সিল্কসিটি নিউজ ডেস্ক:
দেশে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) আওতায় ৭৮ প্রকল্প চলমান। এর মধ্যে দুটি প্রকল্প কার্যক্রমে রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে তিন হাজার ৮৯৬ কোটি মার্কিন ডলার বা তিন লাখ ৮১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা যোগ হবে। সম্প্রতি পিপিপি কর্তৃপক্ষ আসন্ন বাজেটে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে অন্তর্ভুক্তির জন্য পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরে। গত ২৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে এই চিঠি দিয়েছে পিপিপি কর্তৃপক্ষের পরিচালক (অর্থ) আক্তারুন্নাহার।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের জন্য ১৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং ১৭টি সংস্থার আওতাধীন ৭৮টি প্রকল্প পাইপলাইনে অন্তর্ভুক্ত আছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ৩৮.৯৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা তিন লাখ ৮১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা দেশের বিনিয়োগে যোগ হবে।

এরই মধ্যে ১৭টি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বেসরকারি অংশীদারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যার প্রাক্কলিত বিনিয়োগের পরিমাণ ৪৩০ কোটি ডলার। এর মধ্যে যে দুটি প্রকল্প শেষ হয়েছে এগুলো হলো পূর্বাচল পানি সরবরাহ প্রথম ফেজ এবং কিডনি ডায়ালিসিস। সাতটি প্রকল্পে চুক্তি স্বাক্ষর-পরবর্তী শর্তাবলি পূরণ এবং ফিন্যানশিয়াল ক্লোজিংয়ের কাজ চলমান।
চিঠিতে বলা হয়, চুক্তি স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে একটি প্রকল্প। ১৮টি প্রকল্প প্রকিউরমেন্ট পর্যায়ে রয়েছে। ২৫টি প্রকল্পেও সম্ভাব্য সমীক্ষার কার্যক্রম চলমান। সাতটি প্রকল্পে পরামর্শ নিয়োগের কাজ চলছে। এ ছাড়া জিটুজি (সরকার টু সরকার) পিপিপি নীতিমালার আওতায় জাপানের সঙ্গে সাতটি, কোরিয়ার সঙ্গে পাঁচটি এবং সিঙ্গাপুর, দুবাই এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে একটি করে প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। যেখানে সম্ভাব্য বিনিয়োগ ব্যয় দুই হাজার কোটি ডলার।
সমীক্ষার কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করা প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বে টার্মিনাল, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল, আউটার রিং রোড এবং মাল্টি মোডাল হাব। এ ছাড়া ২০২৩ সালে পূর্বাচল পানি সরবরাহ প্রথম ফেজের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে।
মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে রামপুরা-আমুলিয়া-ডেমরা এক্সপ্রেস ওয়ে প্রকল্প, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে প্রকল্প, ঢাকা বাইপাস প্রকল্প এবং গাবতলী-সাভার-নবীনগর এক্সপ্রেস ওয়ে প্রকল্প। এ ছাড়া ক্যাবিনেট কমিটি অব ইকোনমিকস অ্যাফেয়ার্স (সিসিইএ) কর্তৃক নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৃতীয় টার্মিনালের অপারেশন ও মেইটেন্যান্স, ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। ১৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পিপিপি প্রকল্পে অর্থায়নে সহযোগিতার জন্য পিপিপি ফিন্যানশিয়াল পার্টনারশিপ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পিপিপি কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক মো. আবুল বাশার গণমাধ্যমে বলেন, ‘গত ১০ বছরে পিপিপিতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন না হলেও সন্তোজনক। কিছুটা দীর্ঘসূত্রতা থাকলেও বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ থাকায় এতে ঝুঁকি কম। এ ছাড়া এসব প্রকল্প গুণগত মান সেবা এবং টেকসই হয়। তবে পিপিপির চ্যালেঞ্জ অর্থায়ন এবং জমি অধিগ্রহণ।’
পিপিপি নিয়ে জানতে চাইলে ব্যবসায়ী নেতা আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (অ্যামচেম) সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘পিপিপি আইন হয়েছে দেরিতে এবং এর অস্পষ্টতার ফলে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ কম এবং প্রকল্প বাস্তবায়নও দেরি হয়। এ জন্য একটি প্রকল্পে সরকার কী দেবে, ব্যবসায়ীদের লাভের অংশ কী হবে—এটা পরিষ্কার করতে হবে।’
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিব্যবস্থা। এতে জনগণকে সেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত বিনিয়োগ করে থাকে। সরকারের সঙ্গে বেসরকারি খাতের চুক্তি হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বড় বড় স্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন বা নির্মাণ—এ পদ্ধতিতে হয়েছে। সূত্র; কালের কণ্ঠ








