সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় দ্বিগুণ কর আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঞ্চয়ী প্রকল্পগুলোর মুনাফার ওপর আরোপিত করের হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি কঠোর করা হয়েছে সঞ্চয়পত্র কেনার নিয়ম। আর ব্যাংকের সঞ্চয়ী হিসাব খোলার নিয়ম আগের মতোই থাকছে। তবে কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয় সঞ্চয়ী হিসাব খোলার নিয়ম কিছুটা শিথিল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আরও জানা গেছে, সরকারি সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমাতে এবং ব্যাংকিং খাতে আমানত প্রবাহ বাড়াতে এসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণ হারাবে। তবে ব্যাংকে সঞ্চয় উৎসাহিত হবে।
সূত্র জানায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর আরোপিত উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। মুনাফার ওপর দ্বিগুণ কর আরোপের ফলে এ খাত থেকে গ্রাহকদের মুনাফা কমে যাবে। একই সঙ্গে সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে নীতিমালা কঠোর করা হয়েছে। অনলাইনে সঞ্চয়পত্র কিনতে হবে।
১ লাখ টাকার বেশি কিনলে ব্যাংক চেকে টাকা দিতে হবে। লাগবে টিআইএন নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি। ফলে সঞ্চয়পত্র কিনতে গ্রাহকের আগ্রহ কমে যাবে বলে অনেকেই মনে করেন। এ প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, সঞ্চয়পত্র একধরনের সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী।
এতে বিনিয়োগ করে অর্জিত মুনাফা দিয়ে অনেকে জীবিকা নির্বাহ করে। এ কারণে যাদের জন্য সঞ্চয়পত্র, তারাই যাতে এতে বিনিয়োগ করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে এটা সরকারের জন্য বোঝা হবে না। এজন্য গৃহীত সংস্কার কার্যক্রমকে তিনি সাধুবাদ জানান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ উৎসে কর ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হবে। যারা আগের কেনা সঞ্চয়পত্রের মুনাফা এখনও তোলেননি, তারা ৩০ জুনের মধ্যে তুললে ৫ শতাংশ উৎসে কর দিয়েই তুলতে পারবেন।
এরপর তুললে ১০ শতাংশ উৎসে কর দিতে হবে। এদিকে ব্যাংকগুলো সঞ্চয়ী হিসাবের বিপরীতে পাওয়া মুনাফার হারে উৎসে কর অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বর্তমানে সঞ্চয়ী হিসাবের বিপরীতে পাওয়া মুনাফার ওপর বছর শেষে দুইভাবে উৎসে কর আদায় করা হয়। গ্রাহকের টিআইএন নম্বর ব্যাংকে জমা দিলে সঞ্চয়ী হিসাবে মুনাফার বিপরীতে ১০ শতাংশ উৎসে কর কাটা হয়।
আর টিআইএন নম্বর না থাকলে ১৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হয়। প্রস্তাবিত বাজেটেও এটি বহাল রাখা হয়েছে। ফলে ব্যাংকের সঞ্চয়ী হিসাবের বিপরীতে পাওয়া মুনাফায় করের হার বাড়েনি। এছাড়া ব্যাংকগুলোতে এখন তারল্য সংকটের কারণে আমানত সুদের হার বাড়তে শুরু করেছে। অনেক ব্যাংক এই হার বাড়িয়ে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত করেছে।
এছাড়া আকর্ষণীয় মুনাফার সঞ্চয় প্রকল্পগুলো ব্যাংক আবার চালু করছে। এগুলোর মাধ্যমে ৬ বছরে টাকা দ্বিগুণ হচ্ছে। এছাড়া লাখপতি, মিলিয়নিয়র (১০ লাখ টাকা), কোটিপতি স্কিমগুলো চালু হচ্ছে।
ফলে সঞ্চয়ের মুনাফার ক্ষেত্রে ব্যাংক এখন আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এদিকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের কারণে ব্যাংকে হিসাব খোলা বেশ কঠিন হয়ে উঠেছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ করে সঞ্চয়ী হিসাব খোলার ক্ষেত্রে এ বিধি কিছুটা শিথিল করার চিন্তা করছে।
এজন্য গ্রাহকদের সংক্ষিপ্ত কেওয়াইসি (নো ইউর কাস্টমার বা গ্রাহককে জানা) চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে এটি চালু হয়েছে। এছাড়া গ্রাহকের পরিচিতি নিশ্চিত করে হিসাব খোলার বিধান করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হবে না।









