শিক্ষা

অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের সনাক্তকরণে রাজশাহীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চিঠি: ব্যবস্থা নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ

নিউজ ডেস্ক১৩ জুলাই ২০১৬৩ মিনিট পড়া

শফিক আজম:
দশ দিনের বেশি কোনো শিক্ষার্থী ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে সরকারকে অবহিত করতে হবে। সরকারি এমন নির্দেশের ভিত্তিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো চিঠি পাঠানো হয়েছে। গত ১০ জুলাই পাঠানো এ চিঠিতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের সনাক্তকরণের কথা বলা হয়েছে।

 
চিঠিতে বলা হয়, গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান রেষ্টুরেন্টে এক সন্ত্রাসী হামলায় প্রায় ২০ জন দেশি-বিদেশী মানুষ প্রাণ হারায়। এর পরই গত ৭ জুলাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের সন্নিকটে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়।

 

এ হামলায় পুলিশ বাহিনীর দুজন সদস্যসহ একজন মহিলা প্রাণ হারান এবং অনেক নিরীহ মানুষ আহত হন।

 

গুলশানের ঘটনা লক্ষ্য করে দেখা গেছে যে, কোনো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে পরবর্তীতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে। অনুরুপ ভাবে আরো কিছু শিক্ষার্থী নিখোজ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এদেও নানান নাশকতামূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায়না। দেশের আইন শৃঙ্খলাবাহিনী এ সমস্যা সম্পর্কে  সজাগ আছে এবং যে কোন নাশকতামূলক কর্মকান্ড মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করছে। উদ্ভট পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

 
বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোন শিক্ষার্থী যাতে বিভ্রান্ত ও বিপথগামী না হতে পারে সেজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। উদ্ভট পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য নিন্মোক্ত ব্যবস্থা গ্রহনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে-
ক. যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া দশ দিনের বেশি অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সনাক্ত করবে এবং তাদের অভিভাবকের সাথে আলোচনার পর অনুপস্থিতির কারণ সন্দেহজনক বলে প্রতীয়মান হলে লিখিতভাবে উক্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করবে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার প্রাপ্ত তথ্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসককে অবহিত করবেন। মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ জেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে এরুপ তথ্য জেলা প্রশাসকের নিকট প্রেরণ করবে। সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ এরুপ তথ্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকে অবহিত রেখে জেলা প্রশাসকের নিকট প্রেরন করবে। তথ্য প্রাপ্তির পর জেলা প্রশাসক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

 
খ. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রত্যেক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর সংরক্ষণ করবে এবং কোন শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতির কারণ সন্দেহজনক হলে অভিভাবকের সঙ্গে আলোচনা করবে।

 
গ. বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর তাদের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের উল্লিখিত কার্যক্রম তদারকি ও যথাযথভাবে পালন নিশ্চিত করবে।

 
এমতাবস্থায় মাধ্যমিক, তদুর্দ্ধ পর্যায়ের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপর্যুক্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।

 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর হবিবুর রহমান সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, এটা সরকারের একটি কার্যকরী পদক্ষেপ। এতে করে সকল শিক্ষার্থীরা ক্লাসমুখী হবে। ফলে কোনো শিক্ষার্থী আর ঝরে পড়বে না। শিক্ষকদের সাথে শিক্ষার্থীদের এবং অভিভাবকদের একটি সুসম্পর্ক গড়ে উঠবে।

 
তিনি বলেন, রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী করতে বাধ্য করেছে। সরকারী সিদ্ধান্তের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে আমরা চেষ্টা করছি সকল অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ রেখে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কোনো শিক্ষার্থীকে অযথা হয়রানি হতে হবে না। তবে শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী হয়ে আমাদের সহায়তা করতে হবে।

 

রাজশাহী কলেজের মতো নগরী এবং জেলার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও একই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স/আর