অর্থ ও বাণিজ্য

উপার্জিত অর্থ ব্যয়ে নারীর স্বাধীনতা বাড়ছে

নিউজ ডেস্ক১৪ জুলাই ২০১৯৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

নুশরাত জাহান নকশি (ছদ্মনাম)। চাকরি করেন একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে। তিনি মাসিক বেতন কত পান কিংবা কোন খাতে কত টাকা ব্যয় করছেন তার কোনো হিসাবই জানেন না তার স্বামী।

একইভাবে তার স্বামীর বেতন কত কিংবা কোথায় কোথায় ব্যয় করছেন সে খবরও রাখেন না তিনি। তবে বিদেশে ঘুরতে গেলে কিংবা স্বামী বড় কোনো ঝামেলায় পড়লে তখন নিজে থেকেই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। তাছাড়া মাঝে মধ্যে শাশুড়ি যদি কিছু কিনে দেয়ার বায়না করেন তাহলে বিনা প্রশ্নের সেটি কিনে দেন। তার নিজের মাকে প্রতি মাসে নিয়ম করে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা পাঠিয়ে দেন।

তার বক্তব্য হচ্ছে, মায়ের যত টাকাই থাকুক আমি মেয়ে হিসেবে একটা দায়িত্ব আছে। সবকিছু মিলিয়ে এ নিয়ে সংসারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো অশান্তিও নেই। নকশির মতো এরকম চাকরিজীবী নারীর সংখ্যা বাড়ছে।

বলতে গেলে উপার্জিত অর্থ ব্যয়ে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এ অবস্থা শুধু শহরের ক্ষেত্রে নয় পল্লী অঞ্চলেও তৈরি হয়েছে। কিন্তু পাঁচ বছর আগেও পরিস্থিতি ছিল উল্টো। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপের ফলাফলেও উঠে এসেছে এরকম চিত্র। প্রতিবেদনটি সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবিএসের ‘কৃষি ও পল্লী পরিসংখ্যান রিপোর্ট-২০১৮’-এ বলা হয়েছে, বাংলাদশের পল্লী অঞ্চলের যেসব মহিলা কর্মে নিয়োজিত তাদের উপার্জিত অর্থ ব্যয়ে সিদ্ধান্ত এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারাই নিচ্ছেন। এক্ষেত্রে দেখা যায়, পল্লীর ৬৪ লাখ ৫৮ হাজার ২৫৭ জন মহিলা বিভিন্ন ধরনের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। এর মধ্যে উপার্জিত অর্থ ব্যয়ে নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন ৫১ লাখ ২৯ হাজার ২১৮ জন, অর্থাৎ ৭৯ দশমিক ৪২ শতাংশ মহিলা। এছাড়া স্বামীর ইচ্ছেতে খরচ করে থাকেন ৩ লাখ ৯০ হাজার ৯৩৯ জন বা ৬ দশমিক ০৫ শতাংশ নারী। তবে স্বামীর সঙ্গে যৌথভাবে টাকা খরচ করে থাকেন ৮ লাখ ২ হাজার ৬৫৮ জন বা ১২ দশমিক ৪৩ জন নারী। সেই সঙ্গে বাবা কিংবা মায়ের কথামতো অর্থ খরচ করেন এক লাখ ২৮ হাজার বা ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ, শ্বশুর ও শাশুড়ির কথামতো অর্থ খরচ করে থাকেন ৭ হাজার ১৫ জন বা শূন্য দশমিক ১১ শতাংশ নারী এবং অন্যদের কথায় অর্থ খরচ করে থাকেন ২৮ হাজার ৮০০ বা শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশ নারী।

বিবিএসের মহাপরিচালক ড. কৃষ্ণা গায়েন বলেন, এ জরিপের অন্যতম একটি দিক হল নারীর ক্ষমতায়ন যে বাড়ছে তা প্রমাণিত হওয়া। কেননা একদিকে পল্লীর মহিলারা যে শুধু বাড়িতে গৃহস্থালীর কাজ করছেন তা নয়, তারা বিভিন্ন কর্মে নিজেদের নিয়োজিত রাখছেন। অন্যদিকে তারা যা আয় করছেন তা নিজের ইচ্ছেতেই ব্যয়ও করতে পারছেন। ৫-১০ বছর আগে যা ভাবাই যেত না। স্বামীর ইচ্ছেই বেশি প্রাধান্য পেত।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশের পল্লী অঞ্চলে যে ৬৪ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৭ জন মহিলা কর্মে নিয়োজিত তাদের মধ্যে নগদ টাকায় কাজ করছেন ৬০ লাখ ৯ হাজার ৭৮৭ জন নারী। শতাংশের দিক থেকে ৯৩ দশমিক ০৫ শতাংশ। এছাড়া বিভিন্ন দ্রব্যের বিনিময়ে (চাল, গম, আটা ইত্যাদি) কাজ করে এক লাখ ২৪ হাজার ৬৪৬ জন বা ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ নারী। উভয় পদ্ধতিতে কাজ করেন ৩ লাখ ২৩ হাজার ৮২৩ জন বা ৫ দশমিক ০১ শতাংশ নারী।

প্রতিবেদন প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক আখতার হাসান বলেন, জরিপটি গত বছরের এপ্রিল-মে মাসে সারা দেশেই পরিচালনা করা হয়। এতে এক হাজার ৯২০টি এবং ৫৭ হাজার ৬০০ খানা (পরিবার) থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। যেসব তথ্য তুলে আনা হয়েছে সেগুলো সঠিক। জরিপের প্রতিবেদনে নারীদের অর্থ ব্যয়ের যে সক্ষমতা বেড়েছে সেটি আমরা সঠিকভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছি।