সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
দেশে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় কর আদায়ের হার অনেক কম। ফলে কর-জিডিপিতে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবার পরে। বাংলাদেশের এই হার প্রতিবেশী দেশ নেপালের অর্ধেকের চেয়েও কম। এমনকি যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান বা পাকিস্তানের অবস্থাও এদিক থেকে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকের প্রতিবেদনকে বিশ্লেষণ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এ তথ্য তুলে ধরেছে। মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিতে তা প্রকাশ করা হয়েছে। পাঁচ বছরের কর-জিডিপি অনুপাতের চিত্র তুলে ধরে নীতি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৭-১৮ পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত ছিল গড়ে ১০ দশমিক ২ শতাংশ।

অথচ বিশ্বের উদীয়মান দেশ ও এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এ হার বাংলাদেশের দ্বিগুণেরও বেশি অর্থাৎ ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ। এমনকি সাব-সাহারা আফ্রিকার দেশগুলোর কর-জিডিপি হারও বাংলাদেশের চেয়ে বেশি অর্থাৎ ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ। কর-জিডিপি হারে নিকটতম প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গেও বাংলাদেশের তুলনা করা হয়েছে। আইএমএফের প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে নীতি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাঁচ বছরের গড় কর-জিডিপি অনুপাত নেপালের ২৩ দশমিক ৩, ভারতের ২০ দশমিক ৩, পাকিস্তানের ১৫ দশমিক ২ এবং শ্রীলঙ্কার ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ।
সাধারণভাবে জিডিপির অনুপাতে ৩০ শতাংশ আয়কর থেকে এলে সেটি একটি আদর্শ অবস্থা; কিন্তু ১৫ থেকে ২০ ভাগকেও ভালো অবস্থা ধরে নেয়া যায়। বাংলাদেশে এই অনুপাত ১০ দশমিক ২ ভাগ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের সম্ভাবনা অনেক; যা কাজে লাগানো দরকার। তবে এজন্য আয়কর ব্যবস্থা হতে হবে ‘প্রগ্রেসিভ’। বেশি আয়ের আনুপাতিকহারে করও বেশি। কম আয়ে আনুপাতিক হারে কম কর। তা না হলে আয়কর সাধারণ মানুষের জন্য বোঝা বা পীড়াদায়ক হতে পারে।









