রাজশাহী

বাগমারায় স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, রোগীদের দুর্ভোগ

নিউজ ডেস্ক৭ জুলাই ২০১৯৩ মিনিট পড়া

বাগমারা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রের বিদ্যুতের বিল বকেয়া পড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ৮৬ হাজার বিল বকেয়ায় নাটোর পল্লী বিদ্যুত সমিতি-১ এর বাগমারা জোনাল অফিস ১৫ দিন আগে লাইন কেটে যায়। এতে করে স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে এসে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও তার স্বজনেরা।

রোববার সকালে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে কর্মরত ডাক্তার ও রোগীদের সূত্রে জানা গেছে তাদের দুর্ভোগের কথা। তারা জানান, গত ১৫ দিন ধরে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিদুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে তারা সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। সেখানে বিদ্যুত সংযোগ না থাকায় ফ্যান ও পানির লাইন বন্ধ রয়েছে।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত ডাক্তার ও কর্মচারীরা জানান, গত দেড় বছরের বিল বাবদ প্রায় ৮৬ হাজার টাকা পল্লী বিদ্যুতের কাছে পাওনা রয়েছে। এ নিয়ে পল্লী বিদ্যুত নির্ধারিত সময়ে বাগমারা মেডিকেল কর্তৃপক্ষের কাছে যথারীতি বিল প্রদান করে বিল পরিশোধ না করায় গত ১৫ দিন আগে হঠাৎ করে স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রের বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় পল্লী বিদ্যুত কর্তৃপক্ষ। এ কোন পূর্ব নোটিশ জারি না করে আকস্মিকভাবে বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েন ডাক্তার ও রোগীরা।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. সুমন কুমার পাল ও ফার্মসিষ্ট মোহাসীন আলী জানান, বাগমারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাধ্যমে এই বিল পরিশোধের নিয়ম থাকলেও গত দেড় বছর ধরে তা পড়ে রয়েছে। তিনি জানান, প্রতিদিন এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বিভিন্ন অসুখ-বিসুখ নিয়ে প্রায় এক থেকে দেড়শ রোগির আগমন ঘটে। এখানে বিদ্যুত না থাকায় পানির লাইনও বন্ধ রযেছে। যার কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম চরমভাবে বিঘ্ন হচ্ছে।

সেবা নিতে আসা কালিকাপুর গ্রামের পুলজান বিবি, খাঁপুর গ্রামের শকেজান বিবি ও ঝিকরা গ্রামের হোসেন আলী জানান, প্রচন্ড গরম আর দীর্ঘ লাইনে তারা অতিষ্ঠ। ফ্যান না চলায় ভ্যাপসা গরমে তারা থাকতে পারছেন না। বিদ্যুতের এমন বেহাল অবস্থায় তারা শ্রীঘ্রই সুব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কয়েকজন কর্মচারী জানান, এখানে বিদ্যুত বিল নিয়ে ব্যাপক সমস্যা রয়েছে। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৫/৬টি ফ্যান ও সমপরিমাণ লাইট জ্বলে থাকে। শুধু অফিস সময়েই এগুলো ব্যবহার হয়ে থাকলে এত বেশি বিল আসার কথা নয়। প্রায় চারগুন অতিরিক্ত বিল রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। এখান থেকে বিদ্যুত চুরি বা পার্শ্ব সংযোগের মাধ্যমে অন্যত্র বিদ্যুত ব্যবহার করায় অতিরিক্ত বিল হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাগমারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আনোয়ারুল কবীর অতিরিক্ত বিল হওয়ার বিষয় উল্লেখ করে বলেন, কী কারণে মাত্র দেড় বছরে এত টাকার বিল হল তা আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখছি। আপাতত পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাছে বিদ্যুত সংযোগ পূন:স্থাপনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি ৪/৫ দিনের মধ্যেই কাজ হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে নাটোর পল্লী বিদ্যুত সমিতি বাগমারা জোনাল কার্যালয়ের ডিজিএম রেজাউল করিম জানান, নিয়ম মেনেই সেখানকার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তবে যেহেতু সেটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র তাই তাদের কাছে একটি আবেদন চাওয়া হয়েছে। তারা আবেদন করলেই সেখানে পুণ:সংযোগ দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিউল ইসলাম জানান, বিল বকেয়ো বা অতিরিক্ত বিল যেটাই থাক। আপাতত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিদ্যুৎসংযোগ দেওয়ার জন্য পল্লী বিদ্যুতকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স/শা