সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
বর্তমান মোবাইল নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদলের সুযোগ বা এমএনপি সেবা নিতে হলে গ্রাহককে নতুন সিম নিতে হবে। এটি গ্রাহক যতবার অপারেটর বদলাবেন ততবারই করতে হবে।
এমএনপি বাস্তবায়নকারী কোম্পানি ইনফোজিলিয়ন বিডি-টেলিটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামরুর হোসেন জানান, এমএনপির জন্য গ্রাহককে নতুন সিম নিতে হবে। তবে এর জন্য কোনো চার্জ গ্রাহককে দিতে হবে না। গ্রাহক যে অপারেটরে যেতে চান সেই অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে সিমটি তুলে নিতে পারবেন।

গ্রাহককে ৩০ টাকা ফি দিয়ে নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর পরিবর্তন করতে হবে। অপারেটর পরিবর্তনে নতুন সিম নেয়ার পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তা কার্যকর হয়ে যাবে। তবে পুনরায় অপারেটর পরিবর্তন করতে হলে তাকে ৯০ দিন অপেক্ষা করতে হবে। তখন আবার নতুন সিম নিতে হবে।
২০১৭ সালের নভেম্বরে বিটিআরসি ইনফোজিলিয়ন বিডি-টেলিটেককে লাইসেন্স দেয়। তখন শর্ত ছিল ছয় মাসের মধ্যে সেবা চালু করতে হবে। কিন্তু কোম্পানিটি নির্ধারিত সময়ে নিজেদের প্লাটফর্ম প্রস্তুত করলেও অপারেটরদের প্রস্তুতিসহ নানা জটিলতায় আট মাসেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
সর্বশেষ ১ আগস্ট এই সেবাটি চালু হওয়ার কথা রয়েছে । কিন্তু এরমধ্যে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
গত ২৫ জুন দেয়া বিটিআরসির একটি নির্দেশনার উল্লেখ করে অপারেটরগুলো বলছে, নির্দেশনায় কল আদান-প্রদান ব্যবস্থায় যে পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে তা এমএনপি বাস্তবায়ন ব্যহত করবে। নতুন এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে ১ আগস্ট তারা এনএনপি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে না।
ইতোমধ্যে উদ্ভুত বিষয়গুলো জানিয়ে বাংলালিংক, গ্রামীণফোন ও রবি যৌথভাবে বিটিআরসিকে চিঠিও দিয়েছে।
মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বিটিআরসির নির্দেশনার নতুন এই কারিগরি বিষয়ের সঙ্গে তারা পরিচিত নন। এমন পদ্ধতি পৃথিবীর কোথাও নেই।
‘সময়সাপেক্ষ ধরে যদি এটি করা যায়ও তাহলেও নানা ধরণের জটিলতা তৈরি হবে। গ্রাহক মানসম্মত সেবা পাবেন না। অন্যদিকে ব্যয় তো বাড়বেই।-বলছিলেন কর্মকর্তারা।
মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবের মহাসচিব টি আই এম নূরুল কবীর তখন জানিয়েছিলেন, নতুন নির্দেশনায় কল আদান-প্রদান ব্যবস্থায় যে পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে, তা আইএলডিটিএস নীতিমালা ও এমএনপি নীতিমালার পরিপন্থী।
গেটওয়ের দায়িত্ব মোবাইল ফোন অপারেটরদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হলে এ দুটি নীতিমালার সংশ্লিষ্ট ধারার ব্যত্যয় ঘটবে। আইএলডিটিএস নীতিমালার ধারা ৫ দশমিক ২ ও ৬ দশমিক ৪ এবং এম এন পি গাইডলাইনের ৫ দশমিক ৩ ও সিডিউল ৭ (৪) ধারা অনুযায়ী এই দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট গেটওয়েগুলোর।
‘এছাড়া কারিগরিভাবে এ নির্দেশনায় জটিলতা তৈরি হবে। কারণ ইতোমধ্যে সেবাটি চালুতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে অপারেটররা। সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন ও টেস্টিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে গত ২৪ জুন থেকে।
৮ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউজার অ্যাকসেপট্যান্স টেস্ট (ইউএটি) শুরু হওয়ার কথা। আর সব কিছু ঠিক থাকলে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সেবাটি চালু করা সম্ভব হতো। তাই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এমএনপি চালু করতে হলে টপোলজিতে নতুন করে আর কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়।’-জানিয়েছিলেন অ্যামটব মহাসচিব।
এর আগে নানা চড়াই উতরাইয়ের পরে বড় তিন অপারেটর এমএনপি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়। সর্বশেষ গত ২৪ জুন যুক্ত হয়েছে বাংলালিংক। সবার প্রথমে গ্রামীণফোন এবং পরে রবিও যুক্ত হয়।
প্রথম দিকে ‘কারিগরি নির্দেশনা’ না পাওয়া সব নানা প্রযুক্তিগত জটিলতাকে সামনে এনে মোবাইল অপারেটরগুলো এটিকে বিলম্ব করার চেষ্টা করছিল। পরে অবশ্য টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের কড়া অবস্থানের কারণে তারা এই নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।









