অর্থ ও বাণিজ্য

জিডিপি নিরূপণ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা জরুরি

নিউজ ডেস্ক৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০৮ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নির্ণায়ক সূচক হিসেবে জিডিপি (গ্রস ডমেস্টিক প্রোডাক্ট) বহুল প্রচলিত এবং সম্ভবত একমাত্র উপায়। কিন্তু জিডিপি প্রক্ষেপণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার সত্যিকার প্রতিফলন ঘটে না।

তাই অনেকেই মনে করছেন, সাধারণ মানুষের জীবনমান সত্যিকারভাবে প্রতিফলিত করার জন্য জিডিপি নির্ধারণের বর্তমান পদ্ধতির সংস্কার-আধুনিকায়ন, প্রয়োজনে পরিবর্তন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

একটি দেশের অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছর) যে পণ্য ও সেবা উৎপাদিত হয়, তার মোট মূল্যই হচ্ছে জিডিপি। টোটাল জিডিপি ডিভাউডেড বাই টোটাল পপুলেশন সমান সমান পারক্যাপিটা জিডিপি বা মাথাপিছু জিডিপি।

জিডিপির মাধ্যমে একটি দেশের অর্থনীতির আকার এবং শক্তি প্রকাশ করা হয়। বিশ্বব্যাপী এটাই অর্থনৈতিক সামর্থ্য বা শক্তি নির্ধারণের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য এবং বহুল আচরিত পদ্ধতি। কিন্তু বর্তমানে যে পদ্ধতিতে জিডিপি নির্ধারণ করা হচ্ছে, তা অসঙ্গতিপূর্ণ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অযৌক্তিকও বটে। কারণ এভাবে হিসাবকৃত জিডিপির মাধ্যমে একটি দেশের অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায় না।

এ ছাড়া বেশিরভাগ দেশের সরকারই তার অর্থনৈতিক সাফল্য প্রদর্শনের জন্য জিডিপির আকারকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখিয়ে থাকে। যেমন- কোনো কোনো অর্থনীতিবিদ অভিযোগ করে থাকেন, ভারতীয় জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে হার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শন করা হয়ে থাকে, তা দেশটির প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি। বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে বিস্ময়কর অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করে চলেছে। এটা কেউই অস্বীকার করতে পারবে না।

তারপরও জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে উন্নয়ন সহযোগীদের কেউ কেউ বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে দ্বিমত প্রকাশ করে থাকে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক প্রতি বছর বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে যে প্রাক্কলন প্রকাশ করে, তা সরকারের প্রদর্শিত জিডিপি প্রবৃদ্ধির চেয়ে প্রায় ১ শতাংশ কম।

বছর চলে যায়, কিন্তু সরকার বা উন্নয়ন সহযোগীরা কেউই তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সরে আসে না।

সরকারি চূড়ান্ত হিসাবে বলা হয়েছে, গত অর্থবছরে (২০১৮-১৯) বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। কিন্তু উন্নয়ন সহযোগীরা জিডিপি প্রবৃদ্ধির এ হারকে স্বীকার করছে না।

তারা প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা কম দেখাচ্ছে। আরও বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, বর্তমানে চীন-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিরোধের কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা বিরাজ করছে।

এ অবস্থায় বৈশ্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার কেমন হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ভিন্ন ভিন্ন প্রক্ষেপণ প্রকাশ করছে। অর্থাৎ একটি সংস্থার প্রক্ষেপণের সঙ্গে অন্য সংস্থার তথ্যের কোনো মিল নেই। বিশ্ব তো একটাই, সুতরাং প্রবৃদ্ধির হার নিশ্চয়ই একই রকম হবে। তাহলে তথ্যের এ ভিন্নতা কেন? এর অর্থ হচ্ছে, একটি সংস্থার সঙ্গে আরেকটি সংস্থার হিসাব করার কৌশলের মধ্যে কোনো মিল নেই।

উদ্বেগের বিষয়, নানা ধরনের পদ্ধতিগত দুর্বলতার কারণে একটি দেশের অর্থনীতির সব অর্জন জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারছে না। বাংলাদেশের জিডিপির আকার এবং প্রবৃদ্ধির যে হার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শন করা হচ্ছে, প্রকৃত জিডিপির আকার এবং প্রবৃদ্ধির হার তার চেয়ে অনেক বেশি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের জিডিপিতে অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মকাণ্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না।

বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে যেসব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হচ্ছে এবং মহিলারা পরিবারের জন্য যে কাজ করছে, তার আর্থিক মূল্য জিডিপিতে যুক্ত হচ্ছে না।

একটি সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে যে অনানুষ্ঠানিক আর্থিক কর্মকাণ্ড সম্পাদিত হয় এবং মহিলারা পরিবারের জন্য যে অবদান রাখে, তার মূল্যায়ন করা হলে জিডিপির আকার অন্তত ৮৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেত।

