সিল্কিসিটিনিউজ ডেস্ক:
দেশে মোবাইল হ্যান্ডসেট সংযোজনে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে। যেটি দেশে সদ্য গড়ে ওঠা এই খাতের বিনিয়োগকারীদের পথে বসিয়ে দেবে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।
তারা বলছেন, এই ভ্যাটের ফলে একটি হ্যান্ডসেট আমদানিতে আরোপিত করের চেয়েও দেশে সংযোজন করা হ্যান্ডসেটের কর বেশি হয়ে গেছে। ফলে খাতটির এখানেই ইতি ঘটবে এবং যারা ইতোমধ্যে বিনিয়োগ করে ফেলেছেন তারা বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বাজেট প্রস্তাবে হ্যান্ডসেট উৎপাদনকে ভ্যাট ও সারচার্জমুক্ত রাখার কথা বলা হয়।
কিন্তু ভ্যাট এসআরওতে সংযোজনকে আলাদা করে সংজ্ঞায়িত করা হয়। সেখানে উৎপাদক হিসবে শুধু ভ্যাট ছাড়ের সুবিধা দেয়ার কথা রয়েছে।
এসআরও নং-১৬৮ –এ উল্লেখ করা হয়, সংযোজনকারী ব্যতীত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানই ভ্যাট মওকুফ সুবিধা পাবে, সংযোজনকারী নয়। সংযোজনকারীদের যন্ত্রাংশ বা কাঁচামাল আমদানিতেও ভ্যাট দিতে হবে ১৫ শতাংশ হারে।
প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রিন্টেট সার্কিট বোর্ড, চার্জার, হাউজিং এবং ব্যাটারি উৎপাদনের সক্ষমতা থাকতে হবে। কমপক্ষে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজন করতে হবে, জনবল হতে হবে কমপক্ষে ২৫০ জন।
এছাড়া পণ্য উৎপাদনে কারখানায় ১৮ রকমের মেশিনারিজ থাকতে হবে। আর শর্তে অন্যান্য দাপ্তরিক নিয়ম-কানুন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের বিষয় তো আছেই।
এর আগে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশে মোবাইল ফোন উৎপাদনে এবং মোবাইল যন্ত্রাংশ আমদানিতে ব্যাপক শুল্ক ছাড় দেয়া হয়। তখন স্থানীয়ভাবে হ্যান্ডসেট তৈরিতে প্রয়োজনীয় সব রকমের যন্ত্রাংশে এই ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়।
অধিকাংশ যন্ত্রাংশে যেখানে ২৫ শতাংশ, কোনোটিতে ১৫ বা ১০ শতাংশ ছিল তা কমিয়ে মাত্র ১ শতাংশের সুবিধা পায় এ খাতের ব্যবসায়ীরা।
দেশে হ্যান্ডসেট কারখানা স্থাপন ও এ খাতে বিনিয়োগকারীরা বলছেন, গত অর্থবছরে সরকারের এই ব্যাপক সুবিধা ঘোষণার কারণেই অনেকে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন করেছেন বা করার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন।
তখন তো সেখানে সংযোজন ও উৎপাদন আলাদা কোনো বিষয় ছিল না। মূলত এসব যন্ত্রাংশ আমদানির অর্থ দেশে হ্যান্ডসেট সংযোজনই। সাধারণত স্থানীয়ভাবে পুরোপুরি উৎপাদনের ক্ষেত্রে যেমন আয়োজন প্রয়োজন তা তো এত দ্রুত সম্ভব না-বলছিলেন তারা।
ট্রানশান হোল্ডিংস বাংলাদেশ লিমিটেডের সিইও এবং মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসেসিয়েশনের কার্যনির্বাহী সদস্য রেজওয়ানুল হক বলেন, দেশে মোবাইল কারখানা স্থাপন যারা করেছেন বা করার প্রক্রিয়ায় আছেন তাদের বেশিরভাগই সংযোজনকারী। ভ্যাট ছাড় পেতে যেসব শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে তাতে এই কারখানাগুলো কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
‘এখন যে ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে তাতে তৈরি হ্যান্ডসেট আমদানির চেয়ে খরচ বেশি হবে সংযোজনে। আমদানিতে যেখানে এখন ৩৩ শতাংশ কর সেখানে সংযোজনে হবে ৩৫ শতাংশ। এতে বিনিয়োগকারীদের পথে বসিয়ে দেয়া হল। চার্জার, ব্যাটারি, কেসিং ইত্যাদি যন্ত্রাংশগুলো স্মার্টফোন ব্র্যান্ড কোম্পানিগুলো নিজেদের কারখানায় তৈরি করে না। সারা পৃথিবীতেই এখন একটি প্রযুক্তি পণ্যের অনেক যন্ত্রাংশ আউটসোর্সিং বা অন্য কোম্পানি হতে তৈরি করে নিয়ে আসা হয়।’-বলছিলেন রেজওয়ানুল।
উই স্মার্ট সল্যুউশনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ও হেড অব ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন মুনতাসির আহমেদ বলেন, এটি হলে গ্রাহকের কাছে স্বল্পমূল্যে হ্যান্ডসেট দেয়ার পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে। কারণে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বসলে তা ব্যয়বহুলই হবে।
দেশে হ্যান্ডসেট সংযোজন মাত্র শুরু হয়েছে, এটি নিজেদের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যাওয়ার প্রথম ধাপ। এখনই যদি এই ভ্যাট বসানো হয় তাহলে হ্যান্ডসেটে পুরোপুরি মেইড ইন বাংলাদেশের ভবিষ্যত সফলতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে-বলছিলেন মুনতাসির।









