নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোঃ এরশাদ আলী তাঁর সততা, কর্মদক্ষতা ও সাহসিকতার মাধ্যমে দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছেন।
তিনি দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সংগঠনের কাঠামো গত উন্নয়ন, ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণসহ পেশাভিত্তিক ও কারিগরি প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষণার্থী প্রেরণের কার্যক্রম অত্যন্ত দক্ষতা এবং আন্তরিকতার সাথে সম্পন্ন করে আসছেন।

এছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়মিত ও আন্তরিক সহযোগিতা প্রদান করে তিনি পেশাদারিত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
নির্বাচনী দায়িত্ব ও জনকল্যাণমূলক ভূমিকা
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নলডাঙ্গা উপজেলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের বাছাই এবং ভোট কেন্দ্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তায় মোতায়েনের ক্ষেত্রে তিনি শতভাগ সততা ও দক্ষতার সাথে AVMIS ও STDMS-এর মাধ্যমে সমস্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
পাশাপাশি,পবিত্র ঈদুল আজহা ২০২৬ উপলক্ষ্যে পশুর চামড়া সংরক্ষণ এবং কোরবানি পরবর্তী বর্জ্য অপসরণে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের উদ্বুদ্ধ করে সমগ্র উপজেলায় নিজে সক্রিয় থেকে সার্বক্ষণিক কাজ করেছেন,যা অত্র উপজেলার পরিবেশ সংরক্ষণে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
এছাড়া শারদীয় দুর্গোৎসব ২০২৬-এ সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী শতভাগ AVMIS ও STDMS-এর মাধ্যমে দক্ষ সদস্য-সদস্যা বাছাই করে ৫৯টি পূজা মন্ডপে সুশৃঙ্খলভাবে মোতায়েন নিশ্চিত করেন। ইউনিয়ন পরিষদে বরাদ্দকৃত কক্ষ পুনরুদ্ধার করে ইউনিয়নভিত্তিক সাংগঠনিক কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি এবং ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্পের কার্যক্রম সুচারুরূপে সম্পন্নকরণেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
আনসার-ভিডিপি ওর্য়াড দলনেতা জুয়েল হোসেন,সোহেল রানাসহ অনেকে জানান,নলডাঙ্গা উপজেলার আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোঃ এরশাদ আলী সততা, কর্মদক্ষতা ও সাহসিকতার মাধ্যমে দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। তিনি আমাদের গর্ব।
উল্লেখ্য,মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময় থেকে প্রায় ৮ বিঘা পরিমাণের ঐতিহাসিক ঈশ্বরদীর মানিকনগর আনসার প্রশিক্ষণ মাঠটি দীর্ঘকাল অরক্ষিত ছিল। স্থানীয় প্রভাবশালী দখলদারদের কারণে এই অঞ্চলের আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা নানা সংকটের মধ্যে ছিলেন।
২০১৮ সালে ঈশ্বরদী উপজেলায় আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর মোঃ এরশাদ আলী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় এই মাঠটি প্রাচীর দিয়ে সুরক্ষিত করার উদ্যোগ নেন।
উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আলী আহমেদ-এর সাথে পরামর্শ করে এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় তিনি স্থানীয় দখলদারদের নানা হুমকি ও রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে পুরো জায়গাটি প্রাচীর দিয়ে বেষ্টিত করেন। ঠিকাদারদের সার্বিক সহযোগিতা ও ভবন নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখার ফলে গত বছরের ২ ডিসেম্বর থেকে এই মাঠে পুনরায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া মানিকনগর মাঠে কর্মরত আনসার সদস্যদের কাছ থেকে বিশৃঙ্খলাকারীদের ছিনিয়ে নেওয়া ২৫ হাজার টাকা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করে আটকের ব্যবস্থা করে তিনি তার সাহসিকতার পরিচয় দেন।
মোঃ এরশাদ আলী ২০১৪ সালের ৬ মার্চ বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকায় সফল দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৮ সালের ৫ মে তিনি ঈশ্বরদী উপজেলায় বদলি হয়ে আসেন। তৎকালীন বিমানবন্দর থানার আনসার ও ভিডিপি অফিসার মোঃ আতিক হাসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ তাঁর সততা, কর্মনিষ্ঠা ও সাহসিকতার উচ্চ প্রশংসা করেছেন।
ঈশ্বরদী উপজেলায় কর্মরত অবস্থায় তিনি কোভিড-১৯ মহামারী চলাকালীন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে নিয়মিত সহযোগিতা করে আসছেন। স্থানীয় আনসার সদস্য ও বিভিন্ন সংস্থার প্রায় চারশ’ আনসার কর্মীর সাথে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি সর্বদা তাদের কল্যাণে সচেষ্ট থাকেন।
একজন মানবিক, সাহসী, কর্মঠ ও কর্তব্যপরায়ণ কর্মকর্তা হিসেবে মোঃ এরশাদ আলী তাঁর কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে চলেছেন।