এ পরিসংখ্যানে হয়তো অতিরঞ্জন থাকতে পারে; কিন্তু এটি তো কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না যে, মহিলাদের গৃহকর্ম এবং অন্যান্য অনানুষ্ঠানিক কাজের কোনো মূল্যায়ন বর্তমান পদ্ধতিতে নিরূপিত জিডিপিতে প্রতিফলিত হচ্ছে না।

অথচ মহিলাদের সব কাজই আর্থিকভাবে মূল্যায়িত হতে পারে। মহিলারা যে শিশুদের বুকের দুধ পান করান, তারও আর্থিক মূল্যায়ন হতে পারে। যেহেতু মহিলাদের গৃহকর্ম এবং অন্যান্য পারিবারিক ও সামাজিক কাজের কোনো মূল্যায়ন জিডিপিতে হয় না, তাই তারা সামাজিকভাবে বড়ই অসহায় অবস্থায় রয়েছেন।

আমরা জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে উল্লসিত হই; কিন্তু একবারও কী ভেবে দেখি এ প্রবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ কতটুকু? উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের কথাই উল্লেখ করা যেতে পারে।

বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক তৃতীয় মেয়াদে বাংলাদেশ অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি সেক্টরেই বিস্ময়কর উন্নতি অর্জন করে চলেছে। জাতিসংঘের রেটিং অনুযায়ী, বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই উন্নয়নশীল দেশের প্রাথমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

উন্নয়নের এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ চূড়ান্তভাবে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে। স্বাধীনতাত্তোর অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এটাই সবচেয়ে বড় অর্জন।

এক সময় যারা বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে আখ্যায়িত করত, এখন তারাও বাংলাদেশের বিস্ময়কর অর্থনৈতিক সাফল্যকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু তারপরও কি আমরা দাবি করতে পারছি, অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল সবাই ন্যায্যতার ভিত্তিতে ভোগ করতে পারছে?

একদল লোক বৈধ-অবৈধ উপায়ে বিত্তের পাহাড় গড়ে তুলছে। উপার্জিত সম্পদ সামান্য কিছু মানুষের হাতে গিয়ে পুঞ্জীভূত হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জোরদার হচ্ছে।

অনেকেই দরিদ্র পরিবারের খোলস ভেঙে নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের কাতারে উঠে আসছে। কিন্তু অনেকেই আবার দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হচ্ছে। তাদের খোঁজ কেউ রাখে না। সমাজে বিত্তবান এবং বিত্তহীনের মাঝে সৃষ্ট ব্যবধান দ্রুত বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনেও বিষয়টি উঠে আসছে। ধনবৈষম্য নির্ধারণকারী সূচক গিনি কোয়েফিশিয়েন্ট বা গিনি ইনডেক্স অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিত্তবান-বিত্তহীনের মাঝে বিরাজমান বৈষম্য অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বাড়ছে।

১৯৭২ সালে এ বৈষম্যের সূচক ছিল শূন্য দশমিক ৩৮৮। ২০১০ সালে এসে তা শূন্য দশমিক ৪৫৮-এ উন্নীত হয়। ২০১৬ সালে এটি শূন্য দশমিক ৪৮২-এ উন্নীত হয়েছে। ১৯৭২ সালে বিত্তবান এবং বিত্তহীনের বৈষম্য ছিল অনেকটাই সহনীয় পর্যায়ে। বর্তমানে তা অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে। অথচ বাংলাদেশ এ সময়ের মধ্যে অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি সেক্টরেই এগিয়ে গেছে।

২০১৭ সালে হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট জিডিপির পরিমাণ হচ্ছে ২০৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের পরিসংখ্যান মোতাবেক, বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু গড় জিডিপির পরিমাণ হচ্ছে ১ হাজার ৯০৬ মার্কিন ডলার। এটি মানুষের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার চিত্র নয়। কারণ এমন মানুষও আমাদের দেশে আছেন, যার প্রতি মিনিটের আয় ও গড় মাথাপিছু গড় জাতীয় আয়ের চেয়ে বেশি। একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে।

ধরুন, একজন কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ে ১ কোটি টাকা আয় করলেন। আর একজন দরিদ্র মানুষ একই সময়ে ৫০ হাজার টাকা আয় করলেন। তাহলে তাদের মাথাপিছু গড় জাতীয় আয়ের পরিমাণ হবে ৫০ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এটা কি তাদের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার প্রতিফলক হল?

