অর্থ ও বাণিজ্য

রাজশাহী সিল্ক টানছে ক্রেতাদের, বেড়েছে বিক্রি

নিউজ ডেস্ক৬ জুন ২০১৮৪ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীর সিল্ক মানেই কাপড়ের জগতে দেশজুড়ে বাড়তি কদর। এ জন্য রেশম নগরীও বলা হয় রাজশাহীকে। প্রতিটি উৎসবে সিল্ক কাপড়ের যেন জুড়ি মেলে না। অন্যান্য কাপড় যত দামিই হোক না কেন, তার সঙ্গে একটা সিল্ক কাপড় থাকলে সেটিই আগে পছন্দের তালিকায় রাখেন বাঙালি বধূরা। ফলে ঈদ এলে সিল্ক কাপড়ের চাহিদা বেড়ে যায় আরো কয়েক গুণ। বিশেষ করে যারা সামর্থ্যবান পরিবার এবং সিল্ক কাপড়ের প্রতি যাদের আগ্রহ বরাবর থাকে, তাদের মধ্যে ঈদের সময় এই কাপড়ের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। ফলে এবার ঈদকে ঘিরেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। এবার গত কয়েক বছরের তুলনায় সিল্ক কাপড়ের দোকানে ক্রেতাদেরও ভিড় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। সিল্কের টানে আসছে ক্রেতারা। বিক্রিও হচ্ছে বেশ। রাজশাহীর সিল্কপল্লী এখন ব্যস্ততম সময় পার করছে।

সিল্ক শোরুমগুলোতে ঈদ উপলক্ষে এসেছে কাপড়ের নতুনত্ব।

ঈদকে ঘিরে রাজশাহী বিসিক শিল্প এলাকায় এখন পুরোদমে সচল সবকয়টি কারখানা। ঈদের বাজার ধরতে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সিল্ক কারখানাগুলোয় অনেক আগে থেকেই শুরু হয় কাপড় তৈরির কাজ। শাড়ি বুনন, রং করা, হাতের কাজ চলছে কারখানাগুলোতে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কাজ। সুঁই-সুতার ফোঁড়নে ব্যস্ত শ্রমিকরা।

রাজশাহীর সবচেয়ে বৃহৎ সিল্ক শোরুম সপুরা সিল্ক। এই কারখানা ও শোরুমের ব্যবস্থাপক সাইদুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, তাঁদের কারখানায় কয়েক শ শ্রমিক এখন ফুরসতের সময় পাচ্ছেন না। সবাই কাপড় তৈরিতে ব্যস্ত। কেউ নারীদের শাড়ি কাপড়, কেউ থ্রিপিস, কেউ সালোয়ার, কেউ পুরুষদের জন্য পাঞ্জাবি তৈরিতে ব্যস্ত। আর তাঁদের তৈরি কাপড়গুলো সোভা পাচ্ছে বিভিন্ন শোরুমে। ক্রেতারাও সিল্ক কাপড়ের নানা রং ও ডিজাইনের বাহারি কাপড় দেখে মুগ্ধ হচ্ছে। কিনতে ছুটে আসছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। এখান থেকে সপুরার ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শোরুমে যাচ্ছে সিল্ক কাপড়।

সাইদুর রহমান জানান, গতবারের চেয়ে ব্যবসা বেড়েছে। বিক্রি বাড়ায় সকাল ১০টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শোরুম খোলা রাখতে হচ্ছে। সপুরা সিল্কের নামকরা ডিজাইনার বাদল রহমান।

তিনি জানান, এবারের ঈদে তাদের বড় আকর্ষণ কাটোয়ার ডিজাইনের শাড়ি। আর আছে র-সিল্কের ওপর হাতের কারুকাজ। বিভিন্ন ডিজাইনের এই শাড়িগুলোর দাম রাখা হয়েছে তিন হাজার ২০০ টাকা থেকে ১২ হাজার ৫০০ টাকা। মসলিনের ওপর কাজ করা ডিজাইনের শাড়িও এবার নতুনভাবে হাজির হয়েছে। এসব শাড়ির দাম পড়বে সাত হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।

সফট সিল্ক শাড়ি কাপড় বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার টাকা থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া বাটিক সিল্ক তিন হাজার ২০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকা, বলাকা সিল্ক ৭ থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সিল্কের তৈরি থ্রিপিস বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত।

ছেলেদের পাঞ্জাবিতেও এসেছে নতুনত্ব। এবার সিল্কের সঙ্গে মিলিয়ে প্রিন্ট, স্ট্রাইপ ও নানা ডিজাইনের পাঞ্জাবি তৈরি করা হয়েছে গরম আবহাওয়া মাথায় রেখে। প্রতিটি পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে তিন থেকে আট হাজার টাকা। সিল্কের শার্ট বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ১৮ শ টাকা দামে। এর বাইরে ফতুয়া বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ১৮ শ টাকায়। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে বলাকার ওপর কন্ট্রাস্ট পাড় ও আঁচলের করা শাড়ি।

শাড়ি কিনতে আসা নগরীর নতুন বিলসিমলা এলাকার সায়েরা সুলতানা বলেন, ‘ঈদে একটা সিল্ক শাড়ি পেলে কার না ভালো লাগে। তাই এবারও একটা সিল্ক শাড়ি কিনতে ছুটে এসেছি। তবে গতবারের চেয়ে এবার একটু দাম বেশি মনে হচ্ছে। গতবার যে শাড়ি ছিল তিন হাজার টাকা, এবার সেটি হয়েছে ৩২ শ টাকা। ’

নিজের জন্য একটা সিল্কের পাঞ্জাবি খুঁজছিলেন একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা রাশেদ কবির সজল। তিনি বলেন, ‘সিল্কের পাঞ্জাবির যেন জুড়ি নেই। পরতেও অনেক আরাম লাগে। দেখতেও চমৎকার। তাই ঈদের জন্য এবার সুযোগ বুঝে একটা পাঞ্জাবি কিনতে চলে এলাম। ’ নগরীর বিসিক শিল্প এলাকায় আমেনা সিল্ক শোরুমের মালিক আমিনুল ইসলাম বাবু জানান, রোজার শুরু থেকেই সিল্কের কাপড় কেনার জন্য এবার ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। এখন সেটি কয়েক গুণ বেড়েছে।

তিনি জানান, তাঁদের শোরুমে মেয়েদের থ্রিপিসের মধ্যে রয়েছে মসলিন এমব্রয়ডারি, মসলিন এপলিক, সফট সিল্ক, এনডি সিল্ক ও বিভিন্ন হাতের কাজ করা থ্রিপিস। আড়াই হাজার থেকে সাড়ে ছয় হাজার টাকায় এসব থ্রিপিস বিক্রি হচ্ছে।

ঊষা সিল্ক শোরুমের ম্যানেজার আকবর হোসেন জানান, এখানে তিন হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকা দামের থ্রিপিস রয়েছে। শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ২২ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যে।

স/আর