সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
কোরবানির মাংস রান্নায় প্রধান উপকরণ মসলা। এ জন্য ঈদুল আজহার আগে মসলার চাহিদা অনেক বেশি থাকে। আর এই সুযোগে এ বছরও সক্রিয় মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা। তারা মসলার দাম বাড়িয়েই চলেছেন। যার প্রভাব পড়ছে রাজধানীর খুচরা বাজারে। গত সপ্তাহের মতো পেঁয়াজ, রসুন, দারুচিনি ও জিরা বিক্রি হয়েছে চড়া দামে। তবে শুক্রবার নতুন করে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে মানভেদে আদা বিক্রি হয়েছে ১৩০-১৪০ টাকা।
এছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে ব্রয়লার মুরগি ও চিনির দাম। তবে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, মাছ-মাংসসহ বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের দাম ছিল স্থিতিশীল। রাজধানীর নয়াবাজার, কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর ও মালিবাগ বাজার ঘুরে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

বাজারগুলোতে সরেজমিন দেখা গেছে, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ মানভেদে বিক্রি হয়েছে ৫৫-৬০ টাকায়। আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০-৪৫ টাকা। রসুন মানভেদে বিক্রি হয়েছে ৮০-৯০ টাকা। প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হয়েছে ১৮৫০-১৯০০ টাকা, যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ১৫৮০ টাকা। দারুচিনি বিক্রি হয়েছে ২৮০ টাকা, যা আগে বিক্রি হয়েছে ২১০ টাকায়। জিরা (টার্কি) ৪১০ ও ইন্ডিয়ান জিরা ৩১০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে, যা আগে বিক্রি হয়েছে ৩৫০ ও ২৮০ টাকায়। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় আদা প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। শুক্রবার মানভেদে আদা বিক্রি হয়েছে ১৩০-১৪০ টাকা কেজি।
এদিকে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজারমূল্য তালিকায়ও এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধির চিত্র দেখা গেছে। সেখানে দেশি পেঁয়াজের দাম এক মাসের ব্যবধানে ২২ দশমিক ২২ শতাংশ বেড়েছে, আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ১৩ দশমিক ৩৩, আদা ২১ দশমিক ৫ শতাংশ, রসুন ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ, এলাচ ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেড়েছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মসলা ব্যবসায়ী হানিফ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী বেলাল হোসেন জানান, পাইকারি বাজারে গেলে মসলার সংকটের কথা বলা হচ্ছে। তার মানে ঈদ আসার আগে মসলার দাম আরও বাড়বে। অথচ ঈদের এখনও প্রায় ১১ দিন সময় রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের মতো খুচরা বিক্রেতাদের কিছুই করার নেই। বেশি দাম দিয়ে এনে বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। কিন্তু ক্রেতাদের সব কথা আমাদেরই শুনতে হচ্ছে।
এদিকে রাজধানীর বাজারগুলোতে শুক্রবার গত সপ্তাহের দামে সবজি বিক্রি হয়েছে। সে ক্ষেত্রে প্রতি কেজি গাজর ৬০ টাকায় বিক্রি হয়, যা গত সপ্তাহে একই দাম ছিল। বরবটি প্রতি কেজি ৫০-৫৫ টাকা। প্রতি কেজি শসা ৬০-৬৫ টাকা, বেগুন ৪০-৫০ টাকা, করলা মানভেদে ৫০-৬০ টাকা, টমেটো ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হয়। কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১০০-১২০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪৫ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, মাঝারি আকারের লাউ প্রতিটি ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
শান্তিনগর কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা সরকারি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন অজুহাতে ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। কোরবানির ঈদ সামনে তাই বিক্রেতারা বিভিন্ন ধরনের মসলা চড়া দামে বিক্রি করছে। সবজিও বিক্রি হচ্ছে উচ্চমূল্যে। যেন দেখার কেউ নেই। তাই নিত্যপণ্যের দাম যাতে সহনীয় থাকে এজন্য সংশ্লিষ্টদের নজরদারি বাড়াতে হবে।
অন্যদিকে মাছ ও মাংসের বাজারে অনেকটা স্বস্তি বিরাজ করছে। প্রতি কেজি রুই ও কাতলা ২৩০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে একই দামে বিক্রি হয়। কেজিপ্রতি বড় আকারের চিংড়ি এক হাজার টাকা, মাঝারি আকারের চিংড়ি ৭০০-৭২০ টাকা ও ছোট আকারের চিংড়ি ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কেজিপ্রতি তেলাপিয়া ১৩০-১৪০ টাকা, কই ১৪৫-১৫৫ টাকা, সিলভার কার্প ১০০-১৩০ টাকা, পাবদা ৪০০-৪৫০ টাকা, পাঙ্গাশ ১১০-১৩০ টাকা, নলা ১২৫-১৩৫ টাকা ও সরপুঁটি ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাংসের বাজারও স্থিতিশীল।
শুক্রবার ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ১৬৫ টাকায় বিক্রি হলেও শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা। পাকিস্তানি মুরগি আকারভেদে ১৫০-৩০০ টাকা, লেয়ার ২০০ টাকা ও গরুর মাংস ৪৭০-৫০০ টাকায় বিক্রি হয়।









