সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
বিদ্যুৎ খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে আন্তর্জাতিক বাজারে ৪ হাজার ২৫০ কোটি টাকার (৫০ কোটি মার্কিন ডলার) বন্ড ইস্যু করা হবে। এ ব্যাপারে প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক তিনটি ব্যাংকের কাছে। এগুলো হচ্ছে- সিটি গ্রুপ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টাড ব্যাংক ও এইচএসবিসি ব্যাংক।
এ কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কমিটি বন্ড ইস্যু থেকে পরিচালনা পর্যন্ত সব ধরনের কার্যক্রমের বিষয়ে সুপারিশ করবে।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বন্ড ইস্যুর ব্যাপারে মত নিতে অর্থ বিভাগে চিঠি দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ওই বৈঠকে বলেছেন, এ ধরনের বন্ড ইস্যু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং হবে। দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। বিদ্যুত খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের বন্ড ইস্যু ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেবে।
জানা গেছে, বিশ্ববাজারে এ ধরনের বন্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের (সভরিন গ্যারান্টি) সম্মতির প্রয়োজন হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বন্ড ইস্যুর ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের গাইডলাইনে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই।
এজন্য গাইডলাইন সংশোধনের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মতামত নেয়া দরকার। এ কাজটি করতে পারলে ভালো হবে। তবে অর্থ বিভাগ এ পর্যন্ত ১২০টি সভরিন গ্যারান্টি দিয়েছে। এর বেশিরভাগ হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগের।
জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন সংস্থা বা কোম্পানিগুলোর অনুকূলে বন্ড ইস্যুর ব্যাপারে সম্প্রতি একটি বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ শফিক উল্লাহ।
তার কাছে জানতে চাইলে বলেন, বন্ড ইস্যুর ব্যাপারে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এর কাজ চলছে। এজন্য দায়িত্ব দেয়া সংস্থাগুলো কাজ করেছে। তবে কমিটি গঠনের বিষয়টি আমার জানা নেই।
জানা গেছে, বিদ্যুৎ খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে আর্ন্তজাতিক বাজারে বন্ড ইস্যু সংক্রান্ত বৈঠকে এর সম্ভাবনা, বিনিয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
বিদ্যুৎ খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে প্রাথমিকভাবে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা দেশি মুদ্রায় ৪ হাজার ২৫০ কোটি টাকা (১ ডলার সমান ৮৫ টাকা হিসাবে) বন্ড আন্তর্জাতিক বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এজন্য জয়েন্ট লিড ম্যানেজার হিসেবে আইসিবি ও সিটি গ্রুপ গ্লোবাল মার্কেটসকে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এক্ষেত্রে আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডকে (বিপিডিপি)। এছাড়া বিপিডিপির কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কোর-কমিটি গঠন করার ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত হয়। বিশ্ববাজারে এ ধরনের বন্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের (সভরিন গ্যারান্টি) সম্মতির প্রয়োজন হয়।
এ সম্মতি নেয়ার জন্য আইসিবি ও সিটি গ্রুপ গ্লোবাল মার্কেটসর সহযোগিতায় পিডিবিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বৈঠক থেকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বন্ড ইস্যুর ব্যাপারে প্রথমে দায়িত্ব দেয়া হয় আইসিবিকে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে বন্ড ইস্যুর ব্যাপারে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিদেশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিবন্ধন নেই আইসিবির। ফলে বহির্বিশ্বে বন্ড ইস্যু করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন তিনটি ব্যাংকের কাছে প্রস্তাব আহ্বান করে আইসিবি।
এসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে সিটি গ্রুপ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টাড ব্যাংক ও এইচএসবিসি ব্যাংক। প্রতিটি ব্যাংকের প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সিটি গ্রুপ গ্লোবাল মার্কেটসের (সিটি) বাংলাদেশি একটি কোম্পানির একমাত্র অভিজ্ঞতা আছে আন্তর্জাতিক বাজারে বন্ড ইস্যুর।
এছাড়া বন্ড ইস্যুর ব্যয় পর্যালোচনা করে দেখা গেছে অন্য দুটি ব্যাংকের তুলনায় সিটি গ্রুপের বন্ড ইস্যুর ব্যয় তুলনামূলক কম।
এ প্রস্তাব অধিক গ্রহণযোগ্য বলে আইসিবির বোর্ড সভায় আলোচনা করা হয়। বন্ড ইস্যু প্রসঙ্গে বৈঠকে সিটি গ্রুপ গ্লোবাল মার্কেটসের পক্ষে প্রস্তাব করেছে আইসিবি। বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, এ মুহূর্তে দেশের আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় অর্থের ততটা প্রয়োজন নেই বলে প্রতীয়মান।
তবে দেশের ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের কথা বিবেচনায় রেখে বন্ড ইস্যুর বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। বন্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে বারবার না একবার অর্থ প্রদান করতে হবে এ বিষয়টি স্পষ্টকরণের জন্য তিনি সিটি গ্রুপকে অনুরোধ জানান। তবে সিটি গ্রুপের পক্ষ থেকে বলা হয়, বন্ড ইস্যু না হলে তাদের কোনো অর্থ প্রদান করতে হবে না। তবে আইনগত পরামর্শ নেয়ার জন্য কিছু অর্থের প্রয়োজন হতে পারে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি জানান, যেহেতু ডলারের মাধ্যমে বন্ড ইস্যু করা হবে এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি এর জন্য একটি পৃথক ব্যাংক হিসাব খুলতে হবে। তিনি আরও বলেন, বন্ড ইস্যু করা হচ্ছে জাতীয় ভাবে।
কিন্তু এটি প্রবেশ করবে আন্তর্জাতিক বাজারে। সেক্ষেত্রে দেশীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে যথাযথ দৃষ্টি রাখতে হবে।









