সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
মৃগীরোগ স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতাজনিত রোগ। সুস্থ স্বাভাবিক একজন মানুষ যদি হঠাৎ করে অস্বাভাবিকভাবে কাঁপুনি বা খিঁচুনির শিকার হয়, চোখ-মুখ উল্টে ফেলে কিংবা কোনো শিশুর চোখের পাতা স্থির হয়ে যায়, একদৃষ্টিতে চেয়ে থাকে অথবা মানসিকভাবে সুস্থ কোনো ব্যক্তি যদি অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে, তবে তাকে মৃগীরোগী হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। মানবদেহের সব কার্য পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে। কোনো কারণে মানবদেহের কার্য পরিচালনাকারী মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রের উদ্দীপক ও নিবৃত্তিকারক অংশের কার্যপ্রণালির ভারসাম্য নষ্ট হলে মৃগীরোগের লক্ষণ দেখা দেয়। মস্তিষ্কের অতিসংবেদনশীলতা ছাড়াও ব্রেইন টিউমার, স্ট্রোক, মাথায় আঘাত ও রক্তপাত, রক্তশিরায় সমস্যা, ব্রেইনের পুরনো ক্ষত, ইনফেকশন এবং মানসিক প্রতিবন্ধকতা থেকে মৃগীরোগ দেখা দিতে পারে। মৃগীরোগের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- বারবার খিঁচুনি ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হওয়া।
লক্ষণ : মৃগীরোগীর মধ্যে যেসব লক্ষণের এক বা একাধিক লক্ষণ দেখা দিতে পারে তা হলো- হঠাৎ শরীরের কোনো অংশে খিঁচুনি শুরু হওয়া ও পর্যায়ক্রমে তা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়া। হঠাৎ নমনীয়ভাবে ঢলে পড়া। শরীর শক্ত হয়ে গিয়ে হঠাৎ পড়ে যাওয়া। হঠাৎ জ্ঞান হারানো। ঘন ঘন কাজে অমনোযোগী হয়ে পড়া। ছোট শিশুদের শরীর হঠাৎ ঝাঁকি খাওয়া। হঠাৎ মাথা, পিঠ বা পুরো শরীর সামনে ঝুঁকে আসা। হাত থেকে হঠাৎ করে কিছু ছিটকে পড়া। হঠাৎ করে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করা এবং হাত-পা ও মুখের অস্বাভাবিক নড়াচড়া শুরু হওয়া। হঠাৎ শরীরের কোনো অংশে ভিন্ন ধরনের অনুভূতি সৃষ্টি হওয়া।

খিঁচুনির সময় যা করা যাবে না : আতঙ্কিত বা ভীত হবেন না। খিঁচুনির সময় কোনো রূপ বাধা সৃষ্টি বা রোগীকে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করবেন না। এতে রোগী এবং সাহায্যকারী উভয়ই আহত হতে পারে। রোগীর মুখে চামড়ার জুতো বা চামড়ার তৈরি অন্য কিছু, লোহার শিক ইত্যাদি চেপে ধরা উচিত নয়। এতে রোগীর উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি হয়। রোগী পুরোপুরি সচেতন না হওয়া পর্যন্ত পানি বা অন্য কোনো পানীয় দেবেন না। সাধারণত খিঁচুনি দুমিনিটের বেশি স্থায়ী হয় না এবং এরপর রোগী গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
কখন চিকিৎসার প্রয়োজন : যদি খিঁচুনির স্থায়িত্ব পাঁচ মিনিটের বেশি হয়। যদি রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা হয়। যদি রোগী একনাগাড়ে অনেকক্ষণ ধরে বিভ্রান্ত হয়ে থাকে কিংবা অচেতন থাকে। যদি খিঁচুনির সময় রোগী কোনোভাবে আহত হয়। যদি রোগী প্রথমবারের মতো মৃগীতে আক্রান্ত হয়, বিস্তারিত জানার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগ বা কোনো নিউরোলজিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।









