সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশে গত পাঁচ বছরে আর্থিক সেবায় মানুষের সুযোগ-সুবিধা বেশ খানিকটা বেড়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। আইএমএফের দ্য ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকসেস সার্ভেতে (এফএএস) এ চিত্র উঠে এসেছে।
গত শুক্রবার আইএমএফ এ জরিপ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি, ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলার সংখ্যা বিপুল পরিমাণে বেড়ে যাওয়া, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে অগ্রগতি, এটিএম বুথের সংখ্যা বৃদ্ধি ইত্যাদি নানা চিত্র উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। জরিপে ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করা হয়েছে।

আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি এক হাজার বর্গকিলোমিটারে বাণিজ্যিক ব্যাংক ২০১৩ সালে ছিল ৬৭টি। এটি ২০১৭ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৭৭টিতে। এই পাঁচ বছরে প্রতি এক লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংখ্যা ৮ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় সাড়ে ৮টি।
২০১০ সালে দেশে ১০ টাকায় কৃষকের ব্যাংক হিসাব খোলার কাজ শুরু হয়। মাত্র চার বছরের মধ্যে এই হিসাবের সংখ্যা দেড় কোটির কাছাকাছি চলে আসে। ২০১৬ সাল থেকে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আর্থিক অনুদান ও ভাতা ব্যাংকের মাধ্যমে দেয়ার ব্যবস্থা করে। এর ফলে সাধারণ মানুষও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ পেয়ে যায়।
আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালে প্রতি হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে ব্যাংক হিসাব ছিল ৫৯৯টি। ২০১৭ সালে এর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৭০টি। এ সময়ে মোবাইল মানি এজেন্টদের সংখ্যা চার গুণ বেড়েছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে এটিএম বুথের সংখ্যা পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে। প্রতি এক লাখ মানুষের জন্য আগে ছিল ৪টি বুথ। এখন বুথের সংখ্যা ৮।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোবাইলে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে আফ্রিকার দেশগুলোর অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়া মিয়ানমারসহ কয়েকটি রাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশে মোবাইলে টাকা পাঠানোর পরিমাণও বেড়েছে বিপুল পরিমাণে। ২০১৩ সালে প্রতি হাজার জনে লেনদেন হতো ২ হাজার টাকা, গত বছর এটি ১৫ হাজার টাকার বেশি হয়েছে।









