অর্থ ও বাণিজ্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য: নারীদের ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ বেড়েছে

নিউজ ডেস্ক৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

দেশের নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ বেড়েছে। ছোট ছোট স্বপ্ন পূরণ করতে এ ঋণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা ক্ষুদ্রঋণ নিয়েছেন নারী উদ্যোক্তারা। তবে আগের বছরের একই সময়ে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ বেড়েছে ৪৩২ কোটি টাকা।

দেশের নারী সমাজকে এগিয়ে নিতে জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তা করছে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। নারীদের সহায়তা করতে বিশেষ ঋণ প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। ৯ শতাংশ সুদে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ প্রদান করছে বেশ কয়েকটি ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) নারীদের মঝে সেবা খাতে ৫৭১ কোটি টাকা, বাণিজ্যে ১ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা এবং উৎপাদন খাতে ১ হাজার ২১৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। ছয় মাসে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা ছিল ২৯ হাজার ৫৮৭ জন।

এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সেবা খাতে নারীদের মধ্যে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৩৩৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে সেবা খাতে নারী গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৮৩৩ জন। এ ছাড়াও একই সময়ে বাণিজ্য খাতে ৮ হাজার ৬৬৭ জনের মধ্যে ৭৯৮ কোটি ৩২ লাখ এবং উৎপাদন খাতে ৫ হাজার ৫৭৯ জন নারীকে ৭৩২ কোটি ৭১ লাখ টাকার ঋণ দিয়েছে আর্থিক খাত। অর্থাৎ এ সময়ে (এপ্রিল-জুন) ১ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, নারীদের মধ্যে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত নতুন উদ্যোক্তাদের কার্য পরিচালনায় ঋণ দেয়া হয়েছে ৪৬৬ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব মতে, ২০১৮ সালের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন এসএমই খাতের নারী উদ্যোক্তারা। ২০১৭ সালে যার পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ঋণ বিতরণ বেড়েছে ২৮২ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে এসএমই খাতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৩৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, যা ২০১৫ সালের তুলনায় ২৬ হাজার ৬৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা বা ২২ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেশি। ২০১৬ সালের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিতরণের হার ১২৫ দশমিক ০৫ শতাংশ। তবে এ ঋণের মধ্যে নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে গেছে ৫ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুসারে, ২০১৬ সালে ৪১ হাজার ৬৭৫ জন নারী উদ্যোক্তা ঋণ পেয়েছেন। টাকার অঙ্কে নারী উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিতরণ করা ঋণের হার আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে ২৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের (বিআইবিএম) এসএমই শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশের নারীরা অনেক পিছিয়ে আছে। এ কারণে নারীদের ক্ষমতায়ন ও আর্থিক উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে নারী উদ্যোক্তা বাড়বে- এটাই স্বাভাবিক। তবে শুধু সংখ্যা বৃদ্ধি নয় বরং যারা ঋণ নিচ্ছেন, তারা যেন ঋণটাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে উদ্যোক্তা হিসেবে বেরিয়ে আসতে পারে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। আর এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকসহ ঋণ প্রদানকারী ব্যাংককেও ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কঠোর মনিটরিং করতে হবে।