রাজনীতি

রাষ্ট্রপতি চাইলেই সার্চ কমিটি ও নির্বাচন কমিশনারদের নাম দেবে বিএনপি

নিউজ ডেস্ক১৭ ডিসেম্বর ২০১৬৫ মিনিট পড়া

নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন ইস্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে বিএনপির সংলাপ রবিবার (১৮ ডিসেম্বর)। এই সংলাপে তাদের দেওয়া ১৮ নভেম্বরের প্রস্তাব নিয়েই মূল আলোচনা করতে চায় দলটি। এই দিন রাষ্ট্রপতি জানতে চাইলে সার্চ কমিটির সম্ভাব্য সদস্য এবং নতুন ইসিতে কারা থাকতে পারেন, তাদের নাম দেবে বিএনপি। দলটির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

 

১৮ ডিসেম্বর বিকাল চারটায় বঙ্গভবনে যাচ্ছে বিএনপির ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। দলটির নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির চেয়ারপারসন প্রধান খালেদা জিয়া। এছাড়া মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির আটজন সদস্য রয়েছেন।

 

জানতে চাইলে প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত স্থায়ী কমিটির আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘রবিবার রাষ্ট্রপতি মহোদয়ের সঙ্গে আমাদের প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা করতে চাই। সার্বিকভাবে দলের চেয়ারম্যানের প্রস্তাবনার ওপরেই আলোচনার আশা করছি। কোনও নাম প্রস্তাব তো করব না। রাষ্ট্রপতি মহোদয় চাইলেই আমরা পরে নাম দেব।’ এক্ষেত্রে সার্চ কমিটি, নাকি নির্বাচন কমিশনার, কাদের নাম দেবেন—এমন প্রশ্নে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘না না, তিনি চাইলেই সেটা দেব। না চাইলে কিভাবে দেব।’

 

‘রাষ্ট্রপতি আগ্রহ দেখালে বিএনপি অবশ্যই নাম প্রস্তাব করবে’—এমন তথ্য দিলেন স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি জানান, ‘রাষ্ট্রপতি যদি নাম দিতে বলেন, তাহলেই বিএনপি নাম দেবে।’

 

একজন সাংগঠনিক সম্পাদক জানান, ‘রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তো বারবার বৈঠক হবে না। ফলে বিএনপির প্রস্তুতি অবশ্যই থাকবে।’

 

কার কার নাম আসতে পারে—এ নিয়ে কথা হয় বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে। তারা সুনির্দিষ্টভাবে কোনও নাম এখনও মেনশন করতে পারেননি। তবে ক্যাটাগরি উল্লেখ করে বিএনপির এই সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ‘‘সার্চ কমিটির প্রধান হিসেবে সাবেক তিন প্রধান বিচারপতির একজনকেই পছন্দ করা হচ্ছে। বাকি চারজনের মধ্যে একজন নারী রেখে তিনজনের মধ্যে ‘বিশিষ্টজনকে’ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে রাষ্ট্রপতির কাছে।’’

 

এদিকে খালেদা জিয়ার ১৮ নভেম্বরের প্রস্তাবে এমন বক্তব্যই ছিল। তিনি বলেছিলেন, বাছাই কমিটির আহ্বায়ক হবেন বাংলাদেশের অবসরপ্রাপ্ত এবং কর্মক্ষম একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি (জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে) যিনি বিতর্কিত নন এবং অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোনও লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত নন, ছিলেন না। বাছাই কমিটির সদস্য হবেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতি যিনি বিতর্কিত নন এবং অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোনও লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত নন বা ছিলেন না।

 

দ্বিতীয়ত, সরকারের অবসরপ্রাপ্ত সৎ ও দল নিরপেক্ষ একজন সচিব, যিনি বিতর্কিত নন এবং অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোনও লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত নন বা ছিলেন না। তবে অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন, এমন কোনও কর্মকর্তা বাছাই কমিটির সদস্য হতে পারবেন না।

 

তৃতীয়, অবসরপ্রাপ্ত সৎ এবং দল নিরপেক্ষ একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, যিনি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হিসেবে সুখ্যাত এবং যিনি অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোনও লাভজনক পদে  অধিষ্ঠিত নন বা ছিলেন না অথবা দল নিরপেক্ষ সর্বজন শ্রদ্ধেয় একজন বিশিষ্ট নাগরিক। চতুর্থত, সর্বজন শ্রদ্ধেয় দল নিরপেক্ষ একজন সৎ, দক্ষ ও যোগ্য জ্যেষ্ঠ নারী।

 

খালেদা জিয়ার প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দল, অথবা স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে, এমন প্রত্যেক রাজনৈতিক দল, অনুচ্ছেদ-২-এ বর্ণিত পদ্ধতিতে, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অনুষ্ঠিত পৃথক পৃথক বৈঠকে বাছাই কমিটির সদস্য নিয়োগের জন্য প্রতি পদের বিপরীতে ২ (দুই) জনের নাম-পরিচয়সহ সুস্পষ্ট প্রস্তাব লিখিতভাবে পেশ করবে।

 

রবিবারের সংলাপে ঠিক ১০টি নামই বিএনপি দেবে, নাকি নির্বাচন কমিশনারদের নামও প্রস্তাব করবে, এ নিয়ে সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। দলের তিনজন ভাইস চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান, কার-কার নাম প্রস্তাব করা হবে, এখনও তারা জানতে পারেননি। এক্ষেত্রে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে।

 

স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘দলীয় প্রধানের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। রাষ্ট্রপতি বাছাই কমিটির নাম চাইলে নিশ্চয় নাম দেবে বিএনপি। তবে কার-কার নাম প্রস্তাব করা হবে, তা বলতে পারব না। আমি জানি না।’

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির সিনিয়র একজন ভাইস চেয়ারম্যান জানান, ‘নামের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। গোপনীয়তা রক্ষার অন্য কারণ রয়েছে। বিএনপি কোনোভাবেই চাইছে না, বাছাই কমিটি বা নির্বাচন কমিশনে কারা আসতে পারেন, তাদের নাম এখনই প্রকাশিত হোক। এক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষা করলে একই নাম একাধিক দলও প্রস্তাব করতে পারে। আগে-আগে প্রকাশিত হলে এই পথটি বন্ধ হয়ে যেতে  পারে।’

 

একজন ভাইস চেয়ারম্যান জানান, এ ব্যাপারে গোপনীয়তা রক্ষা করতে রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করবে বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘মিটির একজন সদস্য বলেন, ‘আমরা তো পরশ পাথর পাব না। সমাজে এখনও দলনিরপেক্ষ বুদ্ধিজীবী-বিশিষ্টজন, সরকারি আমলা আছেন। তাদের দিয়েই বাছাই কমিটি করা যেতে পারে।’

 

বিএনপির আরেক ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচন কমিশন গঠন,  এর আগে বাছাই কমিটি ও কমিশনারদের নাম নিয়ে আলোচনা করবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে। একইসঙ্গে নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়েও দলীয় সর্বোচ্চ বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে রাষ্ট্রপতির কাছে।’

 

প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর বিএনপিসহ ৫টি রাজনৈতিক দলকে নির্বাচন কমিশন গঠন ইস্যুতে আলোচনার জন্য বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বিএনপির সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে এই সংলাপ শুরু হচ্ছে ১৮ ডিসেম্বর রবিবার। এছাড়া ২০ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টি, ২১ ডিসেম্বর এলডিপি ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও ২২ ডিসেম্বর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) (ইনু) সঙ্গে আলোচনায় বসবেন রাষ্ট্রপতি।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন