চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত রাজধানীর কবরস্থানগুলোতে মাসওয়ারি দাফনসংখ্যার মধ্যে ধারাবাহিকতা থাকলেও হঠাৎ মে মাসে সে সংখ্যা বেড়েছে। এই বৃদ্ধিকে ‘অস্বাভাবিক’ বলেছেন কবর খোঁড়ার দায়িত্বে থাকা শ্রমিকরা।
আজিমপুর কবরস্থানের শ্রমিক মো. মোনা মিয়া বলেন, ‘২৬ বছর ধরে এই কবরস্থানে কাজ করছি। শুরুর দিকে কবরস্থানে লাশ কম আসত; কিন্তু ধীরে ধীরে সেই সংখ্যা বাড়তে থাকে। এ বছর অন্যান্য মাসে লাশ দাফনের সংখ্যা তেমন একটা বেশি ছিল না। কিন্তু গত মাস থেকে (মে) লাশের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। এর আগে এক দিনে এত লাশ দেহি নাই।’
তিনি জানান, মে মাসের আগে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২০টি লাশ আসত। কিন্তু এখন সেই সংখ্যা ৩০-৩৫টির মতো। জুন মাসের প্রথম ১০ দিন লাশের সংখ্যা আরো বেশি ছিল।

জানা গেছে, চলতি জুন মাসের ৯ তারিখ পর্যন্ত ৩৫৩ জনকে দাফন করা হয়েছে আজিমপুর কবরস্থানে। ১০ তারিখ সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দাফন করা হয়েছিল আটজনকে।
স্থানীয় কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র নিয়ে লাশ দাফন করার সংখ্যা বেড়েছে। ২০১৯ সালে প্রতি মাসে গড়ে ৭৭৫ জনকে কবর দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কবরস্থানের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা। কিন্তু চলতি বছরের মে মাসে কবরস্থানটিতে দাফন করা হয়েছে এক হাজার ৩৪ জনকে। করোনাভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা অনেক সময় তথ্য গোপন করে ছিল বলে ধারণা শ্রমিকদের। কিন্তু কবর খোঁড়া বা কবরে শায়িত করতে কোনো ধরনের সংকোচ বা ভীতি কাজ করে না তাঁদের।
মোনা মিয়া বলেন, ‘লাশ নিয়ে আহে, আমরা কবর দেই। কারণ এই কাজে কোনো অসহযোগিতা করলে আল্লাহও মাফ করবে না। করোনা নিয়ে মারা গেলেও আমরা কোনো ধরনের সমস্যা করি না, যা করবে আল্লায়ই।’
তাঁর মতে, সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত কবরস্থানে লাশ আসে। রাত ১১টার দিকেও লাশ এলে কবর খোঁড়েন তাঁরা। এখন সকালে ও রাতে লাশ বেশি আসে। আগে দীর্ঘ সময় কবরের পাশে থাকতে চাইতেন স্বজনরা; কিন্তু এখন অনেক লাশের সঙ্গে আসা ব্যক্তিরা দ্রুত কবরস্থান ত্যাগ করতে চান।
আজিমপুর কবরস্থানের সহকারী মোহরার মো. নূরুল হুদা বলেন, ‘ছুটির সময় লাশ নিয়ে বাড়িতে যেতে পারেনি অনেকে। এ ছাড়া করোনার লক্ষণ নিয়ে মারা গেলেও কাউন্সিলরের প্রত্যয়ন থাকায় আমরা দাফনের অনুমতি দিতে বাধ্য হই। তাই হয়তো সংখ্যাটা বেড়েছে।’








