অর্থ ও বাণিজ্য

অপরিপক্ব পেঁয়াজ তোলা অশনিসংকেত: ভরা মৌসুমেও পেঁয়াজ সংকট কাটছে না

নিউজ ডেস্ক৬ জানুয়ারি ২০২০৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

পেঁয়াজ নিয়ে ফের সংকট ঘনীভূত হচ্ছে দেশে। মাঝখানে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করলেও হঠাৎ পেঁয়াজের বাজার ঊর্ধমুখী। তবে সংকট মোকাবেলায় কৃষক তাদের জমি থেকে অপরিপক্ব পেঁয়াজ তুলে বিক্রি করায় আগামী দিনে পেঁয়াজের সংকট বাড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে কৃষক লাভবান হলেও ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় বড় ঘাটতি দেখা দেবে। ব্যবসায়ীদের শঙ্কা, ঘাটতি পূরণ করা না গেলে রমজানে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

সম্প্রতি রাজধানীতে ‘কৃষকের বাজার’ উদ্বোধনকালে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেছিলেন, বাজারে পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ায় কৃষক অপরিপক্ব পেঁয়াজ জমি থেকে তুলে ফেলায় সরকার উদ্বিগ্ন। অনেক জায়গায় পেঁয়াজ এখনও বড়ই হয়নি। এ নিয়ে আমরা শঙ্কিত। তবে শুক্রবার রাজধানীতে সবজি মেলা উদ্বোধনকালে কৃষিমন্ত্রী বলেন, যদি কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, তবে মৌসুমে উৎপাদিত পেঁয়াজ উদ্বৃত্ত থাকবে।

রোববার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন কবীর তার নিজ কার্যালয়ে  বলেছেন, এবার দেশে ২ লাখ ১১ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়। এক জানুয়ারি পর্যন্ত ১ লাখ ২৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে ৬২ হাজার ৩২৯ হেক্টর জমিতে।

তিনি বলেন, দেশের ৬৪টি অঞ্চলে পেঁয়াজ আবাদ হয়। এর মধ্যে কী পরিমাণ অপরিপক্ব পেঁয়াজ উত্তোলন করা হয়েছে, সে তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তবে ৯টি অঞ্চলের পাওয়া তথ্য বলছে, এ পর্যন্ত সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমি থেকে অপরিপক্ব পেঁয়াজ উত্তোলন করা হয়েছে। তবে কিছুদিনের মধ্যে সম্পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে। জমির পরিমাণ আরও বাড়বে।

এদিন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক চণ্ডী দাস কুণ্ডু বলেন, চলমান সংকট দূর করতে ও বেশি টাকায় বিক্রির আশায় কৃষক ক্ষেত থেকে অপরিপক্ব পেঁয়াজ তুলে বাজারে বিক্রি করছেন। এতে এই মৌসুমে পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না। ফলে সমস্যায় পড়তে হবে।

কথা হয় কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমানের সঙ্গে। তিনি  বলেন, মৌসুমে পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সমস্যা হবে- এ খবর ভালো নয়। এতে আমদানিনির্ভরতা আরও বাড়বে। ভারত যদি রফতানি শুরু না করে, তাহলে দাম আরও বাড়বে। অর্থাৎ অন্য বছর পেঁয়াজের দাম মৌসুমে যে পর্যায়ে নেমে আসে, এবার সে হারে দাম নেমে আসার আশা করা যাবে না। ফলে এখনই পেঁয়াজ আমদানির ব্যবস্থা করতে হবে।

রাজধানীর বৃহৎ পাইকারি আড়ত শ্যাম বাজারের ব্যাবসায়ীরা বলছেন, বাজারে এবার যে হারে অপরিপক্ব পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে, এতে সামনে আবারও পণ্যটি নিয়ে সমস্যার তৈরি হতে পারে। সেজন্য উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি বাড়াতে হবে। দ্রুত সরবরাহ ঠিক করা না হলে রমজানের আগেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। ফলে পণ্যটির দাম আরও বাড়তে পারে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, আসন্ন রমজানের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে দুই লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশসহ (টিসিবি) তিনটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ৫০ হাজার টন করে পেঁয়াজ আমদানি করবে। রমজান মাস শুরুর আগেই এগুলো আমদানি করা হবে। তিনি বলেন, বিগত দিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। রমজানে মানুষের প্রয়োজনীয় পণ্যের যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, সেজন্য সবকিছু করা হবে। দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

রোববার রাজধানীর পেঁয়াজের পাইকারি আড়ত শ্যামবাজার ও কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এদিন প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৭০-১৮০ টাকায়। এছাড়া আমদানি করা চীনা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৬৫ টাকা। শনিবার একই দরে বক্রি হয়। এছাড়া রাজধানীর একাধিক খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুচরা পর্যায়ে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হয় ১৯০-২০০ টাকা। চীনা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৮৫-৯০ টাকা।

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি জানান, রাজশাহীর তানোরে ২ দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ৯০-১০০ টাকা। গত বছর ৩১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার পর্যন্ত তানোরের হাটবাজারে ৮০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ পাওয়া গেছে ২ দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের কেজি ১৯০ টাকা।

শেরপুর প্রতিনিধি জানান, শেরপুরের খুচরা বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজ ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ দুদিন আগে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বিক্রেতারা বলেন, কৃষক আগে যে পাতা পেঁয়াজ লাগিয়েছিল, সেগুলো তুলে ফেলেছে। তাই বাজরে সরবরাহ কমে গেছে। নতুন করে আবারও যে পেঁয়াজ চাষাবাদ করছে, সেগুলো বাজারে উঠলে দাম কমবে।