মাথাপিছু জাতীয় গড় আয় বা গড় ব্যয় দ্বারা কখনোই একজন মানুষের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। গড় আয় বা এ ধরনের মূল্যায়নের ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দরিদ্র শ্রেণির মানুষ।

তাদের আর্থিক অবস্থা ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো হলেও তারা থাকেন আর্থিক দীনতার মধ্যে। কয়েকদিন আগের আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের দিক থেকে ভিয়েতনামের মানুষের অবস্থান সবার শীর্ষে।

এমনকি চীন এবং মালয়েশিয়া বা সিঙ্গাপুরের মতো দেশও ভিয়েতনামের মানুষের মতো এত সঞ্চয় করে না। এ সংবাদটি পাঠ করে যে কোনো মানুষের মনে হতে পারে, নিশ্চয়ই ভিয়েতনামের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা আমাদের দেশের মানুষের চেয়ে অনেক ভালো। কিন্তু আসলে বিষয়টি সে রকম নয়। ভিয়েতনামের জনগণের জন্য সরকারি নিরাপত্তা বেষ্টনী খুবই দুর্বল।

তাই তারা পরিণত বয়সে জীবন ধারণের জন্য যে কোনো উপায়ে হোক সঞ্চয় করে থাকে। ভিয়েতনামের সাধারণ মানুষের এ অতিমাত্রায় সঞ্চয়প্রবণতার কারণে সে দেশের উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ কমে গেছে। সাধারণ মানুষ বিনিয়োগের মতো ঝুঁকি নিতে চায় না; বরং তারা সঞ্চয় করে শেষ জীবন নিরাপদে কাটাতে চায়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিশ্বের এক নম্বর অর্থনৈতিক শক্তি। কিন্তু তাই বলে এটি মনে করার কোনো কারণ নেই যে, সে দেশের সব মানুষই বিত্তবান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেমন আকাশভেদী উচ্চ ভবন দেখতে পাওয়া যায়, তেমনি রাত্রি বেলায় পার্কের উন্মুক্ত বেঞ্চে দরিদ্র মানুষকে খোলা আকাশের নিচে ঘুমাতে দেখা যায়।

আমাদের দেশে দারিদ্র্য বিমোচন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে। এমনকি উৎপাদন বাড়ানোর জন্য নানা প্রণোদনামূলক সুবিধা দেয়া হচ্ছে; কিন্তু সেই ব্যবস্থাগুলো কতটা কার্যকর হচ্ছে অথবা জনকল্যাণ সাধন করছে, তা কি আমরা একবারও ভেবে দেখি?

বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। প্রায় তিন দশক ধরে দ্রুত গতিতে ধাবমান উদীয়মান অর্থনীতি এবং বাজারগুলো তাদের উন্নয়নের গতি হারানোর পর্যায়ে চলে এসেছে। সাধারণ মানুষ তার জীবনমান ধরে রাখার জন্য সংগ্রাম করছে। চীনের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধিও আগের মতো ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে নেই। চীন, ভারত, সাবসাহারান আফ্রিকা এবং ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোর জিডিপি প্রবৃদ্ধি আগামীতে আরও নিম্নমুখী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এ পতনোন্মুখ অবস্থায় জিডিপি প্রবৃদ্ধি নির্ধারণের সনাতনী কৌশল থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নোবেল বিজয়ী ভারতীয় বংশোদ্ভূত অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেন, একটি দেশের অর্থনীতিকে কার্যকরভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে দেশের প্রান্তিক জনগণের উন্নয়ন আগে দরকার।

এ কৌশলকে তিনি ‘গোয়িং স্মল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি দরিদ্র মানুষের জন্য নিড বেইজড অ্যাপ্রোচের কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণের চেয়ে মশারি বিতরণের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে তারা ম্যালেরিয়ার কবল থেকে নিজেদের বাঁচাতে পারে। শিশুদের জন্য চকোলেট বিতরণের চেয়ে কৃমিনাশক ট্যাবলেট বিতরণ করাই বেশি জরুরি, যাতে সে সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পারে।

দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হচ্ছে সাধারণ প্রান্তিক জনগণ, যারা প্রতিনিয়তই দারিদ্র্যের মাঝে বসবাস করেন। তারাই দেশের উন্নয়নের চাকা সচল রাখে। দেশের অর্থনীতির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে এ প্রান্তিক মানুষগুলোর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হবে।

অনেকেই অবশ্য এ থিউরির বিরোধিতা করেন এই বলে যে, যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসে তখন সাধারণ মানুষ ম্যালেরিয়া থেকে বাঁচার জন্য মশারি বা কৃমিনাশক ট্যাবলেটের চেয়ে খাবারই বেশি কামনা করে। কাজেই সে দিকেও দৃষ্টি রাখতে হবে।

তবে এটি কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না, বর্তমানে প্রচলিত পদ্ধতিতে জিডিপি নিরূপণ করে কোনোভাবেই একটি দেশের অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে না। তাই এ পদ্ধতির সংস্কার এবং প্রয়োজনে নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্য চিন্তা করতে হবে।

এমএ খালেক : অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিষয়ক কলাম লেখক