সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
চলন্ত গাড়িতে বসে বই পড়া কিংবা মোবাইল ফোনে স্ক্রল করতে গিয়ে অনেকেরই মাথা ঘোরে, বমি বমি লাগে। কারো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঘাম, মাথাব্যথা এমনকি বমিও হতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই সমস্যাকে বলা হয় মোশন সিকনেস বা গতিজনিত অসুস্থতা। চোখ ও মস্তিষ্কে পৌঁছানো চলাচলসংক্রান্ত সংকেতের মধ্যে অসামঞ্জস্য তৈরি হলে এমনটা হতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে চিকিৎসক চাইথান্য রবি কুমার জানিয়েছেন, চলন্ত গাড়িতে বই পড়া বা ফোন দেখার সময় চোখ একটি স্থির বস্তুর দিকে নিবদ্ধ থাকে। অন্যদিকে, কানের ভেতরের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণকারী অংশ শরীরের নড়াচড়া ও গতির পরিবর্তন শনাক্ত করে।

চোখ ও অন্তঃকর্ণ থেকে পাওয়া এই দুই ধরনের সংকেতের মধ্যে অমিল তৈরি হলে মস্তিষ্কে মোশন সিকনেসের প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
কেন সবার এমন সমস্যা হয় না?
সবার শরীরের প্রতিক্রিয়া এক রকম নয়। বয়স, বংশগত প্রবণতা, মাইগ্রেনের ইতিহাস এবং চলাচলজনিত অস্বস্তির প্রতি সংবেদনশীলতার ওপর মোশন সিকনেসের তীব্রতা নির্ভর করতে পারে। বিশেষ করে দুই থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এ সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
তবে যেকোনো বয়সেই এটি হতে পারে।
গাড়ি বারবার গতি বাড়ালে, হঠাৎ ব্রেক করলে বা দিক পরিবর্তন করলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। পেছনের আসনে বসে রাস্তার সামনের দৃশ্য দেখতে না পাওয়াও অস্বস্তি বাড়াতে পারে। এ ছাড়া বদ্ধ পরিবেশ, তীব্র গন্ধ, উদ্বেগ, ক্লান্তি ও পানিশূন্যতা উপসর্গকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
গাড়িতে বমি ভাব কমানোর উপায়
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, মোশন সিকনেস এড়ানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো চলন্ত গাড়িতে বই পড়া বা ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকা এড়িয়ে চলা।
এর পরিবর্তে বাইরের দৃশ্য বা দিগন্তের দিকে তাকালে চোখ ও অন্তঃকর্ণ থেকে পাওয়া সংকেতের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে মস্তিষ্কের সুবিধা হতে পারে।
এ ছাড়া কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে পারেন—
সম্ভব হলে সামনের যাত্রীর আসনে বসুন, যাতে বাইরের দৃশ্য সহজে দেখা যায়।
মাথা যথাসম্ভব স্থির রাখুন এবং বারবার নিচের দিকে তাকানো এড়িয়ে চলুন।
গাড়ির ভেতরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন।
দীর্ঘ যাত্রায় নিরাপদ স্থানে বিরতি নিন।
পানিশূন্যতা এড়িয়ে চলুন এবং যাত্রার আগে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।
যাঁদের নিয়মিত তীব্র সমস্যা হয়, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ নিতে পারেন। তবে মোশন সিকনেসের কিছু ওষুধে ঘুম ঘুম ভাব হতে পারে এবং সেগুলো সবার জন্য উপযুক্ত নয়। তাই নিজে থেকে ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
চলন্ত গাড়িতে বই পড়া বা ফোন দেখার কারণে মোশন সিকনেস সাধারণত গুরুতর সমস্যা নয়। তবে গাড়িতে না থাকলেও যদি বারবার মাথা ঘোরে বা বমি বমি ভাব হয়, যাত্রা শেষ হওয়ার পরও উপসর্গ থেকে যায় কিংবা এর সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, শ্রবণশক্তির পরিবর্তন, হাঁটতে অসুবিধা বা অন্য কোনো স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সুতরাং, গাড়িতে যাত্রার সময় বই পড়া বা ফোন দেখার অভ্যাস থাকলে শরীরের প্রতিক্রিয়ার দিকে খেয়াল রাখুন। প্রয়োজন হলে স্ক্রিন থেকে বিরতি নিন এবং বাইরের স্থির দৃশ্যের দিকে তাকান। এতে অনেকের মোশন সিকনেসের অস্বস্তি কমতে পারে।









