সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
দেশে গত অর্থবছর (২০১৮-১৯) মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৮ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। আগের অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল ৭ দশমিক ৯ শতাংশ।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে বাংলাদেশে জিডিপি অনুপাতে বিনিয়োগ বাড়ছে।

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে (২০১৮-১৯) জিডিপি অনুপাতে বিনিয়োগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৬ শতাংশে- যা আগের অর্থবছরে (২০১৭-১৮) ছিল ৩২ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে দশমিক ৪ শতাংশ।
এডিবির ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক সাপ্লিমেন্ট জুলাই-২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এটি বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়।
এডিবি বলছে, ব্যাপক ভোগ চাহিদা ও সরকারি বিনিয়োগের কারণে এই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এ ছাড়া রফতানি ‘পারফরম্যান্স’ প্রবৃদ্ধিতে বাড়তি অবদান রাখছে। এর পাশাপাশি শিল্প খাতের সম্প্রসারণ প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছর শেষে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। গত এপ্রিলে এডিবি তার আউটলুকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের কথা জানায়।
এডিবি জানিয়েছে, স্বাধীনতার পর থেকে সর্বোচ্চ ৭ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে দ্রুতগামী। রেমিট্যান্সের প্রভাবে ব্যক্তি খাতে চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামো খাতে সরকারের বাড়তি বিনিয়োগের কারণেই প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ধরে রাখতে আগামীতে শিল্পের ভিত্তি বাড়াতে হবে। বৈচিত্র্য আনতে হবে রফতানি পণ্যে। ব্যক্তি খাতের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে হবে। করের ভিত্তি বাড়িয়ে রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে হবে।
ব্যক্তি খাতের চাহিদা মেটাতে মানবসম্পদেও উন্নয়ন করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের সংস্কারেও গুরুত্ব দিতে হবে বলে জানিয়েছে এডিবি। বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০-১১ অর্থবছরে জিডিপি অনুপাতে বিনিয়োগ ছিল ২৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বেড়ে ৩১ দশমিক ৬ শতাংশ হয়। চলতি অর্থবছরে তা ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ, শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে যানবাহন, শিক্ষা, আর্থিক ও স্বাস্থ্য খাতের ধীর গতির কারণে সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি ততটা এগোবে না, যা থাকতে পারে ৬ দশমিক ৪ শতাংশের আশপাশে।
এডিবির মতে, রফতানি খাতে প্রবৃদ্ধি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ শতাংশে। মূলত পোশাক খাতে রফতানির ওপর ভর করেই এ প্রবৃদ্ধি সম্ভব হবে। গত অর্থবছরে দেশে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১১ শতাংশ হারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য যুদ্ধের পরও এশিয়ার দেশগুলোতে প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ২০১৯ সালে চীনে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ ও ২০২০ সালে ৬ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। অপরদিকে ভারতে ২০১৯ সালে ৭ শতাংশ ও ২০১০ সালে ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।









