জাতীয়

চীনের সঙ্গে সই হতে যাচ্ছে ২৫ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক

নিউজ ডেস্ক১২ অক্টোবর ২০১৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

চীন ও বাংলাদেশ তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বহুমাত্রিকতা আনতে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের সময় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার পাশাপাশি যোগাযোগ, সন্ত্রাসবাদ দমন, সামুদ্রিক অর্থনীতি ও তথ্যপ্রযুক্তির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে। চীনের প্রেসিডেন্টের সফরের সময় দুই দেশ ২৫টির মতো চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের জন্য চূড়ান্ত করেছে।

শি জিনপিং আগামী শুক্রবার সকালে কম্বোডিয়া থেকে বাংলাদেশ সফরে আসছেন। পরদিন সকালে তিনি ঢাকা থেকে ভারতের গোয়ায় যাবেন।
দুই দিনের বাংলাদেশ সফরের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট তাঁর দেশের ২৪ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন স্টেট কাউন্সিলর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত তিন দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো চীনের কোনো প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরকে ইতিমধ্যে ‘মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। ফলে এ সফরে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘোষণা আসছে। পাশাপাশি শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে সম্পর্কটা নতুন একটি স্তরে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।

এ সফরে চীনের পক্ষ থেকে কী পরিমাণ আর্থিক সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে, সে সম্পর্কে এখনই মুখ খুলতে রাজি নন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে শেষ পর্যন্ত আর্থিক ঘোষণার পরিমাণ ‘চমকে দেওয়ার মতো’ হতে পারে বলে তাঁরা আভাস দিয়েছেন।

জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্র প্রথম আলোকেবলেছে, চীনের প্রেসিডেন্টের সফরে বিভিন্ন প্রকল্প, আর্থিক সহযোগিতা এবং চুক্তি ও সমঝোতা নিয়ে শেষ মুহূর্তের আলোচনা চলছে। সফরের আগের দিন পর্যন্ত এ নিয়ে আলোচনা চলবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় চীন এখন পর্যন্ত ২৯টি প্রকল্প চূড়ান্ত করেছে। এর বাইরে আরও অনেক প্রকল্প নিয়ে দুই পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় তালিকায় থাকা বিদ্যুৎ, জ্বালানি, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতের প্রকল্পগুলোতে সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও যুক্ত করা হবে। এই প্রকল্পগুলো চূড়ান্ত হলে তা দুই দেশের আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে যৌথ ঘোষণায় উল্লেখ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটকে বিবেচনায় নিয়ে দুই দেশ এবার প্রথমবারের মতো সন্ত্রাসবাদ দমনে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করতে যাচ্ছে। এটি সই হলে বাংলাদেশের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ দমনে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে চীন। এ ছাড়া সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি চীন কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাও দেবে।

ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তির পর থেকেই সামুদ্রিক ক্ষেত্রে সহযোগিতায় আগ্রহ দেখিয়ে আসছে চীন। এরই ধারাবাহিকতায় চীনের প্রেসিডেন্টের সফরে সামুদ্রিক ক্ষেত্রে দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারকে সই করবে। এর আওতায় সামুদ্রিক সম্পদ আহরণে বাংলাদেশকে প্রশিক্ষণ, গবেষণাসহ মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে চীন।

জানা গেছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ বা ওবোর নামে পরিচিত উন্নয়ন কৌশল ও রূপরেখায় ইতিমধ্যে বাংলাদেশকে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এবারের সফরের সময় এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে। ওবোরে যুক্ত হলে সিল্ক রোড ফান্ড (এই উদ্যোগে যুক্ত দেশগুলোর জন্য চীনের সরকারি বিনিয়োগ তহবিল) থেকে স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে ঋণ পাবে বাংলাদেশ।

কূটনৈতিক সূত্র বলেছে, চীনের প্রেসিডেন্টের সফর সামনে রেখে সে দেশের উচ্চপর্যায়ের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল কাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসছে। চীনের অনেক শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী কর্মকর্তারা ঢাকায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আয়োজিত আলোচনায় অংশ নেবেন।

সূত্র: প্রথম আলো