
৪৩তম বিসিএসে আবেদনের জন্য bpsc.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে Online Application for 43th BCS-এ ক্লিক করে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। এরপর General Cadre, Technical Cadre ও Both Cadre—এই তিন অপশন থেকে কাঙ্ক্ষিত বাটনটি ক্লিক করে যথাযথভাবে অনলাইন ফরম পূরণ করতে হবে। অনেকে আগাম ধারণা না নিয়েই আবেদন করতে বসেন। না বুঝে কয়েক ধাপ এগোলেই খুঁটিনাটি অনেক বিষয়েই বিভ্রান্তিতে পড়ে যান। তাই বুঝেশুনে আবেদন করতে হবে।
১. আবেদন বা ফরম পূরণের সময় যেসব ব্যাপারে খেয়াল রাখবেন—
Personal Information

♦ প্রার্থীর নিজের নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, জন্ম তারিখ, এসএসসি সার্টিফিকেটে যেভাবে আছে সেভাবেই লিখতে হবে। এসএসসি সার্টিফিকেটে না থাকলে মা-বাবার নামের আগে নতুন করে মৃত/হাজি/অন্য কোনো নতুন শব্দ লেখা যাবে না। জন্ম তারিখ ভুল লিখলে প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
♦ Employment Status-এ প্রার্থী বেকার হলে Not Employment, রাজস্ব খাতের সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকলে Regular Basis Under Revenue Budget, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে Autonomous or Semi-autonomous Organization, বেসরকারি হলে Private Organization সিলেক্ট করতে হবে। এই অংশে প্রার্থী চাকরিজীবী হলে মৌখিক পরীক্ষার সময় বিভাগীয় ছাড়পত্র, পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরমে কর্মরত প্রতিষ্ঠানের তথ্য পূরণসহ বাড়তি কিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।
♦ প্রার্থী নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী (Ethnic Minority) অথবা প্রতিবন্ধী (Disability) হলে নির্ধারিত অপশন থেকে সেগুলো নির্বাচন করতে হবে। প্রার্থীর উচ্চতা ইঞ্চিতে কনভার্ট করে লিখতে হবে। ওজন আনুমানিক হলেই হবে (২-৪ কেজি কমবেশি হতে পারে)। মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আগে প্রার্থীকে রেজিস্টার্ড চিকিৎসক থেকে ওজন ও উচ্চতার প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে কোনো ক্যাডারের ওজন ও উচ্চতার আবশ্যিক শর্তের সঙ্গে প্রার্থীর ওজন ও উচ্চতা না মিললে সেই ক্যাডার পছন্দক্রমে রাখা ঠিক হবে না।
♦ বর্তমান আর স্থায়ী ঠিকানা সম্ভব হলে অভিন্ন দেওয়াই ভালো। পরে ওই প্রার্থী সুপারিশপ্রাপ্ত হলে তখন এক ঠিকানায়ই পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে। মেয়েদের ক্ষেত্রে স্থায়ী ঠিকানায় বাবার ঠিকানা ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো।
♦ পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে যে স্থানের নাম নির্বাচন করা হবে, সে কেন্দ্রেই প্রার্থীকে প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্র পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। সব প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত সরকারি কর্ম কমিশন কার্যালয়ে হবে।
♦ প্রার্থী প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ইংরেজি সংস্করণে দিতে ইচ্ছুক হলে Question Version : English-এ টিক দিতে হবে। তবে লিখিত পরীক্ষা প্রার্থী ইচ্ছামতো যেকোনো ভার্সনে দিতে পারবেন।
এ ক্ষেত্রে এক বিষয়ের পুরো খাতা যেকোনো এক (বাংলা/ ইংরেজি) ভাষায় লিখতে হবে।
২. Educational Qualifications
—এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক, স্নাতকোত্তরের (যদি থাকে) তথ্যগুলো প্রার্থীর সার্টিফিকেট দেখে দেখে লিখলে ভুল হওয়ার আশঙ্কা কমে যাবে। স্নাতকের বিষয়/ডিগ্রি অপশনে প্রার্থীর ডিগ্রি বা বিষয়ের নাম না থাকলে Others অপশনে সাবজেক্টের নাম লিখতে হবে। প্রার্থীর স্নাতক বিষয়ের ওপর তার জন্য প্রযোজ্য ক্যাডার তালিকা দৃশ্যমান হবে। অ্যাপিয়ার্ড দিয়ে আবেদন করার ক্ষেত্রে, পরীক্ষা শুরু ও শেষের তারিখ লিখতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সময়, ‘আবেদনের শেষ তারিখের মধ্যে প্রার্থীর সব বিষয়ের পরীক্ষা শেষ হয়েছিল’ মর্মে বিভাগীয় প্রধানের প্রত্যয়নপত্র ভাইভা বোর্ডে জমা দিতে হবে।
৩. Cadre Option
—এই অংশে প্রার্থীর পছন্দক্রম অনুযায়ী ক্যাডার তালিকা তৈরি করতে হবে।
Application Preview
এই অংশে প্রার্থীর পূরণকৃত সব তথ্য দৃশ্যমান হবে এবং কোনো ভুলত্রুটি হলে সংশোধনের সুযোগ পাওয়া যাবে। এখানে প্রার্থীর 300×300 পিক্সেলের একটি পাসপোর্ট সাইজের ছবি (সর্বোচ্চ ১০০ কিলোবাইট) ও 300×80 পিক্সেলের একটি স্বাক্ষর (সর্বোচ্চ ৬০ কিলোবাইট) নির্ধারিত বক্সে আপলোড করে আবেদন চূড়ান্তভাবে সাবমিট বা জমা দিতে হবে। বলে রাখা ভালো, স্বাক্ষর মানে প্রার্থীর হস্তলিখিত চিহ্ন, এটি প্রার্থীর বাংলা বা ইংরেজি নাম বা নামের অংশ হতে পারে। তবে স্বাক্ষর যথাসম্ভব ছোট হওয়া ভালো। বিসিএসের সব প্রক্রিয়ায় প্রার্থীকে দীর্ঘদিন এবং অনেকবার এই স্বাক্ষর ব্যবহার করতে হবে।
Applicants Copy
আবেদন চূড়ান্তভাবে সাবমিট করার পর User ID সংবলিত একটি Applicants Copy দৃশ্যমান হবে। Applicants Copy ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করতে হবে। User ID ব্যবহার করে যথাযথ নির্দেশনা অনুসরণ করে টেলিটক সিমের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি জমা দিতে হবে। ফি জমাদান সম্পন্ন হলে টেলিটক থেকে একটি Password দেওয়া হবে। User ID ও Password ব্যবহার করে প্রার্থীর অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড ও সংরক্ষণ করতে হবে।
সুত্রঃ কালের কণ্ঠ









