অর্থ ও বাণিজ্য

বছরের সেরা অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল

নিউজ ডেস্ক৩ জানুয়ারি ২০২০৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

বিশ্বে বছরের সেরা অর্থমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ফিন্যানশিয়াল টাইমস গ্রুপের সাময়িকী ‘দ্য ব্যাংকার’ ২০২০ সালের জন্য আ হ ম মুস্তফা কামালকে ‘বছরের সেরা অর্থমন্ত্রী’ পদকে ভূষিত করেছে। বাংলাদেশের কোনো অর্থমন্ত্রী প্রথমবারের মতো এই পুরস্কারে ভূষিত হলেন।

‘দ্য ব্যাংকার’ ১৯২৬ সাল থেকে পৃথিবীর ব্যাংকিং সেক্টরের ইন্টেলিজেন্স হিসেবে খ্যাত। সাময়িকীটি ২০০৪ সালে ‘ফিন্যান্স মিনিস্টার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার চালু করে। গত বছর ওই সম্মান উঠেছিল ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রীর হাতে। তার আগের বছর পেয়েছিলেন ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। সারা বিশ্বে অর্থমন্ত্রীদের আর্থিক খাতে গতিশীলতা আনা, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিতকরণসহ অর্থনীতি স্থিতিশীলতায় গৃহীত পদক্ষেপ বিবেচনা করে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এশিয়া-প্যাসিফিক, আমেরিকা, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ—এই পাঁচটি অঞ্চল থেকে পাঁচজন অর্থমন্ত্রীকে সেরা নির্বাচন করা হয়। আর তাঁদের মধ্য থেকে একজনকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ অর্থমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০২০ সালের জন্য বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল একই সঙ্গে বিশ্বের এবং এশিয়া-প্যাসিফিকের শ্রেষ্ঠ অর্থমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী পুরস্কারটি দেশের সর্বস্তরের জনগণের উদ্দেশে উৎসর্গ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত পথ অনুসরণ করেই এটি অর্জিত হয়েছে।

মুস্তফা কামালকে শ্রেষ্ঠ অর্থমন্ত্রী নির্বাচনের কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে সাময়িকীটি বলেছে, দেশকে উচ্চ প্রবৃদ্ধি এবং স্থিতিশীল অর্থনীতি উপহার দেওয়ার জন্য এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক বছর যাবৎ জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ভালো করছে। দুই বছর যাবৎ প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে রয়েছে। ‘ইকোনমিক অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ, ২০১৯ টেবিলের’ র্যাংকিং অনুযায়ী ৪১তম দেশ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। ওই র্যাংকিংয়ে বলা হয়েছে, ২০৩৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে ২৪তম হবে।

প্রতিবেদনে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলা হয়েছে, ধারাবাহিকভাবে ৭ শতাংশ বা তার বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য এর নীতি-নির্ধারকদের অর্থনীতি পরিচালনের ক্ষেত্রে বারবার ভাবতে হতো। অর্থমন্ত্রী কামাল বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণে সফল হয়েছেন। তিনি তুরস্কের বিনিয়োগকারীদের ইলেকট্রনিক, ওষুধ ও গ্যাস শিল্পে এবং জাপানের বিভিন্ন কম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়েছেন। জাপান ভ্যাট, ট্যাক্স এবং অন্যান্য পলিসিতে বাংলাদেশকে সাহায্য করতে রাজি হয়েছে। কামালের নেতৃত্বে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশে জ্বালানি, যোগাযোগ, শিক্ষাসহ বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের অন্য দেশের পুঁজিবাজারে প্রথমবারের মতো ‘বাংলা টাকা বন্ড’ চালু করাও অর্থমন্ত্রী কামালের একটি মাইলফলক। গত বছরের নভেম্বরে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে এটি চালু হয়। বাংলাদেশের বিদেশি আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস হলো ‘প্রবাসী আয়’। সরকার এটি বাড়াতে ২ শতাংশ প্রণোদনা ঘোষণা করে। অর্থমন্ত্রী কামাল বিশ্বাস করেন, এই উদ্যোগের ফলেই চলতি অর্থবছর রেমিট্যান্স ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

সাময়িকীটিতে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘বাংলাদেশে পর পর তিন অর্থবছর ৭ শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি অর্জিত হওয়ার পর গত বছর ৮.১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এটি দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ সামাজিক, অর্থনৈতিক বিভিন্ন সূচক যেমন—দারিদ্র্য দূর করা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং নারীর ক্ষমতায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।’

২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিতর হওয়ার পর আ হ ম মুস্তফা কামালকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ২০১৪-২০১৮ মেয়াদে সফলভাবে পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।