অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর সময় চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বড় এই দুই প্রকল্পের উদ্বোধন চলতি মাসে হচ্ছে না।
রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগামী ৯ নভেম্বর খুলনা-মোংলা রেলপথ এবং ১২ নভেম্বর দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ উদ্বোধনের জন্যে প্রধানমন্ত্রী সময় দিয়েছেন। তিনি সশরীরে উপস্থিত থেকে এই দুই প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন বলে আশা করছি। উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে আমাদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে।’
খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা কালের কণ্ঠকে জানান, রেলপথ উদ্বোধনের দিনে খুলনায় আওয়ামী লীগের একটি জনসভায়ও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই জনসভায় খুলনা বিভাগে আওয়ামী লীগের ১১টি সাংগঠনিক জেলার নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন। এ জনসভাকে সফল করতে আগামী ১৯ অক্টোবর খুলনা ইউনাইটেড ক্লাবে বিভাগ আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা হবে। এতে বিভাগের ১১টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপস্থিত থাকবেন।
খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক কালের কণ্ঠকে জানান, আগামী ৯ নভেম্বর খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রধান অতিথি থাকবেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। এ উপলক্ষে খুলনা বিভাগের নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, আগামী ১২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। উদ্বোধন অনুষ্ঠান নিশ্চিত হলে এ উপলক্ষে কক্সবাজারে আওয়ামী লীগের বড় জনসভা করার কথা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একজন নেতা জানান, ১২ নভেম্বর কক্সবাজারে জনসভার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত করেননি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে এমন কাজ করতে পারবেন না। নতুন প্রকল্প উদ্বোধন করতে পারবেন না। প্রধানমন্ত্রী ভোটারদের কোনো প্রতিশ্রুতি দিলে তা পরোক্ষভাবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে—এমন সম্ভাবনা থেকে যায়। ফলে তা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন হবে।’
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে বলা হয়েছে, আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের শ্রীপুরে এক অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের ২৯ তারিখের মধ্যে আমাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে হবে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তারিখ ঘোষণা করব যথাসময়ে। জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার তারিখ ঘোষণা করেন। আমরা সেটা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে তফসিলের মাধ্যমে জানিয়ে দেব।’
নির্বাচনের তফসিল পেছানোর জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করা হবে কি না, জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের সহযোগিতা নিতে হয়। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে নানা আলোচনা করা হয়ে থাকে। প্রধানমন্ত্রী যেহেতু নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে একাধিক কর্মসূচি রেখেছেন তার মানে উনি নানা বিষয় বিবেচনায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।সূত্র: কালের কণ্ঠ।








