ধর্ম

সন্তান লাভে জাকারিয়া (আ.)-এর মিনতি

নিউজ ডেস্ক২১ মে ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

হান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

وَ زَكَرِیَّاۤ اِذۡ نَادٰی رَبَّهٗ رَبِّ لَا تَذَرۡنِیۡ فَرۡدًا وَّ اَنۡتَ خَیۡرُ الۡوٰرِثِیۡنَ

সরল অনুবাদ :
‘আর তুমি জাকারিয়ার কথা স্বরণ কর, যখন সে তার রবকে ডেকে বলেছিল, হে আমার রব! আমাকে একা (নিঃসন্তান) রেখে দিবেন না, আর আপনি তো শ্রেষ্ঠ ওয়ারিশ।’ (সুরা : আম্বিয়া, আয়াত : ৮৯)

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা :
হযরত ইমরান (আ.) ছিলেন বায়তুল মুকাদ্দাসের ইমাম।

তাঁর স্ত্রীর নাম ছিল হান্না। তার কোনো ছেলে-মেয়ে ছিল না। তাই তিনি মানত করেছিলেন, তার কোন সন্তান হলে তাকে বায়তুল মুকাদ্দাসের খেদমত করার জন্য উৎসর্গ করবেন। তখন মারইয়াম (আ.)-এর জন্ম হয়, কিন্তু তার জন্মের আগেই তার পিতার ইন্তিকাল হয়ে যায়।

আর জাকারিয়া (আ.) ছিলেন হান্নার ভগ্নিপতি এবং মারইয়ামের খালু। মারইয়াম (আ.)-এর তত্ত্বাবধান করার অধিকার কে পাবে তার মীমাংসার্থে যখন লটারি করা হয়, তখন সে লটারিতে জাকারিয়া (আ.)-এর নাম উঠে। ফলে তিনি মারইয়াম (আ.)-এর দায়িত্ব লাভ করেন।
আর এদিকে জাকারিয়া (আ.) ছিলেন নিঃসন্তান।

তিনি লক্ষ্য করে দেখলেন, আল্লাহ তাআলার কুদরতে মারইয়াম (আ.)-এর নিকট অসময়ের ফল আসত। জাকারিয়া (আ.) যখন এটা দেখলেন তখন তাঁর খেয়াল হলো যে, যেই আল্লাহ মারইয়ামকে অসময়ে ফল দিয়ে থাকেন, তিনি আমাকে এ বৃদ্ধ বয়সে সন্তানও দান করতে পারেন। এ কথা খেয়াল হতেই তিনি আয়াতে বর্ণিত এই দোয়াটি করেন। আল্লাহ তাআলাও তাঁর দোয়া কবুল করেন এবং তাঁকে নবী ইয়াহইয়া (আ.)-এর মতো মহান পুত্র সন্তান দান করেন। (তাফসিরে তাওজিহুল কোরআন, তাফসিরে মাআরিফুল কোরআন)
শিক্ষা ও বিধান
১. দোয়া হলো মুমিনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

জাকারিয়া (আ.) বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হয়েছিলেন, তাঁর স্ত্রীও সন্তান জন্মদানে অক্ষম ছিলেন। তবুও তিনি হতাশ হননি; বরং আল্লাহর কাছেই হাত তুলেছিলেন। এতে বোঝা যায়—যে কাজ মানুষের দৃষ্টিতে অসম্ভব, আল্লাহর কাছে তা অত্যন্ত সহজ।
২. কখনো আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। বাহ্যিক সব কারণ শেষ হয়ে গেলেও আল্লাহর কুদরত শেষ হয় না। তাই জীবনের কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে হতাশ না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে।

৩. নেক সন্তান আল্লাহর বড় নিয়ামত। জাকারিয়া (আ.) শুধু সন্তান চাননি; তিনি এমন উত্তরসূরি চেয়েছিলেন, যে দ্বীনের কাজ চালিয়ে যাবে। তাই নেক ও দ্বীনদার সন্তান কামনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৪. বিনয় ও নম্রতার সঙ্গে দোয়া করা উচিত। কেননা দোয়ার সময় বিনয়, অসহায়ত্ব ও আন্তরিকতা দেখেই আল্লাহ বান্দার দোয়া কবুল করেন।

৫. সন্তান না থাকাও আল্লাহর পরীক্ষা হতে পারে। তাই নিঃসন্তান হওয়া কোনো অভিশাপ নয়; বরং বান্দা তখন ধৈর্য ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারে।