সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
শিশু থেকে বয়স্ক ব্যক্তির দেহেও অণুজীব প্রতিরোধী বা অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স তৈরি হওয়ার ঘটনা ঘটছে। এতে একদিকে যেমন রোগীর চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে সংক্রমিত রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে তৈরি করছে জটিলতা। মা-বাবার মাধ্যমে এই সমস্যা সদ্যভূমিষ্ঠ শিশুর জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে তার পুরো জীবনের জন্য।
আঠার মাসের শিশু ওয়াকিল আহমেদ কিডনি রোগে আক্রান্ত। বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি হাসিখুশি এই শিশুর দেহে বাসা বেঁধেছে পরিচিত ব্যাকটেরিয়া ই.কোলাই।

সেফালোসপোরিন গ্র“পের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের অ্যান্টিবায়োটিকসহ অন্যান্য গ্র“প ও উপগ্র“পের প্রায় বিশটি অ্যান্টিবায়োটিক তার দেহে জীবাণু প্রতিরোধী হয়ে আছে। ফলে সেই ওষুধগুলো শিশুটির দেহে কাজ করছে না। শুধুমাত্র সবশেষ প্রজন্মের মাত্র দু’টি অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে। ওয়াকিলের ভবিষ্যত চিকিৎসা ও ব্যয় নিয়ে চিন্তিত তার বাবা-মা ও চিকিৎসক।
মা বাবার সাথে কথা বলে জানা যায় তারা রোগ নিরাময়ে খুব একটা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেননি। সন্তানের দেহে অনুজীবগুলো কি করে প্রতিরোধী হলো সে হিসেব মিলছে না তাদের। অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের পরামর্শের পাশাপাশি সতর্ক ও সচেতন হওয়ার তাগিদ আছে বিশেষজ্ঞদের।
ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি তিনদিন বয়সী এক শিশুর দেহেও পাওয়া গেছে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্সের ভয়াবহ বাস্তবতা। শিশু বিশেষজ্ঞ এই ডাক্তার জানালেন, জন্মসূত্রে এমন বিপদ নিয়ে ভূমিষ্ঠ হচ্ছে অনেক শিশু।
অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের বিরুদ্ধে অনুজীবের প্রতিরোধী হওয়ার ক্ষমতা শুধুমাত্র শিশুদের ক্ষেত্রে নয়, ঢাকা মেডিকেলের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি হওয়া ষাটোর্ধ্ব কয়েকজন রোগীর ক্ষেত্রেও দেখেছেন চিকিৎসকরা।
১৯৮৭ সালে সবশেষ অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কৃত হয়েছিল, এরপর নতুন ধরনের কোন অ্যান্টিবায়োটিক বাজারে আসেনি। এটির আবিষ্কার ব্যয়সাধ্য ও কম লাভজনক হওয়ায় বিশ্বখ্যাত ওষুধ কোম্পানিগুলো অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন ও গবেষণায় আগ্রহ হারাচ্ছে।









