সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
ইরান হুমকির বিরুদ্ধে একটি ‘শক্ত প্রতিরক্ষাবলয়’ তৈরি করেছে বলে দাবি করেছেন ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান আহমাদ ভাহিদি। তিনি বলেছেন, দেশের প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক সক্ষমতা বাড়ানোর কৌশল চালিয়ে যাওয়াই ইরানের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত ও কার্যকর পথ।
ইরানের জাতীয় প্রতিরক্ষাশিল্প দিবস উপলক্ষে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধানকে দেওয়া এক বার্তায় ভাহিদি এসব কথা বলেন। আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ভাহিদি বলেন, ইরান যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন ধরনের সমন্বিত ও সামরিক আগ্রাসনের মুখোমুখি হচ্ছে। এসব হুমকি মোকাবেলায় দেশটি শত্রু ও ক্ষতিকর উদ্দেশ্য পোষণকারীদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তৈরি করেছে।

তিনি ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশলেরও প্রশংসা করেন। ভাহিদির দাবি, কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরানের প্রতিরক্ষাশিল্প দেশটির প্রতিরক্ষা, আক্রমণাত্মক সক্ষমতা ও প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই ভাহিদির এই বক্তব্য এলো। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে তার ভাষায় ‘এখন পর্যন্ত নেওয়া সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দেন।
ট্রাম্প বলেন, এই অভিযানের লক্ষ্য হবে ইরানের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাত। এর মধ্যে রয়েছে তেল পাচারকারী নেটওয়ার্ক, অর্থ স্থানান্তর ব্যবস্থা, মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, জাহাজ নিবন্ধন এবং বিভিন্ন নামে পরিচালিত ভুয়া প্রতিষ্ঠান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তেল পাচার, অর্থ বিনিময়, নগদ অর্থ স্থানান্তর, মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, জাহাজ নিবন্ধন ও ভুয়া প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
এই অভিযানকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানকে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের হুমকি মোকাবেলা ও দেশটিকে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের সব মিত্রকে পাশে দাঁড়াতে হবে। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপে ইরানের সামরিক অবকাঠামো দুর্বল হয়েছে। তিনি আবারও বলেন, তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। ৭৭ ডব্লিউএবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং শিগগিরই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেবে। তিনি আরো দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশটির নেতৃত্বও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের কৌশলকে ব্যর্থ বলে দাবি করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, গত ১৪ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন নামে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগ করে আসছে। তার দাবি, এসব কোনো উদ্যোগই সফল হয়নি। নতুন করে ঘোষিত ‘সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান’ও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে। আরাগচি বলেন, ইরান আগেও একই ধরনের চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়েছে। তার ভাষায়, কৌশল একই, শুধু চাপ প্রয়োগকারীদের নাম আলাদা। এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মাদ বাঘেইর গালিবাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা পর্যন্ত তেহরান হরমুজ প্রণালি আবার খুলবে না। ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং তেল খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা।









