সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
দেশজুড়ে চলমান তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। কয়েক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টির দেখা না মেলায় এবং তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম গরম অনুভূত হচ্ছে।
প্রখর রোদ ও গরম বাতাসে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক, রিকশাচালক ও পথচারীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।
দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা দেখা যাচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।

হাসপাতালগুলোতে হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা ও গরমজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসকরা পর্যাপ্ত পানি পান, ছাতা ব্যবহার এবং প্রয়োজন ছাড়া রোদে চলাফেরা না করার পরামর্শ দিয়েছেন।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা উচ্চমান পর্যবেক্ষক এনামুল হক রুবেল বলেন, ‘গত ১ জুন থেকে বরিশাল বিভাগে মৃদু তাপপ্রবাহ চলছে। আজ বরিশালের তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এই মৌসুমে উপকূলীয় জনপদের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
’
তিনি আরো বলেন, ‘আগামী কাল শুক্রবার থেকে বরিশালে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে দাবদাহের প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতেও। মাঠের ফসল পানির অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায় সেচের চাহিদা বেড়ে গেছে। গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগিও তীব্র গরমে কষ্ট পাচ্ছে।
খামারিরা প্রাণিসম্পদ রক্ষায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।’
বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় গত দুই দিন ধরে তীব্র লোডশেডিংয়ের দেখা দিচ্ছে। এতে জনভোগান্তি আরো বেড়েছে। শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষদের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশে তাপপ্রবাহের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অচিরেই উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হলে পরিস্থিতি আরো কঠিন হতে পারে। তবে কিছু এলাকায় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে তীব্র দাবদাহ থেকে মানুষকে সুরক্ষা দিতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সচেতন নাগরিক বেতাগী উপজেলা বসন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি কামাল হোসেন খান বলেন, ‘সাধারণ মানুষও দ্রুত বৃষ্টির প্রত্যাশা করছেন।’









