অর্থ ও বাণিজ্য

প্রত্যাশার তুলনায় পিছিয়ে ইন্দোনেশিয়ার কয়লা রফতানি

নিউজ ডেস্ক১৪ জুলাই ২০১৮৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

২০১৮ সালে সব মিলিয়ে ৩৭ কোটি টনের বেশি কয়লা রফতানির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল ইন্দোনেশিয়া সরকার। তবে প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে দেশটির কয়লা রফতানি খাত। চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে লক্ষ্যের এক-চতুর্থাংশের সামান্য বেশি কয়লা রফতানি করেছে দেশটির রফতানিকারকরা। ফলে বছরের বাকি সময়ে জ্বালানি পণ্যটির রফতানি লক্ষ্য পূরণ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি দাম বজায় থাকা সত্ত্বেও রফতানিতে তুলনামূলক মন্দাভাবের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইন্দোনেশিয়ার খনিগুলো থেকে জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে। খবর সিনহুয়া ও জাকার্তা পোস্ট।

ইন্দোনেশিয়ার মিনিস্ট্রি অব এনার্জি অ্যান্ড মিনারেল রিসোর্সেসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের প্রথম ছয় মাসে ইন্দোনেশিয়ার খনিগুলো থেকে সব মিলিয়ে ১৬ কোটি ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টন কয়লা উত্তোলন হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি। তবে দেশটির সরকারি প্রাক্কলনের তুলনায় এটা বেশ কম। চলতি বছর সব মিলিয়ে ৪৮ কোটি ৫০ লাখ টন কয়লা উত্তোলনের পূর্বাভাস দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। সেই হিসাবে, লক্ষ্য পূরণে বছরের বাকি ছয় মাসে আরো ৩২ কোটি ১৫ লাখ ৬০ হাজার টন কয়লা উত্তোলন করতে হবে ইন্দোনেশীয় উত্তোলনকারীদের। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অং প্রিবাদি জানান, ২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়া সরকার মোট ৩৭ কোটি ১০ লাখ টন কয়লা রফতানির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৯ কোটি ৪৬ লাখ ৮০ হাজার টন কয়লা রফতানি হয়েছে, যা দেশটির সরকার নির্ধারিত বার্ষিক লক্ষ্যের এক-চতুর্থাংশের সামান্য বেশি।

দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিগত এক দশকের মধ্যে দুই বছর (২০১৪ ও ২০১৬ সাল) দেশটির কয়লা উত্তোলন খাতে মন্দাভাব দেখা গেছে। ২০০৮ সালে দেশটির খনিগুলো থেকে সব মিলিয়ে ২৪ কোটি টন কয়লা উত্তোলন হয়েছিল। পরের দুই বছরে দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন বেড়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে ২৫ কোটি ৪০ লাখ টন ও ২৭ কোটি ৫০ লাখ টন। ২০১১ সালে দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কয়লা উত্তোলন ৩০ কোটি টন ছাড়িয়ে যায়। এ সময় ইন্দোনেশিয়ার উত্তোলনকারীরা মোট ৩৫ কোটি ৩০ লাখ টন কয়লা উত্তোলন করে। পরের বছর দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন আরো বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ কোটি ২০ লাখ টনে। দেশটির ইতিহাসে এ বছরই প্রথম ৪০ কোটি টনের বেশি কয়লা উত্তোলন হয়েছিল।

প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে ইন্দোনেশিয়ার কূপগুলো থেকে ৪৭ কোটি ৫০ হাজার টন কয়লা উত্তোলন হয়েছিল, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তবে পরের বছরই জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন কমে দাঁড়ায় ৪৫ কোটি ৮০ লাখ টনে। বিগত এক দশকের মধ্যে ২০১৪ সালে দেশটির কয়লা উত্তোলন খাতে প্রথম মন্দাভাব দেখা দেয়। ২০১৫ সালে ৪৬ কোটি ১০ লাখ টন কয়লা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে ফের প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে আসে ইন্দোনেশিয়া। তবে বছর শেষে দেশটির কয়লা উত্তোলনে ফের মন্দাভাব দেখা দেয়। এ সময় মোট ৪৫ কোটি ৬০ লাখ টন কয়লা উত্তোলন হয়েছিল। মন্দাভাব কাটিয়ে সর্বশেষ ২০১৭ সালে ইন্দোনেশিয়ায় মোট ৪৬ কোটি ১০ লাখ টন কয়লা উত্তোলন হয়েছে।

অন্যদিকে ২০০৮ সালে দেশটি থেকে সাকল্যে ১৯ কোটি ১০ লাখ টন কয়লা রফতানি হয়েছিল। ২০১১ সালে এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ কোটি ৭০ লাখ টনে। প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে ইন্দোনেশীয় রফতানিকারকরা মোট ৪০ কোটি ২০ লাখ টন কয়লা রফতানি করেছিল, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। পরের বছর জ্বালানি পণ্যটির রফতানি কমে দাঁড়ায় ৩৮ কোটি ২০ লাখ টনে। পরের তিন বছর কয়লা রফতানি খাতে ধারাবাহিক মন্দাভাব বজায় ছিল। সর্বশেষ ২০১৭ সালে দেশটি থেকে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ টন কয়লা রফতানি হয়, যা আগের বছরের তুলনায় ২০ লাখ টন কম। চলতি বছর ৩৭ কোটি ১০ লাখ টন কয়লা রফতানির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। তবে বছরের প্রথম ছয় মাসে কয়লা রফতানির বিবরণ দেখে লক্ষ্য পূরণ নিয়ে সংশয়ে ভুগছে দেশটির খনিজ রফতানিকারকরা।