ধর্ম

কোরআনের কোন সুরায় কী আছে

নিউজ ডেস্ক১৮ জুন ২০১৯৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

সুরা ফাতহ

আগের সুরায় যুদ্ধ সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছিল। যুদ্ধের জন্য প্রয়োজন সাহায্য এবং যুদ্ধের লক্ষ্য হলো বিজয়। আলোচ্য সুরায় ইসলাম ও মুসলমানদের এক মহাবিজয় সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। এই সুরায় প্রধানত হুদায়বিয়ার সন্ধি সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। মক্কার অদূরে হুদায়বিয়া নামক স্থানে মক্কার কুরাইশদের সঙ্গে মুসলমানদের ঐতিহাসিক হুদায়বিয়ার সন্ধি হয়েছিল। বাহ্যিকভাবে সেই সন্ধি ছিল ইসলামের বিপক্ষে। কিন্তু এই সুরা নাজিলের মাধ্যমে মহান আল্লাহ এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন যে এর মাধ্যমে মূলত মুসলমানরাই জয়ী হয়েছে। এরপর কাফিরদের জন্য জাহান্নামের এবং ঈমানদারদের জন্য জান্নাতের ওয়াদা করা হয়েছে। পরে হুদায়বিয়ার বৃক্ষের নিচে সংগঠিত বায়আতে রিদওয়ান সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে ঈমানদারদের হাতের ওপর আল্লাহর হাত রয়েছে। এরপর সেই সব মুনাফিকের সমালোচনা করা হয়েছে, যারা হুদায়বিয়ার বছর মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে বের হয়নি। পরে কাফিরদের অব্যাহত চুক্তিভঙ্গের পর চুক্তি বাতিল বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এই সুরায় মহানবী (সা.)-এর স্বপ্নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি স্বপ্নে দেখেছেন যে তিনি মসজিদুল হারামে প্রবেশ করেছেন। অথচ তখন কাফিররা মুসলমানদের মক্কা যেতে বাধা দিত। মহান আল্লাহ একসময় তাঁর, নবীর স্বপ্ন সত্যে পরিণত করেছেন।

তিনটি কথার মাধ্যমে সুরাটি শেষ হয়েছে—

এক. ইসলাম এসেছে সব ধর্মাদর্শের ওপর বিজয়ী হওয়ার জন্য।

দুই. ঈমানদাররা পরস্পরের ওপর সদয় এবং কাফিরদের ব্যাপারে কঠোর।

তিন. ঈমানদারদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও উত্তম প্রতিদান।

 

সুরা হুজুরাত

এই সুরার বিষয়বস্তু হচ্ছে মুসলমানদের এমন আদব-কায়দা, শিষ্টাচার ও আচরণ শিক্ষা দেওয়া, যা তাদের ঈমানদারসুলভ স্বভাব-চরিত্র ও ভাবমূর্তির উপযুক্ত ও মানানসই।

এই মর্মে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে কোনো খবরই যাচাই-বাছাই না করে বিশ্বাস করা উচিত নয়। খবর নির্ভরযোগ্য না হলে সমাজে এ নিয়ে বিবাদ দেখা দেয়।

তারপর মুসলমানদের সেই সব খারাপ জিনিস থেকে আত্মরক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা সমাজজীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে এবং যার কারণে পারস্পরিক সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়। বিষয়গুলো হলো, একে অপরকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা, বদনাম ও উপহাস করা, খারাপ নামে আখ্যায়িত করা, খারাপ ধারণা পোষণ করা, অন্যের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করা ইত্যাদি। এগুলো গুনাহর কাজ। এগুলো সমাজে বিপর্যয় সৃষ্টি করে। অতঃপর গোত্রীয় ও বংশগত বৈষম্যের ওপর আঘাত হানা হয়েছে, যা সারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে থাকে। বিভিন্ন জাতি, গোত্র ও বংশের নিজ নিজ মর্যাদা নিয়ে গর্ব ও অহংকার করা, অন্যদের নিজেদের চেয়ে নিম্নস্তরের মনে করা ইত্যাদির কারণে পৃথিবী জুলুমে ভরে গেছে। এখানে এই মহাসত্যের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে সব মানুষ অভিন্ন উৎস থেকে এসেছে। তাই অহংকারের কিছু নেই। সব শেষে মানুষকে বলা হয়েছে যে ঈমানের মৌখিক দাবি প্রকৃত জিনিস নয়, বরং বাস্তব জীবনে ঈমানের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো জরুরি। এ বিষয়ে বেদুঈন আরবের কিছু নামেমাত্র মুসলমানের কথা তুলে ধরা হয়েছে।