রাজশাহী

চীনে বিমান ও হেলিকপ্টার নির্মাণ প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করলেন ৭ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

নিউজ ডেস্ক২৮ জুন ২০২৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশের জন্য একটি গৌরবের অর্জন। প্রথমবারের মতো চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিমান ও হেলিকপ্টার নির্মাণ প্রযুক্তি (Aircraft Manufacturing Technology) বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে দক্ষতা অর্জন করেছেন সাতজন বাংলাদেশি মেধাবী শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিনের অধ্যয়ন ও গবেষণা শেষে সম্প্রতি তাদের সমাবর্তন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী আধুনিক বিমান শিল্পে দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে পরিচালিত এ শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে সফলভাবে স্নাতক সম্পন্ন করেন বাংলাদেশের সাতজন শিক্ষার্থী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের সুযোগ ভবিষ্যতে দেশের বিমান ও এভিয়েশন শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

চীনের তিয়ানজিন চীন-জার্মান ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেসে অনুষ্ঠিত সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ঝাং ড্যান-ইয়ান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্টি কমিটির সচিব ঝাং ইয়ংওয়াং, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, গবেষক, অভিভাবক এবং দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আধুনিক বিশ্বে বিমান ও হেলিকপ্টার নির্মাণ প্রযুক্তি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এই প্রযুক্তিকে আরও সমৃদ্ধ করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিকল্প নেই। সে লক্ষ্যেই চীন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিগত শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ দিচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ঝাং ড্যান-ইয়ান বলেন, শুধু চীনের জন্য নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে আধুনিক বিমান ও হেলিকপ্টার নির্মাণ শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে চায় তাদের বিশ্ববিদ্যালয়। এজন্য বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের দক্ষ প্রকৌশলী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্টি কমিটির সচিব ঝাং ইয়ংওয়াং বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ গড়তে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা নিজ নিজ দেশে ফিরে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে শিল্প ও প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস।

বিমান ও হেলিকপ্টার নির্মাণ প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জনকারী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সাকিবুল ইসলাম সিয়াম বলেন, “এটি শুধু আমাদের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বাংলাদেশের জন্যও একটি বড় অর্জন। আমরা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেছি। দেশে ফিরে এই জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশের জন্য কাজ করতে চাই। সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যদি আমাদের দক্ষতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ দেয়, তাহলে বাংলাদেশও একদিন বিমান প্রযুক্তিতে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও বিমান ও হেলিকপ্টার নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং গবেষণার জন্য আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠুক। আমাদের মতো আরও অনেক শিক্ষার্থী যেন এ ধরনের উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়, সেটিই প্রত্যাশা।”

জানা গেছে, সমাবর্তনে অংশ নেওয়া সাতজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আগামী ৮ জুলাই দেশে ফিরবেন। দেশে ফিরে তারা বিমান প্রযুক্তি, গবেষণা, প্রকৌশল শিক্ষা এবং শিল্প খাতে নিজেদের অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমান ও হেলিকপ্টার নির্মাণ প্রযুক্তিতে দক্ষ বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের সংখ্যা এখনও খুবই সীমিত। এমন বাস্তবতায় সাতজন শিক্ষার্থীর এই অর্জন দেশের এভিয়েশন, এরোস্পেস ও উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। ভবিষ্যতে সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগে তাদের দক্ষতা কাজে লাগানো গেলে দেশের প্রযুক্তি খাত আরও সমৃদ্ধ হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের সক্ষমতা নতুনভাবে পরিচিতি লাভ করবে।