সব খবর

যে রোগে তরুণীকে অন্তঃসত্ত্বার মতো দেখায়

নিউজ ডেস্ক২০ মে ২০১৮২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

মর্জিনার বয়স আর কত হবে। এই ধরেন তের কী চৌদ্দ বছর। প্রথম যখন মাসিক হয়েছিল খুব ভয় পেয়েছিল। গোপন কথাটা মাকে জানায়। মা-ই তাকে বুঝিয়ে বলেন, ‘মেয়েদের এটা একটা স্বাভাবিক ঘটনা। প্রতি চার সপ্তাহ পরপর দুই তিন দিন অল্প অল্প রক্তস্রাব হবে। এটা মেয়েদের সাবালক হবার লক্ষণ।’

এই সময় পর থেকেই মেয়েরা বিয়ে করলে সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে ১৮ বছর পূর্ণ না হলে মেয়েরা বিয়ে বা সন্তান নেয়ার জন্য পূর্ণভাবে প্রস্তুত হয় না।

মা তাকে পিরিয়ডকালীন স্বাস্থ্যসম্মত থাকার সব নিয়ম কানুন শিখিয়ে দেন। এখন থেকেই ছেলে বন্ধুদের থেকে একটু দূরে দূরে থাকার পরামর্শ দেন। স্কুলে যাওয়ার সময় পাড়ার বখাটে দুই ছেলে খল্কু কাদের ও মুরগী কাদের রাস্তায় উত্যক্ত করে। তাদের থেকে সাবধান থাকতে বলেন।

মর্জিনা বেশ সুন্দরী ও আকর্ষণীয়া। তাই মা তাকে হিজাব পরান। অজপাড়া গাঁয়ে বাড়ি হওয়ায় রাস্তার ধারে মাঝে মাঝে ঝোপঝাড়। একা একা মেয়েদের এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই তারা দলবদ্ধ হয়ে স্কুলে যাতায়াত করে।

হঠাৎ মাঝে মাঝে একা একা যেতে হয়। তখন আত্মাটা হাতে নিয়ে পার হয় এই ঝোপঝাড়। কখন কোন বখাটে এসে সামনে দাঁড়ায়, জড়িয়ে ধরে সেলফি তোলার নামে অসভ্যতা করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। এ নিয়ে মর্জিনা থাকে আতংকে।

মর্জিনা ক্লাস এইটে পড়ে। তার ছোট ভাইটি ক্লাস ফোরে পড়ে। বাবা সৌদি আরব চাকরি করেন। কোনমতে এসএসসি পাস করেছিলেন। ছোটবেলায়ই বাবা হারান মর্জিনার বাবা গফুর মিয়া।

গফুর মিয়ার বাড়ি ভিটা ও পালানের ক্ষেতটি ছাড়া আর কোন জমিজমা নাই। তাতে সংসার চলতো না। চাকরি নেবার চেষ্টা করেছেন বেশ কয়েকবার। কিন্তু ঘুষ ছাড়া চাকরি পাওয়া বড় দুষ্কর। কোম্পানির চাকরি পাওয়া যায়। কিন্তু তাতে বেতন কম, খাটুনি বেশি এবং বউ বাচ্চা রেখে দূরে থাকতে হয়। তাই তিনি কোম্পানির চাকরি নেন না।

গ্রামে আছে টাকা লোন দেয়ার সমিতি। কয়েকজন প্রবাসী ও দেশী মিলে এই সমিতি করেছে। সমিতির নাম দিয়েছেন ‘গরিবের বন্ধু।’ গরিবের বন্ধু গরিব যুবকদের চড়া সুদে টাকা ধার দেন বিদেশ যাওয়ার জন্য। কাজেই টাকা কোন সমস্যা না। বিদেশ যাবেন? টাকা লাগবে? দিবে গরিবের বন্ধু।