অর্থ ও বাণিজ্য

আসছে নতুন প্রযুক্তিতে তৈরি ফ্রুটিকা

নিউজ ডেস্ক৬ জানুয়ারি ২০২০৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

মানুষ বা অন্য কিছুর স্পর্শ ছাড়াই আধুনিক পদ্ধতিতে ফ্রুট ড্রিঙ্ক উৎপাদন শুরু করেছে আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ। ভোক্তাদের কাছে আরও স্বাদের ও মানের পানীয় পৌঁছে দিতে তাদের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘ফ্রুটিকা’ উৎপাদনে অত্যাধুনিক ‘এসেপটিক’ প্রযুক্তি চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এসেপটিক প্রযুক্তি হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়াজাতকরণ কৌশল, যেখানে পানীয় জীবাণুমুক্ত রাখতে তরল পণ্যগুলোকে জীবাণুমুক্ত পাত্রে রেখে প্যাকেটজাত বা বোতল ভর্তি করা হয়। ফার্মাসিউটিক্যালস প্লান্টের তাপমাত্রায় রেখে প্যাকেট বা বোতলজাত করা হয়। একই সঙ্গে এ পদ্ধতিতে প্যাকেজিং বা বোতলজাতকরণের সময় কোনো ধরনের বাতাস প্রবেশ করতে পারে না। শিগগির স্বল্প পরিমাণে নতুনভাবে উৎপাদিত ফ্রুটিকা বাজারে আসবে।

মানিকগঞ্জের ধামরাইয়ের কৃষ্ণপুরায় এমনই একটি কারখানা স্থাপন করেছে আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড (এএফবিএল)। ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে জার্মানভিত্তিক প্যাকেজিং ও বোতল মেশিন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ক্রোনস এজির মাধ্যমে এ প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। এশিয়াতে এই প্রথম এমন প্লান্ট স্থাপন করেছে ক্রোনস। এ প্লান্টে প্রতিদিন ১০০ টন পাল্প প্রক্রিয়াজাত করা যাবে। রোববার বেশ কয়েকটি পত্রিকা ও টেলিভিশনের সংবাদকর্মী গিয়েছিলেন এ কারখানা দেখতে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে অবস্থিত আকিজের এগ্রো প্রসেসিং ফ্যাক্টরি থেকে এসেপটিক পদ্ধতিতে তৈরি হয়ে আসা আমের পাল্প ও চিনির পানির মিশ্রণ এ প্ল্যান্টে করা হচ্ছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। এরপর মিশ্রণ চলে যাচ্ছে মূল প্যাকেজিং প্লান্টে। যেখানে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রক্রিয়াজাত করে বোতলজাত হয়ে লেবেল ও প্যাকেজিং হয়ে বের হচ্ছে। বিশাল পরিসরের কারখানা ভবনে কয়েকজন অপারেটর রয়েছেন, যারা মূলত মেশিনগুলোর মনিটর পর্যবেক্ষণ করছেন। এসব মনিটরেই সিগন্যাল দিচ্ছে যথাযথভাবে ফ্রুটিকা বোতলজাত হচ্ছে কিনা।

আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার ও হেড অব প্লান্ট নূর ফেরদৌস জানান, প্রতি ঘণ্টায় ৫৪ হাজার বোতল ফিলিং করা যায়। এ প্রযুক্তিতে কোনো ধরনের প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের দরকার হয় না। সম্পূর্ণ বাতাসবিহীনভাবে বোতল পূর্ণ হয়ে আসে। কোনো কারণে বোতলে সামান্যতম বাতাস প্রবেশ করলেই উৎপাদন প্রক্রিয়া বা মেশিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে এবং লাইনের সব বোতল সরে যাবে। তিনি বলেন, এসেপটিক পদ্ধতিতে তৈরি করা পাল্প কোনো ধরনের রাসায়নিক ছাড়াই দু’বছর সংরক্ষণ করা যায়। এ পাল্প থেকে তৈরি হয় ফ্রুট ড্রিংক ফ্রুটিকা, ম্যাংগোবারসহ অন্যান্য কয়েকটি পণ্য।

তিনি জানান, নয় মাস পর্যন্ত এসব পণ্যের মান যথাযথভাবে বজায় থাকে। কোনো ধরনের ব্যাকটেরিয়া এতে আক্রমণ করতে পারে না। ১৪ শতাংশ আমের পাল্পের সঙ্গে সুগার সিরাপ মিশিয়ে ফ্রুটিকা তৈরি করছে আকিজ। সেপ্টেম্বরে কারখানাটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। নভেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর পর এখন বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে পুরোদমে উৎপাদন করা হবে।

এ কারখানার ডিজিএম তাসলিম উদ্দিন বলেন, এ প্লান্টে এক লাখ ৩৫ হাজার লিটার সিরাপ মিক্সিংয়ের বা মেশানোর ব্যবস্থা রয়েছে। এ জন্য সময় লাগে তিন ঘণ্টা। তাদের মিক্সিং ব্যবস্থাটি এ অঞ্চলে সবচেয়ে বড়। এতে কোম্পানির উৎপাদন ক্ষমতা তিনগুণ বেড়েছে।

আমের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে এএফবিএলের নিজস্ব বাগান। এর বাইরে স্থানীয় আম চাষিদের থেকেও আম সংগ্রহ করে কোম্পানিটি। পূর্ণবয়স্ক আম গাছ থেকে পেড়ে প্রাকৃতিকভাবে পাকানো হয়। এরপর তা বাছাই করে নেওয়া হয় পাল্প তৈরির জন্য। চাঁপাইনবাবগঞ্জে আকিজ এগ্রো প্রসেসিং ফ্যাক্টরিতে এসেপটিক পদ্ধতিতে পাল্প তৈরি করা হয়। সম্পূর্ণ বায়ুমুক্ত অবস্থায় পাল্প ড্রামে ভর্তি করে পাঠানো হয় ধামরাইয়ের কারখানায়। সেখান থেকেই ফ্রুটিকা হয়ে বাজারে আসছে এ পানীয়।