সিল্কসিটিনিউজ ডেস্কঃ
জায়গায় জায়গায় মাইক লাগানো। অনবরত বাজছে লালনগীতি। গানে বিশেষ মনোযোগী না হয়ে কেউ ইটের গাঁথুনিতে ব্যস্ত, কেউ রঙ করতে। কেউবা পেরেক ঠুকে চলছেন। মালামাল আনা-নেয়ায় ব্যস্ত কেউ কেউ, মালবাহী যানবাহনও ছুটে চলছে। সবাই যার যার মতো কাজ করে চলছেন। টুং-টাং, খট খট শব্দে মুখরিত চারপাশ।


রোববার (২২ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পাশে এভাবেই চলছিল ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ২০২০-এর কাজ। ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী মেলা। মেলার প্যাভিলিয়নসহ নানা অবকাঠামো তৈরিতেই এমন ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আয়োজকরা জানান, ১ জানুয়ারি শুরু হবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা, যা শেষ হবে ৩১ জানুয়ারি। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ ছাড়াও ২০টি দেশ এবারের মেলায় অংশ নেবে। মেলায় এবার সব মিলে ৪৫০টি প্যাভিলিয়ন থাকছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক প্যাভিলিয়ন ৫৫টি।

এবারের মেলার প্রধান ফটক তৈরি করা হচ্ছে জাতীয় স্মৃতিসৌধের আদলে। এ ফটকে সিরামিকসের কাজ করছিলেন মো. জুয়েল। তিনি বলেন, ‘স্মৃতিসৌধের আদলে ফটক হচ্ছে। বেশকিছু দিন ধরে এর কাজ চলছে। আজকে থেকে এখানে সিরামিকসের কাজ শুরু করেছি। এ কাজ করতে প্রায় এক সপ্তাহ লাগতে পারে।’

মেলার গাড়ি পার্কিং, হাঁটার রাস্তায় ইটের গাঁথুনি দিতে দিতে হানিফ বলেন, ‘আমি এখানে দিন হিসাবে কাজ করি। ৫ ডিসেম্বর থেইক্যা কাজ করতাছি। রাস্তায় ইট বসাচ্ছি। এর আগে পার্কিংয়ের জন্য ইট বসাইছি। ১ জানুয়ারি পর্যন্ত কাজ করতে হবে।’

একটি প্যাভিলিয়নে রঙ করার কাজ নিয়েছেন ঠিকাদার হাবিব মিয়া। তিনি বলেন, ‘নাদিয়া ফার্নিচারের এ প্যাভিলিয়নটা রঙ করে দেয়ার কাজ নিয়েছি। রঙের সবকিছু করে দেব। গত ৮ ডিসেম্বর থেকে কাজ শুরু করেছি। আশা করি, ২৮ ডিসেম্বর কাজ শেষ অইব।’

প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে মেলার সদস্য সচিব ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) উপ-পরিচালক (ফাইন্যান্স) মো. আবদুর রউফ বলেন, ‘এবার তো মুজিববর্ষ। এ জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন বিশেষভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে। মুজিববর্ষের আবহ ঠিক রেখে এটা করা হচ্ছে। প্রধান ফটক আমরা জাতীয় স্মৃতিসৌধের আদলে তৈরি করছি। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি থাকবে। দ্বিতীয় বা ভিআইপি ফটকে স্যাটেলাইট স্থাপন করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে চেষ্টা করছি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে। গতবারও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করেছিলাম। এবারও আশা করি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে। সবার অংশগ্রহণে সুন্দরভাবে মেলা অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করি।’









