সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক পুনঃতফসিল নীতিমালার যে সার্কুলার জারি করেছিল সেটা অবশেষে কার্যকর হচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংক ওই সার্কুলার নিয়ে আপিল বিভাগের আদেশ পরিপালন করার জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নির্দেশনার ফলে আগামী দুই মাস ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধা নিতে পারবেন ঋণখেলাপিরা। তবে এ দুই মাস নতুন করে কোনো ঋণ পাবেন না তারা।
সার্কুলারে বলা হয়, ‘বিআরপিডি সার্কুলার নং-৫, তারিখ ১৬ মে ২০১৯-এর ওপর হাইকোর্ট ডিভিশন কর্তৃক জারিকৃত স্থিতাবস্থার ওপর সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ ৮ জুলাই ২ মাসের জন্য স্থগিতাদেশ প্রদান করেছেন। ওই আদেশের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনাদের পরামর্শ দেয়া হল।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, আপিল বিভাগের নির্দেশনা ব্যাংকগুলোকে পরিপালনের কথা জানানো হয়েছে। এর ফলে এ দুই মাস খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল হবে, কিন্তু নতুন কোনো ঋণ পাবে না সুবিধাভোগীরা। কারণ রায়ে বলা আছে, নতুন ঋণ দেয়া যাবে না। এর মানে তারা কোনো ব্যাংক থেকেই নতুন ঋণ নিতে পারবে না। শুধু ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধা নিতে পারবে।
১৬ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে মাত্র ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট ও ৯ শতাংশ সরল সুদে ১০ বছরের জন্য ঋণ পরিশোধনের সুযোগ দিয়ে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ নীতিমালা জারি করা হয়।
এতে পুনঃতফসিলের সুবিধা নিতে ৯০ দিনের মধ্যে আবেদন করার সময় নির্ধারণ করা আছে। ইতিমধ্যে অনেক সময় চলে গেছে। ফলে এ সময়ের মধ্যে ঋণখেলাপিরা শুধু পুনঃতফসিলের আবেদনই দাখিল করার সময় পাচ্ছেন।
কারণ পুনঃতফসিলের আবেদনের পর সেগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো পর্যালোচনা করে দেখবে। এর আগে এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২১ মে হাইকোর্ট এক আদেশে ওই নীতিমালার কার্যক্রমের ওপর ২৪ জুন পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
২৪ জুন অপর আদেশে হাইকোর্ট স্থিতাবস্থার মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ান। এই দুটি আদেশ স্থগিত চেয়ে অর্থ বিভাগের পক্ষে ১ জুলাই আপিল বিভাগে আবেদন করা হয় (লিভ টু আপিল)।
২ জুলাই এটা নিয়ে চেম্বার আদালতে শুনানি হয় এবং হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করেন আদালত। একই সঙ্গে অর্থ বিভাগের করা আবেদনটি ৮ জুলাই আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির দিন ধার্য করেন আদালত।
এরপর ৮ জুলাই আপিল বিভাগ এ সংক্রান্ত শুনানি শেষে আদেশে জানান, ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে বিশেষ সুবিধা ভোগকারীদের পুনরায় নতুন ঋণ দেয়া যাবে না।









