অর্থ ও বাণিজ্য

চট্টগ্রাম কাস্টমসে ইনভেন্ট্রি: যন্ত্রপাতির ঘোষণায় মদ-বিয়ার আমদানি

নিউজ ডেস্ক৫ আগস্ট ২০১৯২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে দেয়া বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেডের আমদানি পণ্য চালানের ইনভেন্ট্রি (গণনা) করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

জাহাজ থেকে সব পণ্য চালান বন্দর শেডে নামিয়ে আনার পর রোববার সকালে এসব চালানের ইনভেন্ট্রি শুরু করে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত কাস্টমের বিশেষ কমিটি।

গত ৩০ জুলাই মূলধনী যন্ত্রপাতির আড়ালে ঘোষণাবহির্ভূত ও আমদানি নিষিদ্ধ মদ-বিয়ার এবং খাদ্যসামগ্রী আনার ঘটনা ধরা পড়ায় ওই চালান আটকে দেয়া হয়েছিল।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার ও ইনভেন্ট্রি কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান রোববার সন্ধ্যায় বলেন, যে দু’টি বার্জ পণ্য নিয়ে পায়রা বন্দরে চলে গিয়েছিল সেগুলো ফেরত আনা হয়েছে। সব পণ্য নামিয়ে ইনভেন্ট্রি করা হচ্ছে। ইনভেন্ট্রি শেষে বলা যাবে, পুরো আমদানি চালানে কী পরিমাণ ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য রয়েছে। আটকের দিন ১৭ প্যাকেজে অবৈধ পণ্য পাওয়া গিয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ঘোষণা দিয়ে বলেছে, ঘোষিত ৬৬৯ প্যাকেজের মধ্যে ২৭ প্যাকেজে ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য বা মদ-বিয়ার ও খাদ্য সমাগ্রী রয়েছে। এসব পণ্য পাওয়ার প্লান্টে কর্মরত ৩ হাজার চীনা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকের জন্য আনা হয়েছিল। পরবর্তী জাহাজে এসব পণ্য ঘোষণা দিয়ে আনার কথা থাকলেও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভুল করে তা আগের জাহাজে তুলে দিয়েছে। যে কারণে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ঘোষণাবহির্ভূত এসব পণ্যের শুল্ক বা ডিউটি দিয়ে ছাড় করার জন্য কাস্টমস কমিশনার বরাবর চিঠি লিখেছে। একইসঙ্গে এ ঘটনার জন্য তারা দুঃখ প্রকাশ করে পরবর্তীতে এ ধরনের ভুল আর হবে না বলেও অঙ্গীকার করেছে।

বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেড-এর প্রধান প্রকৌশলী ও পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক শাহ আবদুল মাওলার সই করা চিঠিটি গত ৩১ জুলাই দেয়া হয়।

চিঠিতে এই চালান আমদানির সঙ্গে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বিপাশা এন্টারপ্রাইজের কোনো সংশ্লিষ্টতা বা তাদের কোনো দোষ নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে বার্জ মালিকেরও কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে এসব পণ্য আনা হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ঘটনার দিন চট্টগ্রাম বন্দরের তিন নম্বর জেটিতে পানামার পতাকাবাহী একটি জাহাজ থেকে চালান খালাস হওয়ার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় কাস্টমস। অভিযানে বেশ কয়েকটি ক্যারেটে ঘোষণাবহির্ভূত মদ-বিয়ার ও খাদ্যপণ্য পাওয়া যায়।

এরপর পুরো চালানের খালাস কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। সরকার নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা চালানে এ ধরনের মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য পাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।