
সিল্কসিটি নিউজ ডেস্ক:
‘রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ৩২ টাকার পটোল যেমন শান্তিনগর বাজারে গিয়ে ৮০ টাকা কেজি হয়ে যায়, তেমনি ইসলামপুরের ২০০ টাকা গজের কাপড় গুলশানে গেলে হয়ে যায় ৫০০ টাকা গজ। বাজারে এভাবে পণ্য মূল্যবৃদ্ধি রোধে আমাদের কাজ করতে হবে। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবেন, লাভ করতে হবে। তাই বলে এত বেশি লাভ করতে হবে কেন, একটা যৌক্তিক পর্যায়ে তো লাভ করতে হবে।’ কথাগুলো বলেছেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার অধিদপ্তরের সভাকক্ষে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তৈরি পোশাক, কাপড় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ভোক্তার ডিজি বলেন, ‘ফিক্সড প্রাইসের দোকানে কাপড়ে নতুন করে স্টিকার লাগিয়ে দাম পরিবর্তন করা হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত বছরও আমরা এ বিষয়টি দেখেছি। ঈদ সামনে রেখে কমপক্ষে তিন মাস আগে থেকেই আপনাদের যাঁদের ব্র্যান্ডের দোকান আছে, তাঁদের উৎপাদনকেন্দ্রিক পরিকল্পনা, প্রস্তুতি থাকে। সে অনুযায়ী প্রডাকশন হয়। তার মানে উৎপাদন খরচ, লাভ সব আগে থেকেই ঠিক হয়ে থাকে। কিন্তু দিনের ব্যবধানে, সময়ের ব্যবধানে বা চাহিদার ব্যবধানে এসব দাম পরিবর্তন হয়ে যায় নতুন দামের স্টিকার লাগিয়ে। এসব করবেন না প্লিজ।’
ভোক্তা অধিকারের মহাপরিচালক বলেন, ‘রমজান সামনে রেখে ব্রয়লার মুরগির বাজার অ্যাবনরমাল আচরণ শুরু করেছিল। আমরা সেখানে নজর দিয়েছি, আমাদের পদক্ষেপের ফলে এবং একসঙ্গে সবাই কাজ করার ফলে এটি এখন স্বাভাবিক অবস্থায় এসেছে। আমরা ঈদ সামনে রেখে ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে মাঠ পর্যায়ে আরো কাজ করব। কেনাকাটা থেকে শুরু করে যেসব জায়গায় ভোক্তাদের সরাসরি স্বার্থ জড়িত সেই বিষয়গুলো আমরা আমলে নিয়ে মাঠে নামব। পাশাপাশি ঈদ সামনে রেখে গণপরিবহনের টিকিটের সংকট, অতিরিক্ত দাম আদায় করা হয় ভোক্তাদের কাছ থেকে। এবার যেন এগুলো না হয়, যাত্রীরা যেন সঠিকভাবে, ভালোভাবে এগুলো সংগ্রহ করতে পারে সে জন্য আমরা এ জায়গাতেও অভিযান পরিচালনা করব।’
মতবিনিময়সভায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারসহ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তৈরি পোশাক, কাপড় ব্যবসায়ী ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আরো উপস্থিত ছিলেন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালকরা, ডিজিএফআইয়ের প্রতিনিধি, এনএসআইয়ের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের প্রতিনিধি, আড়ং, আটিসান, অঞ্জনস, টপটেন, লুবনান, নগরদোলা, রং বাংলাদেশ ইত্যাদি ব্র্যান্ডসহ বিভিন্ন কাপড়ের ব্যবসায়ীরা।
অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কাপড়ের গুণগত মান যেন ভালো থাকে এবং বিদেশি যাঁরা আসেন তাঁরা যেন কাপড়ের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারেন। কাপড়ের প্রাইস ট্যাগ যেন ফ্যাক্টরিতে লাগানো হয়; শোরুম পর্যায়ে যেন প্রাইস ট্যাগ লাগানো না হয়। এর ব্যত্যয় হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সূত্র: কালের কণ্ঠ








